Author Picture

মনদীপ ঘরাই এর একগুচ্ছ কবিতা

মনদীপ ঘরাই

শুরু থেকে

এভাবে না।
আমার সবকিছু শুরু থেকে চাই।
আমি মাঝপথ থেকে কোনো সিনেমা দেখি না;
এমনকি দেখি না এক ইনিংস পেরোনো কোনো খেলাও।
এই যেমন বইয়ের কথাই ধরুন না!
শুরু থেকেই তো পড়তে হয়।
শেষ থেকে শুরু করা যায় না।
এজন্য শুরু থেকে চাই।
সবকিছু শুরু থেকে চাই।
বেতনের মতো; মাসের শুরু থেকে।
নববর্ষের মতো; বছরের শুরু থেকে।
বইয়ের মতো; শুরুর পাতা থেকে
ব্যবসার মতো; নতুন হালখাতা থেকে।
কিংবা জীবনের মতো…
জীবনের মতো?
হোঁচট খাই।
এখানে এসেই থেমে যাই।
সবকিছু যে শুরু থেকে চাই;
জীবনের শুরুর সময়ই তো নিজের মনে নাই!

 

শহর

এই শহরটা খেলার মাঠের মতো।
বাইরের শহর কিংবা দেশ থেকে
খেলতে আসে খেলোয়াড়।
তোমাদের জীবনে তোমরা কতটুকু খেলো আর?
খানিকটা ব্যাটবল, খানিকটা পেশী…
এই শহরটা খেলার মাঠের মতো।
এখানে খেলোয়াড় কম, দর্শক অনেক বেশি।
মারপিট, অগ্নিকান্ড,  দুর্ঘটনা; কিংবা পাশের বাড়ির বিপদ!
টিকেট ছাড়াই মানুষ বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখে।
এই শহরটা খেলার মাঠের মতো।
এখানে দেয়ালে দেয়ালে মনের কথা
স্কোরবোর্ডের মতো লেখে।
শুধু…
মাঠের মতো সবুজ নেই শহরে;
কিংবা মানুষের মনে।
এই শহরটা তবুও খেলার মাঠের মতো হার-জিত গোনে।
খেলা শেষে মিশে থাকে আলো নেভার ভয়;
শহরটা ঠিক খেলার মাঠের মতো;
হার অথবা জিত নিয়ে-
শহর ছেড়ে যেতে হয়।

 

নীল মানুষ

জানি, কষ্ট দেখতে তোমার
একেবারে ভালো লাগে না।
এটুকু ভেবে স্বস্তি পেতে পারো যে,
কষ্ট দেখতে হলে আলো লাগে না।
অন্ধকারেও দেখা যায়;
ছোঁয়া যায়।
যে মানুষটা কষ্ট ছুঁয়ে দেখে,
সে তোমার-আমার মতো নীল হয়ে যায়।
কষ্টে নীল, কন্ঠে নীল কিংবা পুরো শরীরে…
একটা অবাক ব্যাপার জানো তো?
আমার চারপাশে তুমি আর আমি ছাড়া
আর কোনো নীল মানুষ নেই।
আছে শয়ে শয়ে সবুজ মানুষ।
এরা সুখী। অন্ততঃ টেস্ট রিপোর্ট তো তাই বলে!
সবুজ মানুষেরা গাছের মতো।
কষ্ট থাকলেও শক্ত বাকলের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে পারে।
পাতার মুখোশে যত্ন করে ওরা কান্না ঢাকতে পারে।
আমরা পারি না।
পারিনা বলেই হয়তো, সহজেই নীল হয়ে যাই।
কষ্টের নীল রং এ ডোবানো ভেজা একটা তুলির মতো;
যার জন্মই হয়েছিলো-
একজনের হাতের জাদুতে- অন্য কারো ছবি আঁকার জন্য।

 

চুইংগাম

সমস্যাটা হলো চুইংগাম।
হ্যাঁ হ্যাঁ। চুইংগাম।
আপনারা যেটা চাবাতে বড্ড পছন্দ করেন।
যে দীর্ঘতম মিষ্টি স্বাদের আশায় আপনারা
চুইংগাম কেনেন;
শুরুর সেই মিষ্টি স্বাদ দ্রুত ফুরিয়ে আসে।
তবুও চাবিয়ে যান। চাবিয়ে যান।
একসময় বিস্বাদ লাগতে থাকে।
তবুও….
চাবিয়ে।
যান।
এরপর ফেলে দিতে মন চায়।
কিন্তু ফেলবার জায়গা খুঁজে না পেয়ে…
আপনি চাবিয়ে যান।
শেষমেষ টুক করে মুখ থেকে ছুঁড়ে ফেলেন রাস্তায়।
চুইংগাম। আপনার চাবানো ধুলোমাখা চুইংগাম।
অচেনা কারও জুতোয় আটকে ঘরে ফেরে, ঠিক পাঁচটায়।
জীবনটাও তো আপনারা এমনি চাবান, তাই না?
ইয়ে মানে, আমার আবার সুগার প্রবলেম;
আমি চুইংগাম খাই না।

আরো পড়তে পারেন

আজাদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

সবুজ স্তন প্রচুর নেশা হলে দেখবেন— গাছগুলো বৃষ্টি, পাতার বদলে বব চুল, কী ফর্সা! তার বাহু, উরু ব্যাঞ্জনা, জলভারে নুয়ে আছে সবুজ স্তন। নেশা এমনই এক সদগুন যে, মাঝরাতে উড়ে উঠবে রাস্তাগুলো আকাশে মুখ দিয়ে আপনি বলছেন— আমাদের একটা পৃথিবী ছিল, ঠিক চাঁদের মত গোল। চুর পরিমাণ নেশা হলে, আপনার পা থেকে অহংকারী পাথর খসে….

গাজী গিয়াস উদ্দিনের একগুচ্ছ কবিতা

ক্লান্তির গল্প যারা উপনীত সন্ধ্যে বেলায় ফিরে দেখো দিন মলিন স্বপ্ন – ধূসর জীবন, প্রখর রোদের শায়ক ক্রীড়া প্রাচুর্যে আত্মহারা ছিলে স্বাধীন একদিন, পশ্চিম বেলা চেয়ে চেয়ে আজ শেষ করো ক্লান্তির গল্প।   ছড়ানো বিদ্রুপ সাপের চুমোতে কোথা বিষ হিংস্র নিশ্বাসে তোমার গরল বিশ্বাসে আমাকে পাবে জিয়ল সরল। রুক্ষতা ছেঁটে ফেল – চেহারা কমনীয় সব….

বিপিন বিশ্বাসের একগুচ্ছ কবিতা

শূন্যতায় বাজে প্রণবধ্বনি শূন্যতায় বাজে প্রণবধ্বনি আড়ালে যার মহাজাগতিক রশ্মির চারণভূমি প্রতিবন্ধকতাকে পাশকাটিয়ে নিমগ্ন বিশ্বের স্বরূপ দেখি ধ্যানের স্তরে। মায়ার কায়া ঝেড়ে ফেলে সত্যকে চিনি আপন করে জ্যোতির্ময় জেগে আছে দীপ্ত শিখার আপন জলে । মূল্যবোধের সলতে টাকে মারতে চাই না দিন-দুপুরে অন্ধকারে আলোক রেখা সদাই খোঁজি হৃদ মাঝারে।   জীবনের ধর্ম এই জীবন মা….

error: Content is protected !!