Author Picture

বাঙালি মনীষীদের চা প্রীতি-অপ্রীতি

হোসাইন মোহাম্মদ জাকি

প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতবর্ষে চায়ের বিপণন ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। ক্রেতাদের চামুখী করার জন্য কোম্পানিগুলোর নানামুখী তৎপরতা ছিল উল্লেখ করার মতো। তারা এ কাজে বাহারি বিজ্ঞাপন ছাড়াও নানাবিধ বিনিয়োগের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মানুষদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করত। তবে শুরুতে চরম প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাদের। বৈরী এ পরিবেশ তৈরিতে সর্বতো সহযোগিতা ছিল যার, তিনি হলেন প্রখ্যাত রসায়নবিদ ও দার্শনিক প্রফুল্লচন্দ্র রায়। স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায় চা পানের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার প্রয়াস পান। সেকালের চায়ের বিপণন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন-‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষার্থীদিগকে বিনা মূল্যে চা পান করাইবার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে তাঁবু ফেলা হইতে লাগিল। একজন ‘টি কমিশনার’ এতদর্থে নিযুক্ত হইলেন। ‘টি কমিশনার’ সুলভ মূল্য নহে, একবারে বিনা মূল্যে জনসাধারণকে ‘চা-খোর’ করিতে লাগিলেন। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ১৩৭টি সহরে চা-খানা স্থাপিত হইয়াছিল। বৎসরের শেষে উহা ৬৮৩টিতে পরিণত হয়।’ মাসিক বসুমতী পত্রিকার ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের ভাদ্র ও কার্তিক সংখ্যায় তিনি ‘চা-পান ও দেশের সর্ব্বনাশ’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ লিখেন। ইতঃপূর্বে একই পত্রিকায় তিনি লিখেন, ‘চা-পান না বিষ-পান’ শীর্ষক প্রবন্ধ। তার মতে, চা মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন করে এবং ক্ষুধা নষ্ট করে। নিজের ধারণার সপক্ষে তিনি একটি ব্যঙ্গচিত্রও আঁকেন। এ ব্যঙ্গচিত্রে দেখা যায়, একজন ‘পাক্কা চা-খোর’ এর করুণ চিত্র। এ পাক্কা চা-খোরের টেবিলে একটি বড় চায়ের পাত্র আর তার হাতে এক কাপ চা। তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, পায়ে ছিন্ন জুতা, ছেঁড়াখোঁড়া পোশাক, আর চারদিকে ছড়ানো অসংখ্য সিগারেটের খোসা। সব মিলিয়ে চায়ের নেশায় অকেজো এক মানুষের প্রতিচ্ছবি। ‘চা-পান ও দেশের সর্ব্বনাশ’ প্রবন্ধের উপসংহারে তিনি লিখেছেন- ‘চা পান করিলে জাতিনাশ হইবে, এমন কথা আমি বলি না। পরিমিত চা পানে দেহের স্বাস্থ্য ভঙ্গ হইবে, এমন কথাও আমি বলিতেছি না। আমার বলিবার কথা এই যে, যদি বাঙালি সংযম ও নিয়মের অনুজ্ঞা মানিয়া প্রচুর সারবান ও পুষ্টিকর খাদ্যের সহিত সামান্য একটু চা দিবাভাগে একবার মাত্র পান করে, তাহা হইলে বিশেষ ক্ষতি হয় না। কিন্তু বাঙালি অপরিমিত চা পান করিতে অভ্যস্ত হইয়া আপনার সর্ব্বনাশ সাধন করিতেছে, ইহাই দেখাইয়া আমি সময় থাকিতে বাঙালীকে সতর্ক হইতে বলিতেছি।’ চা চাষের ফলে বাঙালি অর্থনীতি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব কথাও তিনি তার লেখায় তুলে ধরেন। ফলে বাঙালিদের অনেকেই তখন চা-পানের বিরোধিতা করে। ব্রাহ্মসমাজের অনুগামীরা প্রায় সবাই চা পানের আসক্তির ঘোরবিরোধী ছিলেন।

চা-পান নিয়ে সেকালের কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বিস্তর। চা নিয়ে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের রয়েছে এক দীর্ঘ চিঠি; যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘গুবার-এ-খাতির’-এ। তার লেখা চিঠিগুলোর সংকলন এ পুস্তক। চা-সংক্রান্ত চিঠিটির একটা অংশে তিনি লিখেছেন- ‘চায়ের সুরুচি, উপাদেয়তা এবং মিষ্টত্বের সঙ্গে তামাকের উগ্র কটু স্বাদের সংমিশ্রণে আমি এক রকম জটিল উত্তেজক প্রস্তুত করেছি।…আপনারা বলতে পারেন, এমনিতেই তো চা খাওয়া খুব একটা সু-অভ্যাস নয়, তার সঙ্গে আরও একটি আপত্তিকর বস্তু যোগ করার দরকারটা কী? চা ও সিগারেটের এ জটিল মিশ্রণটি যেন শয়তানের সঙ্গে শয়তানের মিলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।…’ চিঠির অপর একটা অংশে মৌলানা আজাদ জানান যে, দৃঢ় মনোবলের কারণে সিগারেটের বদভ্যাসটা তিনি শিগ্গির ছাড়তে পেরেছিলেন। কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিকের অবস্থানও ছিল চা পানের বিপরীতে। ১ আশ্বিন, ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে শ্রীগিরিজাকুমার বসু ও শ্রীসুনির্মল বসুর সম্পাদনায় ‘ছোটদের চয়নিকা’ শীর্ষক গ্রন্থে ‘রামসুক তেওয়ারী’ নামক তার লেখা ছড়া প্রকাশ পেয়েছিল। এটি সেসময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। পালোয়ান রামসুক তেওয়ারি বাংলায় এসেছিলেন ভাগ্য বদলাতে। ভাগ্য বদলাতে না পারলেও শিগ্গির চায়ে আসক্ত হয়ে পড়েন। চায়ের প্রভাবে তিনি বদহজমজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং তার ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে। চা পানের কুফল এবং রামসুকের পরিণতি বর্ণনা করতে গিয়ে কুমুদ রঞ্জন লিখেছেন- ‘অবশেষে অসুখের সংবাদ পাইয়া/দেশ থেকে ধেয়ে এলো দেশোয়ালি ভাইয়া/করে’ দিলে প্রথমেই চা খাওয়া-টা বন্ধ/বে-ভাষায় বলল সে কতো কী যে মন্দ।’ গ্রামের সেই আত্মীয়ের পরামর্শ মেনে রামসুক তার হারানো স্বাস্থ্য ফিরে পেয়েছিলেন, যা টের পাওয়া যায় ছড়ার শেষাংশে: ‘চা ছাড়িয়া রামসুক উঠলো মুটিয়ে,/অর্হরের ডাল খায়, জোয়ারের রুটি হে।/চা খেলেই তাড়া করে, করে নাক কেয়ার-ই,/খাসা আছে, সুখে আছে রামসুক তেওয়ারি।’

বাঙালি মনীষীদের মধ্যে অনেকেই চায়ের ভক্ত হয়ে ওঠেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দীনেশচন্দ্র সেন, প্রমথ চৌধুরী প্রমুখ। তাদের নানা লেখায় ও অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের স্মৃতিকথায় প্রকাশ পেয়েছে চায়ের প্রতি তাদের অনুরাগ

চাপন্থিদের তুলোধুনো, শত আপত্তি এবং বিতর্ক সত্ত্বেও কিন্তু থেমে যায়নি চা পান। নানাবিধ প্রতিকূলতার পরও পরিস্থিতি একটা সময় চা কোম্পানির অনুকূলে আসে। বিজ্ঞাপনের গুণেই হোক আর অন্য যে কোনো কারণেই হোক, বঙ্গদেশে বছর বছর চা-পায়ীর সংখ্যা বেড়েছে। চা হয়ে ওঠে বাঙালির নিত্যসঙ্গী। বাঙালি মনীষীদের মধ্যে অনেকেই চায়ের ভক্ত হয়ে ওঠেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দীনেশচন্দ্র সেন, প্রমথ চৌধুরী প্রমুখ। তাদের নানা লেখায় ও অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের স্মৃতিকথায় প্রকাশ পেয়েছে চায়ের প্রতি তাদের অনুরাগ। সেন্ট্রাল টি বোর্ডের চায়ের বিজ্ঞাপনে কবিগুরুর একাধিক কবিতা ব্যবহার করা হয়েছে। আর তা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বভারতীয় পত্রিকার বেশ কটি সংখ্যায়। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষাভেদে কবিগুরুর নতুন নতুন কবিতা প্রকাশ পেয়েছে। তবে সেখানে টি বোর্ডের স্লোগান ছিল একটাই-‘ঋতুচক্রের বিচিত্র উৎসব-মুহূর্তগুলোকে রঙে রসে মধুর করে তোলে।’ চা পানের বিচিত্র পদ্ধতি ছিল রবীন্দ্রনাথের। তিনি খানিকটা গরম জলে কয়েকটা চা পাতা ফেলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খেয়ে নিতেন। ১৯২৪ সালে চীন ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী ছিলেন দোভাষী নামক একজন নারী। এ বিদেশি বন্ধুর নামে তিনি শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুসীমো চা-চক্র’ মজলিস। ১৯২৮ সালে ‘সুৎসী-মো’র শান্তিনিকেতন দর্শন উপলক্ষ্যে গান রচনা করেন। ‘হায় হায় হায় দিন চলি যায়/চা-স্পৃহ চঞ্চল চাতকদল চলো চলো চলো হে।’ পরবর্তীকালে এ চা চক্রের আমন্ত্রণে আর একটি কবিতায় কবি অতিথিগণকে নিয়ে লেখেন। ‘চা-রস ঘন শ্রাবণ ধারা প্লাবন লোভাতুর/কলাসদনে চাতক ছিল ওরা।’

ঔপন্যাসিক শংকরের লেখা ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’ গ্রন্থ হতে স্বামী বিবেকানন্দের চা প্রেমের খবর পাওয়া যায়। স্বামী সারদানন্দ ছিলেন চায়ের প্রবল ভক্ত। বিবেকানন্দ-ভ্রাতা মহেন্দ্রনাথ একবার সারদানন্দকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি এতো চা খেতে শিখলে কোথা থেকে?’ স্বামী সারদানন্দের উত্তর ছিল: ‘তোমার ভাইয়ের পাল্লায় পড়ে। তোমাদের বাড়িতে যে চায়ের রেওয়াজ ছিল সেইটা বরাহনগর মঠে ঢুকিয়ে দিলে, আর আমাদের চা-খোর করে তুললে। তোমরা হচ্ছে একটা নার্কটিকের ফ্যামিলি।’ ঐতিহাসিক গৌতম ভদ্র স্বামী বিবেকানন্দের চা প্রীতির একটি বর্ণনা দিয়েছেন তার লেখায় : ‘ক্ষমতা ও লোকনিন্দার থোড়াই কেয়ার করতেন বিবেকানন্দ, তাই ১৮৮৬ সালেই ঠাকুরকে [শ্রীরামকৃষ্ণ] পোড়ানোর রাতেই দরমা জ্বালিয়ে কেটলি করে চা খেয়েই তিনি ও তার গুরুভাইরা রাত কাবার করেছেন। দারুণ অভাবেও বরাহনগরের মঠে স্বামীজি চা ছাড়েননি, অন্যদেরও ধরিয়েছেন। জেলা কোর্টে দাঁড়িয়ে হলফ করে চা খাওয়ার পক্ষে সওয়ালও করেছিলেন।’ মহেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি কথাতেও এসেছে এ সংশ্লিষ্ট তথ্য। তিনি লিখেছেন-গুঁড়ো চা গরম জলে দিয়ে একটু কড়া করে নেয়, আর তাই ঢক ঢক করে খায়, দুধ চিনির তো নামই নাই। তাই বলে মাঝে মধ্যে যে চায়ের ভোল বদল হতো না, এমনটাও নয়-যেদিন যেদিন সুরেশবাবু বা মাস্টারমশাই দুধ ও চিনির জোগানদারের ভূমিকা নিতেন, সেদিন সেদিন লালিমা ঘুচিয়ে দুধসহ মিষ্টি চা খাওয়ার সৌভাগ্য হতো বিবেকানন্দসহ গুরুভাইদের। মঠে চা-টা শুরু থেকেই বেশ গুরুত্ব পেয়ে গেল। নেশার তলব থেকে নয়, অর্ধাহারী মঠবাসীদের খিদে মারার মহৌষধ হিসাবে।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় একবার এক জমিদারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে চা খায় কিনা। না বোধক উত্তর আসায় তার মন্তব্য ছিল, ‘কিন্তু তোমাকে তো ভদ্রলোকের মতোই দেখায়’! এরকম কবির দ্বারাই বোধকরি চা পানের স্তুতিগান করে লেখা সম্ভব এভাবে-‘বিভব সম্পদ ধন নাহি চাই/যশ মান চাহি না/(শুধু) বিধি যেন প্রাতে উঠে পাই/ভালো এক পেয়ালা চা-চা-চা-চা।’

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চা পান সম্পর্কে হেমেন্দ্রকুমার রায় লিখেছেন- ‘কেবল কাঁড়ি কাঁড়ি পান নয়, আঠার-বিশ পেয়ালা চা না পেলে সিক্ত হতো না তার কণ্ঠ দেশ!’ ‘ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়’ বইটিতে পল্লীকবি জসীমউদ্দীন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে চা পান করানোর একটি মজার কাহিনি উল্লেখ করেছেন। সেবার ফরিদপুরে বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় সমিতির একটি অধিবেশনে কবি নজরুল এসেছিলেন। কবির সম্মানে জসীমউদ্দীনের উদ্যোগে সেই রাতে গানের জলসা বসানো হয়। সেখানেই এ চা কাহিনির সৃষ্টি। জসীমউদ্দীনের ভাষায়, ‘রাত্রিবেলা এক মুস্কিলে পড়া গেল। চা না পাইয়া কবি অস্থির হইয়া উঠিলেন। এই পাড়াগাঁয়ে চা কোথায় পাইব? নদীর ওপারে গিয়া চা লইয়া আসিব, তাহারও উপায় নাই। রাত্রিকালে কে সাহস করিয়া এত বড় পদ্মা-নদী পাড়ি দিবে? তখন তিন-চার গ্রামে লোক পাঠানো হইল চায়ের অনুসন্ধানে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আলিম মাতব্বরের বাড়ি হইতে কয়েকটা চায়ের পাতা বাহির হইল। চা-পাতা দেখিয়া কবির তখন কী আনন্দ!’ চায়ে মুগ্ধ কবি নজরুল ‘চা-স্তোত্র’ নামে চায়ের স্তবগান রচনা করেছেন। চা নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারীদের প্রতিও কবির স্বভাবসুলভ ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে এখানে-‘চায়ের পিয়াসি পিপাসিত চিত আমরা চাতক-দল/দেবতারা কন সোমরস যারে সে এই গরম জল।/চায়ের প্রসাদে চার্বাক ঋষি বাক-রণে হল পাশ,/চা নাহি পেয়ে চার-পেয়ে জীব চর্বণ করে ঘাস।’

আরেক কবি দ্বিজেন্দ্রলাল ছিলেন চায়ের দারুণ ভক্ত। তার কাছে চা ছিল-কষিত কাঞ্চন কায়া, সর্ব নিদ্রা নিবারণী, নিত্যানন্দদায়িনী।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় একবার এক জমিদারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে চা খায় কিনা। না বোধক উত্তর আসায় তার মন্তব্য ছিল, ‘কিন্তু তোমাকে তো ভদ্রলোকের মতোই দেখায়’! এরকম কবির দ্বারাই বোধকরি চা পানের স্তুতিগান করে লেখা সম্ভব এভাবে-‘বিভব সম্পদ ধন নাহি চাই/যশ মান চাহি না/(শুধু) বিধি যেন প্রাতে উঠে পাই/ভালো এক পেয়ালা চা-চা-চা-চা।’ অন্যত্র লিখলেন, ‘সে আসে ধেয়ে, এনডি ঘোষের মেয়ে,/ধিনিক ধিনিক ধিনিক, চায়ের গন্ধ পেয়ে।’ দীনেশচন্দ্র সেন অধিক পরিমাণ চিনি মিশিয়ে চা পান করতেন। কেউ প্রশ্ন করলে বলতেন, চিনি খাব বলেই তো চা খাই! চায়ের আর এক গুণগ্রাহী প্রমথ চৌধুরী এ সম্পর্কে তার স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে লিখেছেন-‘চা পান করলে নেশা না হোক, চা পানের নেশা হয়।’ একটা দীর্ঘ সময় ধরে চা পান নিয়ে বাঙালি মনীষীদের এই অনুরাগ-বিরাগ চায়ের ইতিহাসকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে নিশ্চয়।

আরো পড়তে পারেন

সূচনা ও বিকাশ পর্ব ( ১৯৪৭-১৯৪৮)

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন সংগঠিত হয় সাতচল্লিশে উপমহাদেশের তদানীন্তন রাজনৈতিক পটভূমিতে নানা প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্য দিয়ে। প্রতিষ্ঠার পনের দিনের মধ্যেই (২৬/২৭ আগস্ট) সিদ্দিক বাজারস্থ লিলি কটেজে প্রথম রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তমদ্দুন মজলিস আত্মপ্রকাশ করে। বিভিন্ন গবেষক ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জিন্নাহ্’র রবক্তব্যের প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা প্রতিবাদ….

ভাষা আন্দোলনের পর্যায় বিশ্লেষণ

ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ আলোচনায় একটি প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান আবশ্যক। কখন থেকে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি উত্থাপিত হয় বা এ সংক্রান্ত চিন্তার উন্মেষ ঘটে। সাংগঠনিকভাবে এ আন্দোলন শুরু হয় ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই। তবে এর মনস্তাত্ত্বিক পর্যায়টি গড়ে ওঠে অনেক পূর্বে। বাঙালির ভাষা অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঠিকতা নিরুপণে….

ভাষা আন্দোলন ও আত্মপরিচয়ের রাজনীতি

বাঙালির আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অবদান অবিস্মরণীয়। এই আন্দোলন শুধু মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলন। যা জাতিসত্তার স্বরূপ নির্ধারণে বাঙালি সংস্কৃতির সীমা নির্ধারণ করে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ইতিহাস বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক কোনো ঘটনা নয় — এর মূল ইতিহাসের গভীরে গ্রোথিত। বাঙালির আত্মপরিচয়ের….

error: Content is protected !!