Author Picture

‘পেশাদার খুনিরা, তোমরা সৈনিক নও।’ এটা ছিল কবিতাটির শেষ লাইন -আহমাদ ফারাজ

কাউসার মাহমুদ

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উর্দু কবি আহমাদ ফারাজ। ১৯৩১ সালের ১৪ জানুয়ারী পাকিস্তানের কোহাতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পুরোদস্তুর কবিতা লেখার সূচনা তাঁর কলেজে থাকতেই। যেগুলো পাঠ করলে দেখা যায়, তিনি তাঁর স্বতন্ত্র নিয়েই আবির্ভূত হয়েছিলেন। আধুনিক উর্দু গযলেও রয়েছে তাঁর অসামান্য প্রভাব। শিক্ষা জীবনে পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্সি ও উর্দু সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। পরে এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধ্যাপক হন ফারাজ। কবিতার মতো ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন দুর্দম্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোষহীন। ৬০-এর দশকে ছাত্র ও শ্রমিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ যে নৃশংসতার মুখোমুখি হয়েছিল তাতে তাঁর হৃদয় আঁতকে উঠেছিল। তাই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে তাদের বর্বরতার কারণে ‘পেশাদার খুনি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এই কবি। সেইসাথে পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনকে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন। যার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল ততকালীন ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার।  মূলত, এসব বিষয় তথা জীবন, সাহিত্য ও রাজনীতি নিয়ে বিবিসির সাংবাদিক আনওয়ার সীন রাঈ তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য সেটি উর্দু থেকে অনুবাদ করেছেন কবি ও অনুবাদক কাউসার মাহমুদ


বর্তমানে ফারাজ সাহেবের লেখালেখিতে মনোনিবেশ কতটুকু?
: বেশি তো আমি কখনোই লিখতাম না। কখনও কখনও লেখার সময় মোট ব্যপ্তিতে দু-চারটি বিষয় একত্রিত হয়ে যায়। কখনও ছয় মাস পর্যন্ত কিছুই লেখা হয় না। মোটকথা, জোর করি না। যেমন, নিজের স্বভাব বা মেজাজের সাথে তেমনি কবিতার সাথেও। তাই আমার লেখার গতি অমনই, যেমন ছিল।

কেন লিখছেন, কখনও ভেবে দেখেছেন কী?
: (চিন্তা করে) আসলে শুরু হয়েছিল এমনি। কিন্ত এখন তো এমন অনুভূত হয় যে, যেমন আপনি জিজ্ঞেস করলেন, নিঃশ্বাস কেন নেন? এখন এ আমার জীবনেরই অংশ হয়ে গেছে। শুরুতে সম্ভবত এই নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা ছিল না। কিন্তু যখন এই রোগটি নিজের ভেতর আমাকে পাকড়াও করে নিয়েছে, তখন আর বেরুতে পারিনি। গালিবের কথা ধরে বললে, ‘ফাঁদও ভাঙে না, প্রাণও বের হয় না।’

কিন্তু আপনার কি মনে আছে কখন লেখালেখি শুরু করেছিলেন এবং প্রথম কী লিখেছিলেন?
: হ্যাঁ, মনে আছে। কারণ খুব ছোটবেলার ঘটনা এটি তাই ভুলতে পারি না। তাখন নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে উঠেছি মাত্র, আর আমার বড় ভাই মাহমুদ দশম শ্রেণি থেকে কলেজে ভর্তি হয়েছিল। এ উপলক্ষে বাবা আমাদের জন্য কিছু জামাকাপড় এনেছিলেন। যেখানে ভাইয়ের জন্য তো একটি স্যুট ছিল কিন্তু আমার জন্য এনেছিলেন একটি কাশ্মীরি পেসকোট। যেটা একটি কম্বলের মতো মনে হয়েছিল আমার। যদিও চেক কাপড়ের ছিল-আজকাল খুব ফ্যাশনেবল যা। কিন্তু তখন আমার কাছে তা নিছক একটি কম্বলের মতোই মনে হয়েছিল এবং সেই নিয়ে একটি শে’রও লিখেছিলাম। শে’র-টি এমন যে :
‘সব ক্যা ওয়াস্তে লায়ে কাপড়ে সেল ছে/
লায়ে হ্যা মেরে লিয়ে কয়েকি কা কম্বল জেল ছে।’

তাই, পরবর্তীতে এটি আমার বুনিয়াদি কবিতা এ কারণেও হয়ে ওঠে যে, শ্রেণির যে বৈষম্য ছিল-তা আমার মগজে আটকে গিয়েছিল। এবং পরে যখন পরিবার ছেড়ে পৃথিবীর অন্যান্য বিষয়-আশয়ে আসি তখন দেখি যে, না এখানে তো বিরাট এক দ্বন্দ্ব রয়েছে। অতএব, এমনিভাবে কবিতাও শুরু করি আমি দুটি উপায়ে। একটি তো সেই সময়ে এ’ও ঘটেছিল, যাকে বলা হয় প্রেম, আর একটি ছিল এই মসিবত।
‘খুশ হো আয় দিল ক্যা, তুঝে এক বালা অর লাগে।’

ফলে, এভাবেই আমার জীবন দুটো জিনিসের পাশে ঘুরতে থাকে। তারপর আমরা সমাজতন্ত্রের আন্দোলনে যোগ দিই। কমিউনিজম এবং ক্যাপিটালিজমও পড়ি। যদিও কলেজে যখন ছিলাম তখন থেকেই এসব পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছিলাম। কিন্তু লেখক এবং কমিউনিস্ট নেতা নিয়াজ সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাত হওয়া পর্যন্ত জানতাম না-প্রকৃত কমিউনিজম কী? দেখা যেত, সন্ধ্যা হতেই আমি নিয়াজ হায়দারের কাছে গিয়ে বসতাম। সন্ধ্যাবেলা খবরের কাগজ বিক্রি করতেন তিনি এবং খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তাই দেখে মনে হলো যে, না! ভালো মানুষও আছে। যাহোক, তা একটা সময় পর তিনি ভারতে চলে গেলে প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হই। কিন্তু কোনো সুশৃঙ্খল মানুষ ছিলাম না আমি। সমাবেশ হত কিন্তু এমন সময় পৌঁছতাম-যখন তা শেষ পর্যায়ে। যদিও পার্টির জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলাম। তখন সেক্রেটারি ছিলেন ফারগ বুখারী এবং রাজা হামদানী প্রমুখ। আর হ্যাঁ! মজার কথা হলো, আমাকে জয়েন্ট সেক্রেটারি করা হয়েছিল এ কারণে যে, যেহেতু তরুণ তাই উদ্যমী হব। কিন্তু আমি তো আমি-ই। সে যাহোক, এরপর রেডিওতে চাকরি পেয়েছিলাম এবং সেখানেও অনেক কিছু শিখি। আর স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে আমার প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল করাচিতে।

৭৭ সালে সেনাবাহিনী নিয়ে একটি কবিতা লিখি আমি। তখন ভুট্টো সাহেবের শেষ সময় যদিও কিন্ত সেনাবাহিনি ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছিল। ছাত্রদের খুন করছিল। তো ঐ কবিতা লেখার অপরাধে তারা আমায় গ্রেফতার করে। অফিস থেকেই আটক করে আমাকে। কারণ আমি তখন জেনারেল ডাইরেক্টর ছিলাম

তাহলে আপনি  কাজ শুরু করেছেন করাচিতে, তখন কারা ছিলেন সেখানে?
: তখন বিরাট বিরাট মানুষরা ছিলেন সেখানে। যেমন, আরাম লাখানভি, সীমাব আকবরাবাদী এবং শহীদ আহমেদ দেহলভি। অথচ তখনও পর্যন্ত উর্দু বলতে পারতাম না। মানে লিখতে পারতাম কিন্তু বলতে পারতাম না। মূলত করাচি যাওয়ার আগে তো এখানে-সেখানে উর্দুতে কথাই বলতাম না আমি। তাই করাচি পৌঁছার পর বেশিরভাগ সময় চুপই থাকতাম অথবা হ্যাঁ, হু করতাম। তদুপরি সেখানে তখন ভীষণভাবে মাকে মনে পড়ত। ফলে দিনের বেলা স্ক্রিপ্ট লিখতাম আর রাতে মায়ের কথা মনে করে অঝোরে কাঁদতাম। এভাবে কিছুদিন গত হলে, সবাইকে অনুরোধ করে বললাম যে, আমি আর থাকতে পারব না এখানে, শিগগির ফিরে যাব। অবশেষে, পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখে আমার বদলি করা হয়। তখন পেশোয়ারে পরিচালক ছিলেন আফজাল ইকবাল, তারপর ডাইরেক্টর হিসেবে আসেন এন, এম রশিদ। তারা আমায় বললেন যে, ‘খালি তো বসেই থাকো, পড়ালেখা ছাড়লে কেন? এ এমন কোনো কাজ নয় যে, এখানে বসেই করতে হবে। কলেজ শেষ করে ঘরে বসেই যা লেখার লিখতে পারো।’ সুতরাং এভাবেই আমি কলেজে ভর্তি হই এবং তারপর এম, এ’ও করি।

এম, এ কোথা থেকে করেছেন?
: পেশোয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে। তদ্দিনে আমি প্রোডিউসার বনে গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন এম, এ করে ফেলি তখন অধ্যাপনার প্রস্তাব এসে পড়ে। তাছাড়া আমারও যেহেতু শিক্ষকতায় ভীষণ আগ্রহ, তাই সোজা আবার পেশোয়ার ইউনিভার্সিটিতে চলে যাই। জানি না কেমন পড়াতাম, তবে প্রায়শই অন্য সাবজেক্টের ছেলেরা আমার ক্লাসে চলে আসত। সত্যিই শিক্ষকতার প্রতি আমার অন্যরকম এক অনুরাগ ছিল। কিন্তু একদিন দেখি একজন সিনিয়র অধ্যাপককে(তার পুরো নাম এখন মনে নেই। তবে খলজি সাহেব বলে ডাকাতাম। যাকে প্রাচীন স্বনামধন্য ইসলামিয়া কলেজের প্রিন্সিপাল করা হয়েছিল) নির্বাচনের সময় ছেলেরা খুব গালিগালাজ করছে। এই দৃশ্য দেখে আমার মনে হলো, প্রকৃত একজন অধ্যাপকের তো সম্মান ছাড়া আর কিছু নেই, অথচ তার সাথে এমন হচ্ছে! ব্যাস! সেদিনই মনে মনে ভাবলাম, এখন আর শিক্ষকতা করা উচিত নয়। তা থেকে ইস্তফা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিই, যে চাকুরিই মিলবে চলে যাব। এরমধ্যে কোনো এক জায়গার বিজ্ঞাপন এলে, আবেদন করি (ওটাই একমাত্র চাকুরি; যার জন্য আবেদন করেছি)। কিন্তু বিধিবাম! তারা সেখানে অন্য একজন নিয়োগ দিয়ে দেয়। কিছুদিন পর এক বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত হয়। সে তখন সরকারি কোনো চাকুরির ব্যাপারে আলাপ করলে, বলি যে, ভাই! আমি তো দরখাস্ত পর্যান্ত দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তো আমায় ইন্টারভিউর জন্য ডাকেই নি। এর কিছুদিন পরই সেক্রেটারির ফোন আসে। দ্বিতীয়বার ইন্টারভিউ হয়, আমি সিলেক্ট হই এবং এভাবেই ন্যাশনাল সিনেটরের ডাইরেক্ট পর্যন্ত থাকি। তারপর ১৯৭৭ সালে ভুট্টো সাহেব যখন ‘একাডেমি অব লেটারস’ প্রতিষ্ঠা করতে চান তখন ইসলামাবাদ চলে আসি। ৭৭ সালে সেনাবাহিনী নিয়ে একটি কবিতা লিখি আমি। তখন ভুট্টো সাহেবের শেষ সময় যদিও কিন্ত সেনাবাহিনি ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছিল। ছাত্রদের খুন করছিল। তো ঐ কবিতা লেখার অপরাধে তারা আমায় গ্রেফতার করে। অফিস থেকেই আটক করে আমাকে। কারণ আমি তখন জেনারেল ডাইরেক্টর ছিলাম। যাহোক, তা চোখে পট্টি-পাট্টি বেঁধে মানসেহরা ক্যাম্পে নিয়ে যায় তারা আমায়। কিন্তু অবাক হয়েছিলাম যে, সুপ্রিম কোর্ট যখন আমাকে মুক্তি দিয়েছিল তখন তারা আমাকে কোর্ট মার্শালের অধীনে বিচার করার চেষ্টা করেছিল। তারপর আদালত থেকে সিএনসি হাউজে নিয়ে গেল, সেখানে জিয়া-উল-হক এবং আমার এক বন্ধু জেনারেল আরিফ ছিলেন। সেখানে জিয়াউল হক-ভুট্টো সাহেবের এত প্রশংসা করছিল যে, আমি আপনাকে বলে বোঝাতে পারবো না। ব্যাস! এটুকু বুঝে নিন, কেবল আল্লাহকে ছেড়েছে সে। এছাড়া বাকি সকল নবী-রাসুল থেকে ভুট্টো সাহেবক উঁচু প্রমাণ করেছে। এ আমি ৩০ জুনের কথা বলছি আর ৪ জুলাই তাদের মসনদ উল্টানোর কথা ছিল। তদুপরি সেইসাথে সে আমাকে ইংরেজিতে এ-ও বলে যে, ‘প্রধানমন্ত্রীর শুকরিয়া আদায় করা উচিত আপনার। এ বিষয়ে তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করে আপনাকে বাঁচিয়েছেন।’ তো এর পরদিন অফিসে গেলে অজস্র ফোন আসে আমার। পত্রপত্রিকায় সংবাদ ছেপে যায় যে, সেনাবাহিনী ফারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফিরিয়ে নিয়েছে।

কবিতাটা কি মনে আছে?
: না, মনে নেই। কোথাও পাঠ’ও করিনি ওটা। বরং কোনো একটা কাগজে ছেপেছিল বুঝি। লোকজন সেটাই ফটোকপি করে বিলিয়েছিল।
‘পেশাদার খুনিরা, তোমরা সৈনিক নও।’ এটা ছিল কবিতাটির শেষ লাইন। যাহোক, তা অফিসে ভুট্টো সাহেবের ফোনও আসে। এর আগে না তার সঙ্গে আমার কোনো সাক্ষাত হয়েছে, না কথাবার্তা। ফোনে তাঁর সামরিক সচিব বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী কথা বলতে চান। তারপর ভুট্টো সাহেব ফোন ধরে বলেন, ‘ফারাজ দিস ইজ মি। দিজ টাইম আই সেইভড ইউর লাইফ। দে ওয়ান্ট টু ট্রাই ইউ।’ জবাবে আমি তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি এবং বলি, ওই দুজন লোক থেকে সর্বাত্মক সতর্ক থাকুন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘কোন দুজন?’ বললাম, ‘একজন তো জেনারেল জিয়াউল-হক, অন্যজন কাউছার নিয়াজি।’ তারপর আরো বলি যে, ‘তারা আপনার পিঠে ছুরি মারবে এবং তাদের চোখে সেই ধোঁকা আমি দেখেছি।’ কিন্তু আমার এসব কথাকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা কি করবে আমার! পিএনএর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে আমাদের। অক্টোবরে নির্বাচন করব আমরা।’ তারপর তিনি বলেন, ‘কবিতা হবে নাকি?’
জবাবে বললাম, ‘হবে। কিন্তু আমি তো জালিব নই, জামেলুদ্দিন আলীও নই।’

যখন আপনি মানুষের সঙ্গে মেলেন তখন আপনার অনুভূত হয় যে, তার তো অনেক দুঃখ। ফলে আপনার মাঝে যদি কিঞ্চিৎ ইনসাফও থাকে, তাহলে তখন আপনি নিজের দুঃখদের অতটা গুরুত্ব দেবেন না। সুতরাং, পড়াশোনা এবং মানুষের ভীড়ে মিশে গিয়ে এ-ই শিখেছি আমি

শুরু থেকেই কি আপনার কবি-সাহিত্যিক হওয়ার আগ্রহ ছিল! বাচ্চাদের যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি হওয়ার শখ থাকে?
: না, আমি তো আসলে পাইলট হতে চেয়েছিলাম। আর এর কারণ হলো, নবম কিংবা দশম শ্রেণিতে প্রথম যে মেয়েটির প্রতি আমার মুগ্ধতা আসে-তার ভাই পাইলট ছিল। যাক, সে এক বিরাট গল্প। তার ভাইটা না সত্যিই খুব সুদর্শন ছিল। বিশেষত ইউনিফর্ম পোষাকে তাকে যথেষ্ট হ্যান্ডসাম লাগত। তাই আমিও ইন্টারভিউ ইত্যাদি দিয়েছিলাম, সিলেক্টও হয়েছিলাম, ডাকও এসে গিয়েছিল। কিন্তু আমার মায়ের সম্মতি ছিলো না এতে। কেননা, আমার ভাই সেনাবাহিনিতে গিয়েছিল। আর আমার মায়ের কথা ছিল, তিনি তার সব সন্তানকে ওদিকে পাঠাতে চান না। তদুপরি তার যে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ছিল, তার ভিত্তিতেই বোধকরি তিনি আমায় যেতে দেননি। কেননা, আমার সঙ্গের যতগুলো ছেলে ওখানে গিয়েছে, সবকটিই মারা গেছে। কিছু ট্রেনিংয়ে, কিছু এমনি।

তাহলে সে-ই প্রথম নারী ছিল?
: হ্যাঁ! সে-ই প্রথম। এবং আমার ওপর সে প্রায় তিরিশ বছর অবধি ছেয়ে ছিল। যদিও এসব নবম বা দশম শ্রেণির কথা। বিশেষত আমাদের ওদিক, যেখানে পর্দা ইত্যাদি খুব কঠোর ছিল এবং তেমন মেলামেশাও ছিলো না। যাহোক, তা এক সময় তার বিবাহ হয়ে যায়। সেসময় দশম শ্রেণিতে ছিল সে। তারপর তিরিশ বছর পর একদা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আমার। উহ হো! তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এমন আফসোস হয়েছে আমার যে, তা আর বলে বোঝাতে পারবো না। কেননা, যদিও এখন ওজন কিছুটা বেড়ে গেছে আমার, তবে তখন পর্যন্ত আমার মাঝে তেমন কোনো পরিবর্তন ছিলো না। কিন্তু সম্পূর্ণ পাল্টে গিয়েছিল সে। এত কথা বলছিল। বলছিল, আমার সুগার, এই সমস্যা ওই সমস্যা, ইত্যাদি। অন্যদিকে আমি ভাবছিলাম, হায়! চা কখন শেষ হবে। মোটকথা আমার এত আফসোস আর দুঃখ হচ্ছিল যে, কীসের জন্য তিরিশ বছর কাটালাম!

সৃজনশীল কাজকে কীভাবে বর্ণনা করবেন?
: সৃজনশীল কাজের প্রক্রিয়া বর্ণনার আগে প্রথম বিষয় তো এই যে, কিছু না কিছু পাগলামি ভেতরে থাকে এবং সৃজনশীল কাজের জন্য প্রেম বড়ো প্রয়োজন। ফলে জীবনে-সম্মুখে ধাক্কা দেয়ার যতগুলো বিষয় আছে ওসবের পেছনে এটাই থাকে মূলত। তা ওটাকে আপনি প্রেম বলুন, আকাঙ্খা বলুন, পাগলামি বলুন মোটকথা যা ইচ্ছে বলুন। তারপর ওতে যখন আপনার আনন্দ হয়ে যায় তখন তার জন্য পরিশ্রম করতে হয়। কেননা বিষয়টা এমন নয় যে, সবকিছু এমনিতেই ওপর থেকে পুরস্কার হিসেবে মিলে যাবে আপনার। হ্যাঁ! এ আবশ্যক যে, প্রবল আগ্রহ হয় কিন্তু তার জন্য জ্ঞান দরকার, শিক্ষা দরকার এবং অভিজ্ঞতারও দরকার। তেমনি মানুষের মাঝে শামিল হওয়া এবং জীবনকে ভয় পাওয়া নয়, বরং তার মোকাবেলা করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের মাঝে শামিল হওয়া, মিশে যাওয়া। কেননা, মানুষের বেদনা যত বড়োই হোক না কেন, তা ছোট। তেমনি তার আকাঙ্খাও যত বড়োই হোক না কেন, তা ছোটই। এ কারণে, যখন আপনি মানুষের সঙ্গে মেলেন তখন আপনার অনুভূত হয় যে, তার তো অনেক দুঃখ। ফলে আপনার মাঝে যদি কিঞ্চিৎ ইনসাফও থাকে, তাহলে তখন আপনি নিজের দুঃখদের অতটা গুরুত্ব দেবেন না। সুতরাং, পড়াশোনা এবং মানুষের ভীড়ে মিশে গিয়ে এ-ই শিখেছি আমি। কাজেই সবচেয়ে বড়ো বিষয় হলো নিজস্ব অভিজ্ঞতা। ধরুন, এখন আমি দশ দশটা বই পড়লাম। গালিব পড়লাম, ফয়েজ পড়লাম, কাসেমী পড়লাম এবং তাদের প্রেমের অনুভূতিটুকুকে দ্বিতীয়বার বর্ণনা করে দিলাম-তাহলে হবে না। বরং কোনো প্রকার যোগসাজশ ছাড়া আপনার নিজস্ব একটা অভিজ্ঞান হতে হবে। তাই নিজের ক্ষেত্রে এটুকু বলতে পারি যে, যতটুকু পর্যন্ত আমার সম্পর্ক, সেখানে আমার জীবনে এমনসব ঘটনা ও মওকাগুলো আসতেই থেকেছে-যা সবসময়ই নাড়া দিয়েছে আমায়। চাই তা জেল হোক কিংবা নির্বাসন, দুঃখ কিংবা সুখ-একটা ভালো জীবনই কাটিয়েছি। রৌদ্র দেখেছি, ছায়াও দেখেছি। কিন্তু মূল বিষয়টা তো হলো: চিন্তার স্বচ্ছতা বা আন্তরিকতা (সিনসিয়ারিটি অব থট)। কিন্তু এদেশের সমস্যা হলো সত্য এখান থেকে সরে গেছে। আর যেখান থেকে সত্য চলে যায়, তার পেছনে পেছনে ইনসাফও যায়। ফলে তারপর শুধু ডামি’টাই রয়ে যায় এবং সমস্ত মান-মর্যাদার যা-তা অবস্থা হয়ে যায়।

তাহলে সৃষ্টিশীল কাজে কোনটাকে বেশি প্রাধান্য দেবেন, সৃষ্টিগত যোগ্যতা না দক্ষতা?
: এই দুটি বিষয়ই পরস্পর পাশাপাশি চলে। যেহেতু আমি কবি, তাই কবিতার সূত্র ধরেই বলবো যে, এরমধ্যে অনেক টেকনিক্যাল বিষয় আছে। যেমন, কবিতার ছন্দ বা মাত্রার কথাই ধরুন। যদি আপনার ছন্দে পারদর্শিতা না থাকে, তাহলে কিন্তু আপনি তাতে খেলতে পারবেন না। তেমনি আপনার যদি একটা প্যাটার্নই না থাকে, তাহলে আপনি আপনার বিষয়গুলোকে কীভাবে সামলাবেন! তাই শব্দ যা-তা মূলত চিন্তা ও দর্শনের জন্য একটা কাঠামোই হয়। সুতরাং যে ভাষায় আপনি কবিতা বলছেন, তা যদি আপনার না হয়, তাহলে আপনার দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হবে। ভাষার ওপরেও, চিন্তার ওপরেও। আর তারচেয়েও বেশি লাগবে অভিজ্ঞতা।

প্রিয় কবি বা সাহিত্যিক?
: আসলে কবিদের তুলনায় গদ্যকারদের বেশি পছন্দ আমার। কলেজ জীবন থেকেই হার্ডি (টম হার্ডি: ইংরেজি ঔপন্যাসিক) আমার প্রিয় লেখক। পার্লসবাকের উপন্যাসও পড়েছি। আর দস্তয়েভস্কি’র উপন্যাসসমগ্র তো পড়েছি পরে। মূলত গদ্যে অনেক অনেক বিষয় থাকে। এই যেমন, দস্তয়েভস্কির উপন্যাস যদি পড়েন, তাহলে তাতে আপনার অসংখ্য ‘বিচিত্র চরিত্রে’র দেখা ও তাদের কথোপকথন মিলবে। আর কবিতায় আমার বেদিল (আব্দুল কাদির বেদিল: ১৬৪২-১৭২০) প্রিয় ছিল এবং এখনও আছে। তারপর হাফিজ এবং সাদী পড়েছি। মূলত আমার বাবা ফার্সি ভাষার বেশ ভালো পন্ডিত ছিলেন। তাঁর বইপত্র থেকেই ফয়েজকে নিই। তারপর নতুন লোকদের মাঝে আমার গালিবকে ভালো লাগে। এমনকি মীর তকি মীর থেকে গালিব বেশি প্রিয় আমার। তদুপরি আমি তো এ-ও মনে করি যে, উনিশ শতকের সবচেয়ে বড়ো কবি ছিলেন মির্জা গালিব। হ্যাঁ, ইকবাল-ও ছিলেন। আমার হৃদয়ে ইকবালের জন্যও অসীম শ্রদ্ধা আছে। কেননা তার ছিল সম্পূর্ণ নতুন এক স্টাইল, নতুন এক রচনাশৈলী। এমনকি তার শব্দভান্ডারও ছিল আনোখা। এ ভিন্ন কথা যে, আমরা দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে মতানৈক্য করতে পারি। কিন্তু কবি হিসেবে আমি তাকে মহান একজন কবি বলেই গণ্য করি। তাঁর পরে ফয়েজ সাহেব এলেন। আর ফয়েজ সাহেবের ব্যাপারটি হলো : তিনি একদম নতুন একটি পথ অবলম্বন করলেন। এবং নিজেই বর্ণনা ও নতুনত্বের মিশ্রণ ঘটিয়ে অভিনব একটি কাঠামো নির্মাণ করলেন। তার দ্বারা অনেক প্রভাবিতও হয়েছি আমি। তাঁর আগে সাহির (সাহির লুধিয়ানভি) এর কবিতা ভালো লাগতো আমার। কাসেমী সাহেবও ভীষণ প্রিয় ছিল এবং খুব পড়েছিও তাকে।

সামরিক শাসন আমাদের দেশের অবস্থা যতোটা খারাপ করেছে, তা আর অন্য কেউ করেনি। এ তো এক সাধারণ কথা যে, চৌকিদার বাড়ির মালিক হয়ে যায়। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবেও নব্বই হাজার সেনা তাদের অস্ত্র দেয়নি। যাদেরকে আমরা পেলেপুষে তৈরি করেছিলাম। দেখুন! যুদ্ধের বিরোধী আমি। একজন লেখক মাত্র এবং নিরাপত্তা চাই

এখন কোন কবিকে বেশি পড়েন?
: গালিব। আসলে গালিবের মাঝে এই বিশেষত্ব আছে এবং প্রত্যেক শ্রেষ্ঠ ও বড়ো কবির মাঝেই এই বিশেষ গুণ থাকে যে, আপনার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান যেমন বাড়তে থাকে, তেমনিভাবে সে-ও আপনাকে তার নিজের সাথে রাখে। এফ-এ আমরা যে গালিবকে পড়েছি সে এক ছিল। বি, এ-তে আরেক। তারপর এম, এ-তে আরেক রকম। মোটকথা যখনই তাকে পড়তে বসেছি সে এক নতুন গালিব যেন। এমনকি এখনও বোধকরি আমার মাথার পাশে গালিব কিংবা গালিব বিষয়ক কোনো বইপত্র পাওয়া যাবে। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উদাহরণস্বরূপ আমি যদি কোনো কবির ভূমিতে, তার গজলে থেকে থাকি—তাহলে কেবল সে গালিবই।

ফয়েজের পর কাদের কথা বলবেন?
: ফয়েজ আহমেদের পর তো বেশ ক’জন ভালো লিখে গেছেন। তাদের মাঝে কয়েকজন সেসময় ভালো লাগত, এখন লাগে না। মূলত কিছু শিল্পীই হয়: যারা সময়ের পরীক্ষায় সম্পূর্ণভাবে নেমে আসেন এবং সাথে সাথে চলেন, কিন্ত তাদের সংখ্যাটা হয় খুবই সামান্য। যেমন প্রথমে বলেছি যে, একদা আমার সাহির লুধিয়ানভি প্রিয় ছিল কিন্তু পরে বুঝতে পারি যে, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ গুরুত্বপূর্ণ। তেমনিভাবে গালিবকে পড়তে পড়তে বেদিলে পড়ি, তখন তাকে উঁচু মনে হয় আমার। এতে করে কিন্তু গালিবের মর্যাদা কমে যায়নি। বরং তার যে স্থান ছিল, তা সেখানে থাকেনি। তাছাড়া এ-ও তো এক বিষয় যে, আজ আপনি একটা জিনিস পড়লেন, তা ভালো লাগলো, কিন্তু দুদিন পর যখন আবার ওটাই পড়লেন, তখন আর ভালো লাগলো না। সুতরাং বিশেষভাবে যারা শ্রেষ্ঠত্বের আসীন লাভ করে, সে কথা বললে-এই দু’জনই ছিলেন এবং আছেন।

গযল বেশি আপনার?
: না, বিষয়টা আসলে তেমন নয়। গযলও আছে, কবিতাও আছে। কখনো এই ভেবে কিছু লিখিনি যে, আজ গযল লিখতে হবে আর আজ কবিতা। ব্যাস, কখনো কোনো একটি বিষয় আমায় পেয়ে বসেছিল কিংবা কোনো একটা লাইন। এখন আমার একটি বই কেবল এজন্যই থেমে আছে যে, আমি এই বিষয়ের ওপর নযম(থিম পোয়ম) লিখতে চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার দ্বারা তা হচ্ছেই না। যদিও কয়েকবার লিখেছি এবং ছিঁড়ে ফেলেছি। কারণ নিশ্চিন্ত হচ্ছিলাম না। একারণেই বইটা থেমে আছে।

পদ্য কীভাবে লেখা হয়, প্রথমে কল্পনা নাকি…?
: হ্যাঁ, প্রথম খেয়াল কিংবা কল্পনা-কিছু না কিছু তো ছোঁয়। যেমন ছাত্রদের ওপর গুলি চলছিল, তখন ভাবছিলাম যে, সেনাবাহিনী কী করছে এসব? তো এভাবেই শুরু হয়।

কয়বার জেলে যেতে হয়েছিল?
: জেলে তো আমি একবারই গিয়েছিলাম। একবার জেল, একবার নির্বাসন। কিন্তু যেভাবে তারা আমায় নিয়ে গিয়েছিল, তা ছিল নিঃসঙ্গ আটক। আমাদের প্রশাসনও না অদ্ভুত! আমার চোখ একেবারে বেঁধেটেধে নিয়ে গিয়ে ক্যাম্প জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। প্রথমে কোনো একটা ভবনের বেজমেন্টে নিয়ে রেখেছিল, তারপর যখন ক্যাম্প জেলে নিয়ে ঢুকায়-তখন বেশ খুশিই হই। কেননা ওখানে জানালার মত সামান্য ফাঁকা ছিল-যা দিয়ে অন্তত বাতাস আসা যাওয়া করতে পারছিল। বাহিরে এক গার্ড ছিল, তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এ কোন জায়গা? ওরা তো চোখে পট্টি বেঁধে নিয়ে এসেছিল আমায় এখানে।’ জবাবে গার্ড বেচারা জানিয়ে দেয় যে, ‘এ হলো মানসার ক্যাম্প।’ এরপর এক মেজর এসে চোখ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে আমায়। তারপর বলে, ‘আপনি তো আহমদ ফারাজ নয়?’
জবাবে আমি বললাম, ‘যারা আমায় এখানে ছেড়ে গেছে তারা তো কোনো না কোনো আকৃতিও আপনার কাছে পাঠিয়েছে নিশ্চয়ই।’
‘তারা তো আমায় বলেছিল যে, ভারতের এজেন্ট পাঠাচ্ছে।’ বলে সে।
‘তাহলে তা-ই।’ জবাব দিই আমি। তো এই হলো আমাদের সেনাদের আচরণ ও কাজকারবার।

নিজের কাজ এবং অতিবাহিত করা দীর্ঘ এই জীবনের যাত্রা সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কী? যদি জিজ্ঞেস করি, জীবনটাকে কি এভাবেই কাটাতে চাইবেন, যেমন এখন কাটাচ্ছেন?
: জীবন! যদি আমার কাছে জানতে চাওয়া হয় তাহলে (আই উড লাইক টু রিপিট ইট) এ জীবনই দ্বিতীয়বার যাপন করতে চাইব। আহমাদ ফারাজের আকৃতি ও অবস্থায় যারপরনাই আনন্দিত আছি। মানে বেঝাতে চাচ্ছি যে, বেদনার পরেও মানুষজন আমাকে এত আনন্দ দিয়েছে যে-তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ফলে তা দ্বিতীয়বার যাপনের ইচ্ছে তে আছেই, কিন্তু স্বপ্ন হয়ে যাবে। দেখুন! ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের এমন কোনো বড়ো আর্টিস্ট নেই যে আমাকে গায়নি। লতা, মাহদী হাসান, নূর জাহান, জগজীৎ, পঙ্কজ উদাস এবং তালাত মাহমুদ পর্যন্ত আমাকে গেয়েছে। দেখুন, আমি কিন্তু ফিল্মের লেখক নই তবু আমার গযল গেয়েছে তারা। যদিও আমায় ‘হেলালে পাকিস্তান’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে, যা আমি সামরিক শাসনের কারণে ফিরিয়ে দিয়েছি। ‘হেলালে ইমতিয়াজ’ও ফিরিয়ে দিয়েছি। বলে দিয়েছি, আপনাদের এ সম্মান আমি চাই না। তবে, বেসামরিক সরকার যদি হত, তাহলে আমি নিতাম। তারপর আমার দেখাদেখি অন্যান্য বিখ্যাত ব্যক্তিরাও এসব পুরস্কার ফিরিয়ে দিতে শুরু করে। মোটকথা, সামরিক শাসন আমাদের দেশের অবস্থা যতোটা খারাপ করেছে, তা আর অন্য কেউ করেনি। এ তো এক সাধারণ কথা যে, চৌকিদার বাড়ির মালিক হয়ে যায়। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবেও নব্বই হাজার সেনা তাদের অস্ত্র দেয়নি। যাদেরকে আমরা পেলেপুষে তৈরি করেছিলাম। দেখুন! যুদ্ধের বিরোধী আমি। একজন লেখক মাত্র এবং নিরাপত্তা চাই। কিন্তু তাদের যে চরিত্র, তাদের এক একজন জেনারেল দেড় কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে ঘোরাফেরা করে। এবং এমন একশো চল্লিশ জন জেনারলে আছে। তাহলে হিসেব করুন এবার।

আরো পড়তে পারেন

রুশ সংস্কৃতির প্রধান শত্রু রুশ রেজিম: মিখাইল শিশকিন

অন্য দেশে ইমপেরিয়াল অথবা সোভিয়েত রাশিয়া থেকে বর্তমানের রুশ ফেডারেশনের নির্বাসিত লেখকদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অনেকে যাকে সমকালীন রুশ সাহিত্যে পাস্তারনাক ও সলঝোনেতসিনের উত্তরসূরি হিসেবে মনে করেন, সেই মিখাইল শিশকিন ১৯৯৫ সাল থেকে বসবাস করছেন সুইজারল্যান্ডে। একমাত্র লেখক হিসেবে লাভ করেছেন রাশিয়ার প্রথমসারির প্রায় সব সাহিত্য পুরস্কার, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— রুশ বুকার (২০০০), বিগ….

বাংলা সাহিত্যের লেখকদের কূপমণ্ডূকতা পাঠকদের কূপমণ্ডূক করেছে : হারুন আল রশিদ

রুদেবিশ শেকাবের ব্যতিক্রমী জীবন উপন্যাসের লেখক হারুন আল রশিদ বাংলা সাহিত্যে এক ব্যতিক্রম ও সম্পূর্ণ নতুন কণ্ঠ। তার  গদ্যের শক্তি ও গভীরতা পাঠকের কাছে যেমন বিস্ময়ের ব্যাপার তেমনি তার ভাষার সহজবোধ্যতা বাংলা গদ্যের একটি নতুন ধারা তৈরি করেছে। মাত্র দুটি উপন্যাস প্রকাশ করে তিনি পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অন্য উপন্যাসটি হল— ‘রেণুর আবির্ভাব’। তাঁর তৃতীয়….

ঘৃণা কাটিয়ে ওঠা একজন ফিলিস্তিনি এবং একজন ইসরায়েলি বাবার মুখোমুখি

তাদের গল্পটা এতটাই অবাস্তব যে মনে হয় এটি কোনো চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এমনকি, স্টিভেন স্পিলবার্গ  তাদের গল্পকে বড় পর্দায় আনার স্বত্বও কিনেছিলেন। ফিলিস্তিনি বাসাম আরামিন এবং ইসরায়েলি রামি এলহানান বছরের পর বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অক্লান্ত লড়াই করে যাচ্ছেন। যারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সন্তান হারিয়েছেন তাদের দল ‘দ্য প্যারেন্টস সার্কেল’ নামে….

error: Content is protected !!