Author Picture

ইয়ানিক সিনার: টেনিসে নতুন প্রজন্ম

মেজবাহ উদদীন

সাম্রাজ্যের বিস্তার ও প্রতিপত্তি, বদলে যাওয়া দর্শকের মনন, বিনোদনের সংজ্ঞা, আর একাকীত্বের ভিতর কিছু মানুষ এখনও কোনো এক অজানা বেদনার সন্তান। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী ইয়ানিক সিনারের নামের পাশে যখন রেকর্ড শোভা পাচ্ছে, তখন দানিল মেদভেদেভকে পুড়তে হচ্ছে এক নিদারুণ যন্ত্রণায়। এই নিয়ে তিনবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল খেলে প্রতিবারই হারলেন মেদভেদেভ। আরেকটি বিব্রতকর নজিরও স্থাপন করলেন তিনি। টেনিসের ওপেন যুগে দুই সেট এগিয়ে থেকে একাধিক গ্র্যান্ডস্ল্যাম ফাইনালে হার মানা প্রথম খেলোয়াড় তিনি। তবুও নায়কনির্ভর চিত্রনাট্যের যুগে সিনারকে নিয়েই চলছে আলোচনা।

টেনিসের ‘বিগ থ্রি’র বাইরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ এককটা সর্বশেষ জিতেছিলেন স্ট্যান ভাভরিঙ্কা। সেটিও ১০ বছর আগের ঘটনা। এরপর ফেদেরার-জোকোভিচ-নাদালরা টানা ৯টি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ভাগাভাগি করার পর এল নতুন নাম—ইয়ানিক সিনার। বিশ্বাস করুন আর না করুন, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ে সিনারের চেয়ে যোগ্য কেউ ছিল না। প্রথম রাউন্ডে সিনার খেলেছিলেন বিশ্বের ৫৯ নম্বর খেলোয়ারের সাথে। সেই জয় আমাদের খুব বেশি অবাক না করলেও কিছুটা বিস্মিত করেছে সত্যি। তারপরও সিনারের পরের রাউন্ডে যাওয়াটা নিশ্চিত ছিল না।

কিন্তু সবাইকে সত্যিকারের অবাক করে দিয়ে মেলবোর্ন পার্কে হারিয়ে দিয়েছেন নোভাক জোকোভিচ এবং দানিল মেদভেদেভকে। বিশ্ব ক্রমতালিকায় এক এবং তিন নম্বর তারকাকে হারিয়ে জীবনে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইয়ানিক সিনার মোটেও বিস্মিত হচ্ছেন না। বরং ইটালির ২২ বছরের তরুণ সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, টেনিসের অগ্রগতির স্বার্থেই এই পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। ১৬ আগস্ট ২০০১ সালে উত্তর ইতালির দক্ষিণ টাইরল অঞ্চলের ইনিচেনে জোহান এবং সিগলিন্ড সিনারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন সিনার । তার মাতৃভাষা জার্মান। তিনি বড় হয়েছেন সেক্সটেন শহরে। তার বাবা এবং মা একটি স্কি লজে শেফ এবং ওয়েট্রেস হিসাবে কাজ করতেন।

অনেক বিখ্যাত টেনিস খেলোয়ারদের মধ্যে একটা সাধারণ ব্যাপার হলো— তাঁরা প্রায় সবাই অল্প বয়স থেকেই টেনিস শুরু করেছেন। উদাহরণস্বরূপ সেরেনা উইলিয়ামস এবং রজার ফেদেরারের কথা বলা যায়। তারা উভয়ই মাত্র তিন বছর বয়স থেকে টেনিস খেলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ইতালিতে জন্ম নেওয়া সিনার ছোটবেলায় স্কিইং, ফুটবল এবং টেনিসে সক্রিয় ছিলেন। ১৩ বছরের আগ পর্যন্ত টেনিস ছিল তার কাছে শুধুই শখের জায়গা। তার মূল ফোকাস ছিল স্কিইং। মাত্র আট বছর বয়সে স্কিইং-এ একটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার কৃতিত্ব দেখান। সিনার ১৩ বছর বয়সে টেনিসের দিকে মনোযোগ দেন এবং প্রবীণ কোচ রিকার্ডো পিয়াত্তির সাথে প্রশিক্ষণের জন্য ইতালীয় রিভেরার বোর্দিঘেরায় চলে যান।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী ইয়ানিক সিনারের নামের পাশে যখন রেকর্ড শোভা পাচ্ছে, তখন দানিল মেদভেদেভকে পুড়তে হচ্ছে এক নিদারুণ যন্ত্রণায়। এই নিয়ে তিনবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল খেলে প্রতিবারই হারলেন মেদভেদেভ

সিনারের মত কম বয়সীদের জন্য যেটা স্বভাবিক ছিল— ননপ্রফেশনাল টুর্নামেন্ট খেলতো এবং সমবয়সীদের সাথে খেলতেই কমফোর্ট ফিল করতো। সেখানে সিনারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় দিক ছিল তার চেয়ে বড়দের সাথে খেলা চালিয়ে যাওয়া। বড়দের সাথে খেলতে গিয়ে সিনার বারবার পরাজিত হতে লাগলেন; কিন্তু সেটা তাকে ডিমোরালাইজড করেনি বরং সিনার নিজেকে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করেছিলেন। জুনিয়র হিসেবে সীমিত সাফল্য সত্ত্বেও, সিনার ১৬ বছর বয়সে পেশাদার ইভেন্টে খেলতে শুরু করেন এবং ১৭ বছর বয়সে একাধিক এটিপি চ্যালেঞ্জার ট্যুর শিরোপা জেতা অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন হয়ে ওঠেন।

২০১৮ সালে পেশাদার ইভেন্টে অভিষেক হওয়ার পর থেকে সিনার ২০২৪ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং ২০২৩ কানাডিয়ান ওপেনে একটি মাস্টার্স ১০০০ সহ ১১টি এটিপি ট্যুর একক শিরোপা জিতেছেন। তিনি ২ অক্টোবর ২০২৩-এ ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ এটিপি একক র‍্যাঙ্কিং-৪ পৌঁছেছেন, যা তাকে আদ্রিয়ানো পানাত্তার সাথে যৌথভাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিং-এর ইতালীয় পুরুষ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।

সমস্ত ভণিতা ছেড়ে ফেলে, সমস্ত আয়োজিত বিনোদন আর ক্লান্তির শেষে যে কিনা একজন সাধারণ মানুষ হয়ে চলে যেতে পারে জীবনের কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে। সেই সিনারের ক্যারিয়ারে ২০২৩ এর শেষ কয়েক মাসের উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো— জুলাইতে সে উম্বলডনে জীবনের প্রথম কোনো গ্রান্ড স্লামের সেমিফাইনালে উঠেছিল। আগষ্টে প্রথম এটিপি মার্স্টাস ১০০০ অর্জন করেছিল টরন্টোতে। অক্টোবরে বিশ্বের তিন নম্বর খেলোয়ার দানিল মেদভেদেভকে হারিয়ে চায়না ওপেন জয় করে। এবং সেই মাসেই আবরও দানিল মেদভেদেভকে হারিয়ে ভিয়েনা ওপেন জয় করে। ২০২১ সালে মিয়ামি ওপেনে রানার-আপ হয়ে এই শতাব্দীতে জন্মগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০-এ প্রবেশ করে। ২০২৩ সালে ৪৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো  ইতালির ডেভিস কাপ শিরোপা জয়ে দেয় নেতৃত্ব।

তথ্য, প্রযুক্তি, আকাশছোঁয়া জীবন, সাফল্যের ব্যর্থতা, সম্পর্কের হাঁসফাঁস— তথাকথিত আধুনিক জীবনের সমস্ত ক্লেদ যখন একজন মানুষকে পেড়ে ফেলে জীবনেরই কোনও চাতালে, তখন সে একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানুষ হয়ে উঠতে চায়। বারবার গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও শিরোপা জয়ের স্বাদ পাচ্ছিলেন না ইয়ানিক সিনার। অবশেষে ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর ফাইনাল খেলতে নেমেই অসাধ্য সাধন করেছেন এই টেনিস তরকা। ২০২৪ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে বিশ্বের নং ১ নোভাক জোকোভিচকে পরাজিত করে তার প্রথম বড় ফাইনালে পৌঁছান, এবং থামিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে জোকোভিচের অপ্রতিরোধ্য রেকর্ড।

খেলার বিশ্বে কখনও কখনও সবচেয়ে অসাধারণ প্রতিভা একটি অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে উঠে আসে। সেটাই যেন প্রমান করলেন সিনার। সেই সাথে টেনিস বিশ্বের রাডারের অভিমুখ ঘুরে গেল তার দিকে

রড লেভার অ্যারেনাতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পাঁচ সেটের ম্যারাথন লড়াই শেষে ইতালির সিনার জিতেছেন ৩-৬, ৩-৬, ৬-৪, ৬-৪, ৬-৩ গেমে। ৩ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট লড়াই শেষে সিনারের এটি ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম একক। শুরুর দুই সেট ৩-৬, ৩-৬ গেমে হেরে গিয়েছিলেন। মূলত চতুর্থ বাছাই সিনার রাশিয়ান তারকার গতির সঙ্গে পেরে উঠছিলেন না। পরে সময়ের সঙ্গে ছন্দ খুঁজে পেলে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে শুরু করেন তিনি। ছেলেদের গ্র্যান্ড স্লামে ইতালিয়ানদের ৪৮ বছরের শিরোপা-খরাও ঘুচল তাঁর এই জয়ে। ইতিহাস গড়লেন ইয়ানিক সিনার, প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতলেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ টেনিস তারকা। টেনিসবিশ্বে বহুচর্চিত ‘বিগ থ্রি’ যুগ কি তবে এ বার শেষ হওয়ার মুখে? সিনার তা আদৌ মনে করেন না। ইটালির তারকা মনে করেন, তিন মহাতারকা টেনিসকে যা দিয়ে গিয়েছেন এবং দিয়ে চলেছেন সেটাই নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের উন্নত করে তোলার সেরা হাতিয়ার। সিনার জানিয়েছেন, জোকোভিচের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে তিনি প্রত্যেক মুহূর্তে অনুভব করেছেন এমন এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলছেন, যিনি ভিন গ্রহ থেকে এসেছেন।

সিনার একজন আক্রমনাত্মক বেসলাইনার এবং এটিপি সফরে সবচেয়ে কঠিন হিটারদের একজন। সিনারের গ্রাউন্ডস্ট্রোকের শক্তি হল তার দুই-হাত-ব্যাকহ্যান্ড, যা সে সফরে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি টপস্পিন দিয়ে হিট করে, শটে প্রতি মিনিটে গড়ে ১৮৫৮ রেভল্যুশনের সাথে পঞ্চম-সেরা গড় গতি ১১১.২ কিমি/ঘন্টা। তার ফোরহ্যান্ডও একটি শক্তি, কারণ তার একটি সংক্ষিপ্ত কমপ্যাক্ট টেকব্যাক রয়েছে, যার অর্থ তাকে খুব কমই শট নিতে হয়। তিনি একটি আধুনিক, সেমি-ওয়েস্টার্ন গ্রিপ ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে টপস্পিন করেন, যেটা তার নেট ক্লিয়ারেন্স বাড়ায় এবং ত্রুটির সম্ভাবনা হ্রাস করে। সিনারের ক্ষেত্রে যেটা লক্ষণীয়-দ্বিতীয় সার্ভ তার প্রথম সার্ভের তুলনায় অনেক ভালো, যেটা আমরা সাধারনত দেখি না। আর কোর্টে তার শান্ত আচরণ এবং চলাফেরার জন্য তাকে রজার ফেদেরারের সাথ তুলনা করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পরে তাঁকে নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা বাড়তে শুরু করেছে। যদিও সিনার আগের মতো নির্বিকার থাকতেই পছন্দ করছেন। বলেছেন, ‘‘সবে তো একটা গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলাম। এখনই কী ভাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথাবার্তা বলতে পারি। আমি তা পছন্দও করি না। বরং এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই।’’

টেনিস বিশ্ব বছরের পর বছর শাসন করেছেন সেরেনা উইলিয়ামস, রজার ফেদেরার, আন্দ্রে আগাসি, রাফায়েল নাদাল, অ্যান্ডি মারি, মার্টিনা হিঙ্গিস, মারিয়া শারাপোভাদের মতো মহান খেলোয়াররা। সেই মহানদের পতাকা বহন করে চলা নোভাক জোকোভিচের শেষের সময় বুঝি এসে গেলো! ২০২১ ইউএস ওপেনে জোকোভিচ হেরেছিলেন মেদভেদেভের কাছে, ২০২৩ উইম্বলডনে হেরেছিলেন কারলোস আলকারেজের কাছে, এবং সিনারের কাছে হারলেন ২০২৪ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে।  নতুন প্রজন্ম যেন বুঝে নিতে চাইছে সেই রাজ্যের অধিকার। নতুন সেই প্রজন্মের একজন ইয়ানিক সিনার। মাত্র কয়েক বছর আগেও সে ছিল অক্ষ্যাত। কিন্তু, এখন সে-ই বিশ্বের টপ প্লেয়ার। কারও মতে সে ভয়হীন, সম্ভাবনাময়, মেশিন, সুপার হিউম্যান এ্রবং মজার। খেলার বিশ্বে কখনও কখনও সবচেয়ে অসাধারণ প্রতিভা একটি অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে উঠে আসে। সেটাই যেন প্রমান করলেন সিনার। সেই সাথে টেনিস বিশ্বের রাডারের অভিমুখ ঘুরে গেল তার দিকে।

আরো পড়তে পারেন

বাংলাদেশে আবারো শুরু হচ্ছে বার্সা একাডেমির ট্রেনিং ক্যাম্প

বাঙালির স্বপ্নিল বাসনা আর স্বপ্নের সীমাবদ্ধতা যেখানে ধাক্কা খায়, যে-দারিদ্র্য নায়কনির্ভর চিত্রনাট্য, স্পেক্টাকলের বিনোদন বহু কষ্টে পাঁজরে গোপন করে রাখে। ফুটবল সেখানে যেনো এক মুক্ত বাতাস হয়ে জড়িয়ে থাকে পুরোটা পথ। তবু বাঙালির ফুটবলার হওয়ার রাস্তায় জেগে থাকে অগণিত লাল বাতি। এবার ফুটবলার হওয়ার সেই বাধা দূর করতে ঢাকায় আয়োজিত হতে যাচ্ছে বার্সা একাডেমির নির্ধারিত….

বিশ্বকাপের পনেরো

‘দ্য আম্পায়ার…ইজ লাইক দ্য গিজার ইন দ্য বাথরুম; উই ক্যাননট ডু উইদাউট ইট, ইয়েট উই নোটিস ইট ওনলি হোয়েন ইট ইজ আউট অফ অর্ডার।’ ক্রিকেট-সাহিত্যিক স্যার নেভিল কার্ডাসের এ পঙক্তির বাংলা তরজমা করলে দাড়ায়—  আম্পায়ার সেই নিঃস্ব প্রজাতি, ক্রিকেটারের দৈনন্দিন জীবনে যা একান্ত কাম্য। প্রয়োজনীয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও চরম অবহেলিত। স্বল্পেই বর্জনীয়! অনেকটা বাথরুমের গিজারের….

লেভারকুজেন: বুন্দেসলিগার নতুন ত্রাস

তারপর কত দিন কেটে গেছে। দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধ পেরিয়ে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের উত্তাপ নিয়ে জেগে সময় পারের বাসিন্দারা। তবু গোটা চার-পাঁচ প্রজন্মের প্রেমিকা হয়ে সমর্থকদের একই স্বপ্নের বৃত্তে বেঁধে রাখতে পেরেছে রাইন নদীর তীরের ক্লাব বায়ার লেভারকুজেন। যার জন্য মানুষ তীর্থের কাক হয়ে বসে থাকে। এমন দিন কদাচিৎ আসে কিংবা আসেই না। আসবে নিশ্চয়ই? বেশির ভাগ….

error: Content is protected !!