Author Picture

মারুফুল ইসলামের সাঁইজি কবিতাগুচ্ছ

মারুফুল ইসলাম

ঘর বেঁধেছে বর
ঘর ভেঙেছে বধূ
আহারে সাধের নাগর
আহারে লোহার বাসর
আহারে লখিন্দর
নিয়তি সাপের কামড়
থমথম কলরব
উৎসব মচ্ছব

চাকে বিশুদ্ধ মধু
বিরুদ্ধ বাতাসে পাক খায়
সোহাগী মৌমাছি
সাঁইজির গানে
ঢেউ জাগে প্রাণে
এই নেই এই আছি
কার কীবা আসে যায়

 

২. 
ধকধক বেধড়ক
ভাটির মুলুকে নদীও সড়ক
দৌড়ের নাও ছোটে
রক্তশাপলা ফোটে
শালুকের আড়ালে
হাত বাড়ালে
অমৃত অথবা গরল
জীবন সরল
যৌবন তরল
লেজে সাঁতরায় সোনালি মাছ
চক্ষু চড়কগাছ
দুনিয়ার দুর্দিনে মড়ক
সাত আসমান ঝলমল

জল বয় টলটল কলকল
কথা কয় ছলছল
সাঁইজি অবিচল

 

৩.
এই দুনিয়ার বালাখানায় দেহমনের বাজার
হ্রদ পেরিয়ে হৃদয় ধায় লাল ফকিরের মাজার
শরীর মোচড়ায়
পরান ধকধক
শিন্নি তবারক
এক বেলায় চামে চার বার
চিপায় চাপায় আসা যাওয়া লাগাতার
এধার কি ওধার
কালবেলায় দোদুল চালচুলো
গাছ পাতা আর ফুলও
ছড়ায় পরাগ হাওয়ায়
ঝরায় বিষ দাওয়ায়
ফাঁকেফোঁকে ওড়ে শিমুল তুলো
মিঠাইচাটা ভুঁড়িওয়ালা পায় জুড়ি
বাড়িওয়ালির তপ্ত অঙ্গে বাহারি নীল শাড়ি
রঙ্গরসে লাল সুরা মজুরি
চিচিং ফাঁক খালি বাড়ি
ইচিং বিচিং খেলে বাবু রাত্রি বারোটায়
কলিকালের অলিগলি কাবু অঘুমায়

সাঁইজি থাকেন বিরলে
দিবানিশির নিরলে

 

৪.
সবাক প্রজাপতি
ইতিউতি উড়ে বেড়ায়
এপারে ওপারে ঘুরে বেড়ায়
আড়ে ঠারেঠুরে বেড়ায়
গাছ-আগাছা ঢুঁড়ে বেড়ায়
বেহাল হৃদয় খুঁড়ে বেড়ায়
বেতাল সময় জুড়ে বেড়ায়
মায়া নেড়েনুড়ে বেড়ায়
ছায়া ভেঙেচুরে বেড়ায়
অদূরে আর দূরে বেড়ায়
অসুরে আর সুরে বেড়ায়
শৃঙ্গে-লেজে-শুঁড়ে বেড়ায়
কাজে তেড়েফুঁড়ে বেড়ায়
অপাঙ্গে শর ছুঁড়ে বেড়ায়
নটে গাছটা মুড়ে বেড়ায়
অবাক মতিগতি

সন্ধ্যারতি সেরে
প্রকাশধর্মে বেড়ে
সাঁইজি তাকেই খুঁজছেন
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
পৃথিবীতে কে যে কার
বুঝছেন

 

৫.
বিজয়া দশমী বিসর্জন
মা প্রতিমা নিরঞ্জন
দফায় দফায় মার খায় সন্তান
ছাত্রাবাস ছত্রখান
উচ্চাসন পণ্ডিতজন নির্বিকার
প্রকৌশল প্রযুক্তি পগার পার

উচাটন পল্টন চঞ্চল
তড়িঘড়ি দড়ি লাঠি সম্বল
তরুণ শোণিতে মুহুর্মুহু ঝুমুর তাল
অরুণ আলোয় আমরা সবাই জীবনপণ নন্দলাল
বাঁচিমরি রাখবই স্বদেশের মান
ওস্তাগর জোগাড়ি সিনা টান টান

সাঁইজি বলেন সটান
দুনিয়া এক দোকান
আজ বাদে কাল
মালসামান জঞ্জাল

 

৬.
ধর্ষকামে মর্ষকামে গোলক টলটলায়
পাতাল দোলে শূন্যপুরে আকাশ বিয়াবান
মাঝখানে যে থাকে সে জন কেউ না হলেও কেউ
দয়ার শরীর দয়ার সাগর উথাল দয়ার ঢেউ
কে ডাকে আয় কে ছুটে যায়
কে খুঁজে পায় কাকে জানায়
জিজ্ঞাসায় আর জবাবে তার আউলিয়া অজ্ঞান
ভবলীলার ছয় ঋতুতে থিতু গরহাজির
উজির নাজির কেষ্টবিষ্টু আপামর হাজির
পাজি নজর নষ্ট বটে দুষ্ট বাবাজির
গোয়াল পূর্ণ বিচারশূন্য কেতাবি কাজির
পিরিত রতন আংরার ধন হাওয়াই বাজির

ফল কি ফসল
ফসল কি ফল
জনে জনে দোনামোনা
বিজয়ায় বিসর্জন
সহে না সহে না মন
সাঁইজির বুকে বেদনা
সখি তোরা প্রেম করিও না

 

৭.
আবছায়া ভোরের উন্মোচন
ভালোমন্দে চিরতার জল গলাধঃকরণ
পরমানন্দে রূপালি পিয়ালির ঝোলে উদরপূর্তি সম্পাদন
মেঘের অলস পায়চারি
আলস্যের বাড়াবাড়ি
অপরাহ্ণের নিদ্রান্তে গরমাগরম কচুরি জিলিপি সেবন
আচম্বিতে পেয়াদার আগমন
এ যে বড্ড শক্ত গেরোর বাঁধন

সাঁইজির মন চনমন
চরাচরে ভাবের পার্বণ
অন্তঃকরণে বাতাবরণে শিহরণে
নিরিখ বান্ধো রে দুই নয়নে

আরো পড়তে পারেন

আজাদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

সবুজ স্তন প্রচুর নেশা হলে দেখবেন— গাছগুলো বৃষ্টি, পাতার বদলে বব চুল, কী ফর্সা! তার বাহু, উরু ব্যাঞ্জনা, জলভারে নুয়ে আছে সবুজ স্তন। নেশা এমনই এক সদগুন যে, মাঝরাতে উড়ে উঠবে রাস্তাগুলো আকাশে মুখ দিয়ে আপনি বলছেন— আমাদের একটা পৃথিবী ছিল, ঠিক চাঁদের মত গোল। চুর পরিমাণ নেশা হলে, আপনার পা থেকে অহংকারী পাথর খসে….

গাজী গিয়াস উদ্দিনের একগুচ্ছ কবিতা

ক্লান্তির গল্প যারা উপনীত সন্ধ্যে বেলায় ফিরে দেখো দিন মলিন স্বপ্ন – ধূসর জীবন, প্রখর রোদের শায়ক ক্রীড়া প্রাচুর্যে আত্মহারা ছিলে স্বাধীন একদিন, পশ্চিম বেলা চেয়ে চেয়ে আজ শেষ করো ক্লান্তির গল্প।   ছড়ানো বিদ্রুপ সাপের চুমোতে কোথা বিষ হিংস্র নিশ্বাসে তোমার গরল বিশ্বাসে আমাকে পাবে জিয়ল সরল। রুক্ষতা ছেঁটে ফেল – চেহারা কমনীয় সব….

বিপিন বিশ্বাসের একগুচ্ছ কবিতা

শূন্যতায় বাজে প্রণবধ্বনি শূন্যতায় বাজে প্রণবধ্বনি আড়ালে যার মহাজাগতিক রশ্মির চারণভূমি প্রতিবন্ধকতাকে পাশকাটিয়ে নিমগ্ন বিশ্বের স্বরূপ দেখি ধ্যানের স্তরে। মায়ার কায়া ঝেড়ে ফেলে সত্যকে চিনি আপন করে জ্যোতির্ময় জেগে আছে দীপ্ত শিখার আপন জলে । মূল্যবোধের সলতে টাকে মারতে চাই না দিন-দুপুরে অন্ধকারে আলোক রেখা সদাই খোঁজি হৃদ মাঝারে।   জীবনের ধর্ম এই জীবন মা….

error: Content is protected !!