Author Picture

আদ্যনাথ ঘোষের তিনটি কবিতা

আদ্যনাথ ঘোষ

তৃষ্ণার সাঁঝনদী জল
.
সাঁঝের ঘোমটা-নদীর মতো আঁধারও ধানক্ষেতে খেলে।
অথচ তোমার শূন্যপুর উঠোনের ধুলোর মায়ায় নতজানু হয় আর
পরিহাসে উন্মুখ আকাশ মাটির কাছেই ঠোঁটের উষ্ণতা খোঁজে-
দিন ও রাতের নিয়তির ঘোরে। এ-বুঝি প্রেম নয় প্রেমের দিশেহারা সিঁড়ি।
চারিদিকে ছুঁয়ে থাকা স্মৃতির দেয়াল। কখনও ভাসে আর ডোবে।
শাড়ির ভাঁজের মাঝে ডুবে থাকা আলো আর অন্ধকার চেয়ে থাকে
উষ্ণতার গর্ভবতী শস্যের দানায়। ছুঁয়ে থাকা শব্দের জোয়ার এসে
লিখে যায় অভিজাত সিঁড়ির তপ্ত বুকের বিষাদিত দীর্ঘশ্বাসে।
বলো, শব্দেরা আজন্ম খুঁজে বেড়ায় মায়াবী তৃষ্ণার সাঁঝনদী জল।

 

ঘুমহীন জনম কাঁদে
.
আমাকেও জীবনের টান ফেলে দিতে হয়।
যে টানে পলাশ ফোটে-পলাশের লাল ঘোমটা টানে-
সে টানে অসুখ কেন? গায়ে মেখে উঠোন চাদর।
কাছে আসে দূরে যায়- বার বার ফিরে যায় আমার শহর।
বৃক্ষেরা আড়াল হলে অসুখের ঘুম নেমে আসে।
অথচ বসন্ত পাড়া আঁচলের ভাঁজে ভাঁজে নাক ডেকে যায়।
মাঘ এসে জুড়ে বসে ফাগুনের ডালে-
কত রঙ হেঁটে চলে- কত রঙ ছাউনি ফেলে তোমার পাড়ায়।
আর ঘুমহীন জনম কাঁদে তোমার আশায়-
দূরের কোথাও সাঁঝ বাতি জ্বেলে।
এতো এতো লাল কেন- লালের ভিতরে লাল লালের জীবন।
যদি বলো, আমিও তোমার মতো লাল ফিতা কাটা শিখে নিয়ে চলি।

 

উঠোনের কোণা
.
ও আমার উঠোনের কোণা- জীবনের নির্ঝর সমুদ্রে ফোটার
আশায় চোখ মেলে ঘুমের ভিতর বলে ওঠো; ও-পরাণ বন্ধু,
বুকের কাছে বিষথলি বাতাস পুষে মেদ মাংস, প্রিয় নারী ও ফুলের দোলায়
তুমি কি নিঃশব্দে বিষাদগীতি গাইতে পার? প্রিয় জন্ম, পোড়া চোখ
আর মরা গাঙে নিয়তির পর্দা ঠেলে তুমি কি আর্তস্বরে চিৎকার করেই
জন্ম জন্মান্তরে দু’চোখ বেয়ে নদী হয়ে ওঠো। না হলে বিধ্বস্ত
নগরীর আজন্ম স্পন্দিত বুকের উপর লিখে রেখে বলতে পার-
রোদেজ্বলা আকাশ, মায়াহীন আদর, পাপড়িঝরা ভোর সবকিছু ভুলেই
তুমি থাক পোড়ো রাত্রির ঘুমহীন শ্মশানের পোড়াস্মৃতি হয়ে।

আরো পড়তে পারেন

গাজী গিয়াস উদ্দিনের একগুচ্ছ কবিতা

বীভৎস খেলা নগরে বাতাসে মথিত জনস্রোতের কোলাহলে শুনতে পেয়েছি সারিগান গঞ্জের হাটে আকাঙ্খার গভীরে মন্দ্রিত অভিন্ন প্রাণ নীরব দর্শক ছিলাম ব্যর্থতার করুণ গান ফেরার মহড়ায় বঞ্চিত কুঁড়েঘরে সরাইখানার- শুঁড়িখানার মাছিরাও নেশায় বুদ্বুদ প্রকম্পিত কান্নার পর একদিন হাসির তিলকরেখা বিচ্ছুরিত শৈশবের ক্ষুধার্ত চিৎকার ক্রর হাসি চেপে মৃত্যু পরোয়ানা ঝুলে ভাগ্য প্রহসনে যুদ্ধের ব্যগ্র দামামা থেমে গেলো-….

তোফায়েল তফাজ্জলের একগুচ্ছ কবিতা

উপায় অবলম্বন কাঁটা থেকে,  সুচালো কাঁকর থেকে পা রাখিও দূরে, জায়গা না পাক চলন-বাঁকা চেতনায় উড়ে এসে বসতে জুড়ে; এসবে খরগোশ কানে থাকবে রাতে, পড়ন্ত বেলায়, দ্বিপ্রহরে, পূর্বাহ্নে বা কাক ডাকা ভোরে। দুর্গন্ধ ছড়ানো  মুখ ও পায়ের তৎপরতা থেকে গ্রীষ্ম থেকে সমস্ত ঋতুতে একে একে নেবে মুখটা ফিরিয়ে তিলার্ধকালও না জিরিয়ে। কেননা, এদের চরিত্রের শাখা-প্রশাখায়….

আহমেদ ফরিদের একগুচ্ছ কবিতা

তোমার সাথে দেখা হওয়া জরুরী নয় সেদিন তুমি আমাকের ডেকে বললে, ”আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি ঝরছে এসো চা খেয়ে যাও ঝাল মুড়ি, পেঁয়াজ ভেজে দেবো সঙ্গে কাঁচালংকাও থাকবে। দুজনে চা খাব, মুড়ি খাব, আর গল্প করবো।’ আমি বললাম, ’না, আমি যাবো না । আমি আমার জানালায় বসে আকাশ দেখছি, বৃষ্টি দেখছি, আকাশের কান্না দেখছি, গাছেদের নুয়ে….

error: Content is protected !!