Author Picture

ত্বহা হুসাইনের দিনগুলি

কাউসার মাহমুদ

সতেরো

মরা আগেই বলেছি, পরিদর্শক মধ্য বয়সী ছিলেন। অর্থাৎ তার বয়স যখন চল্লিশ বা এর কিছু ওপরে তখন তিনি ষোলো বছরেরও কম এক কিশোরীকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। এবং সমস্ত বাড়িতে শুধু ওই যুবতী মেয়ে আর তার পিতামহী (যার বয়স ছিল পঞ্চাশের ওপর) ছাড়া অন্য কোনো বাসিন্দা ছিলো না। বালক যখন প্রথমদিকে নিয়মিত এ বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে, তখন পরিদর্শক ছাড়া অন্য কারও দিকে কোনরূপ তাকাতো না। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই ওই যুবতী মেয়ে তার সঙ্গে কথা শুরু করে এবং তার বিষয়ে, তার মা, ভাইবোন ও তাদের বাড়ি সম্পর্কে নানা কিছু জিজ্ঞেস করতে থাকে। এতে প্রথমদিকে বালক বেশ লাজুক ভঙ্গিতে এসবের জবাব দিত। এরপর কিছুটা ধাতস্থ হলে পরে স্বচ্ছন্দ ও অসংশয়ে। সুতরাং শীঘ্রই তাদের মাঝে স্নিগ্ধ এক অনুরাগ বেড়ে ওঠে। যা তার আত্মার কাছে ছিল পরম প্রিয় এবং তার হৃদয়ে তৈরি করেছিল সুস্বাদু বিন্দু। যদিও বিষয়টি বৃদ্ধাকে যারপরনাই বিরক্ত করত। কিন্তু বিপরীতে পরিদর্শক ছিল এ ব্যপারে সম্পূর্ণই অজ্ঞ

তাছাড়া সবকিছু মিলিয়ে এমন মনে হচ্ছিল যে, আল্লাহ আমাদের শিক্ষককে তার ছাত্র দ্বারা চরমভাবে লাঞ্ছিত করতে চেয়েছেন। তাই শায়খ যখন বালকের পরীক্ষা নিয়েছিলেন, তখন সময়ে সময়ে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল তার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। না এই ধারাবাহিক বিপর্যয়গুলো যথেষ্ট ছিল; যা বালকের আলফিয়া ও অন্যান্য মুতুন (মূল টেক্সট) গুলো মুখস্থ করার তুমুল আগ্রহ থেকে জন্মেছিল। যা বালককে রূঢ় ও খিটখিটে করে তুলেছিল। ফলে নিজেকে সে তার শিক্ষক ও সঙ্গীদের থেকে উঁচু ভাবতে শুরু করে। উলামাদের মাঝে নিজের একটি স্থান কল্পনা করে এবং আরিফের আদেশ অমান্য করে। কিন্তু না, এ সবই যথেষ্ট ছিলো না। বরং সেখানে আরও এক বিপর্যয় আসে। ওখানকার বাসিন্দাদের কাছে যা কখনোই প্রত্যাশিত ছিলো না। তা এমনই এক দুর্যোগ; যা অন্যদের তুলনায় বালকের জন্য অধিক ভয়াবহ ছিল এবং যা তার কাজে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। ঘটনাটি এই: কায়রো থেকে একদিন এক লোক কৃষিপথ পরিদর্শনে গ্রামে আসেন। তিনি ছিলেন মধ্য বয়সী। তার মাথায় ছিল তারবুশ (ফেজ টুপি) এবং তিনি ফরাসী বলতেন। জানান, চারুকলা ও কারুশিল্পে স্নাতক করেছেন। তিনি ছিলেন অভিরূপ, পছন্দসই এক মানুষ। ফলে লোকেরা শীঘ্রই তাকে তাদের বাড়িতে ও মজলিসে আমন্ত্রণ শুরু করে। যদিও তার মাঝে ও বালকের পিতার মাঝে দীর্ঘদিন আর সেই বন্ধুত্বের বন্ধন থাকেনি।
কেননা তিনি তথা পরিদর্শক আমাদের শিক্ষককে প্রত্যহ তার বাড়িতে কোরানের একটি সূরা পাঠের জন্য নিযুক্ত করেছেন। বিনিময়ে তিনি তাকে প্রতিমাসে দশ পিয়াস্টার সম্মানী দিতেন। অবশ্যই যা সেখানকার মানুষের কাছে বেশ মোটা অংকের চমকপ্রদ সম্মানী। তাই আমাদের শিক্ষকও ওই ব্যক্তিকে ভালোবাসে এবং তার গুণকীর্তন গাইতে শুরু করে।
যাহোক, এরই মাঝে রমযান মাস এসে উপনীত হয়। আর রমযানের প্রতি রাতেই লোকেরা শহরের এক ধনী ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে একত্রিত হয়; আমাদের শিক্ষক যেখানে প্রতি বছর নিয়মিত কোরান পাঠ করতেন। আমাদের বালক বন্ধুটিও ওখানে আমাদের শিক্ষকের সঙ্গী হয়ে যেত। এবং সময়ে সময়ে দু-একটি সূরা অথবা কোথাও কোনো অংশ পড়ে দিয়ে তাকে সামান্য বিশ্রাম দিত। এমনই এক রাতে যখন সে কোরান তেলাওয়াত করছিল, তখন ওই শহুরে পরিদর্শক তা শোনে এবং বালকের পিতাকে বলে, ‘আপনার ছেলে কোরানের তাজবিদে বেশ দুর্বল।’ এই শুনে শায়খ জবাব দেন, ‘হ্যাঁ! আযহারে গিয়ে ওখানের কোনো শায়খের কাছে সে আরও ভালোভাবে শিখবে।’ তখন পরিদর্শক বলেন, ‘তবে আমি কিন্তু তাকে ‘হাফস’ এর রীতি অনুযায়ী তাজবিদ শেখাতে পারি। এতে সে আযহারে যেতে যেতে তাজবিদের নিয়মকানুন সম্বন্ধে সম্যক ধারণা পেয়ে যাবে এবং ওখানে গিয়ে সাত, দশ ও চৌদ্দ কেরাতের বিষয়ে পরিপূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে।’ শায়খ বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কারী নাকি?’ ‘অবশ্যই! আমি একজন তাজবিদ বিশেষজ্ঞও। তাছাড়া যদি ব্যস্ত না থাকতাম, তাহলে নিশ্চয় আপনার ছেলেকে তাজবিদের সবগুলো বর্ণনা অনুসারে কোরান শেখাতাম। যাহোক, তবু ভেবেছি, রোজ একঘন্টা করে সময় দিব তাকে এবং হাফস এর বর্ণনা অনুসারে তেলাওয়াত শেখাব। সেইসাথে শিল্পের বিবিধ নীতিমালা সম্বন্ধেও পাঠ দেব- যা তাকে আযহারে ভর্তি পরীক্ষার জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।’ এই শুনে লোকেরা বলাবলি শুরু করে, ‘এ কিভাবে সম্ভব যে ফেজ টুপি পরিহিত ফরাসি বলা কেউ কারী হতে পারে? এবং কিভাবেই বা কোরানের বিভিন্ন বর্ণনা সম্বন্ধে জানতে পারে?’ জবাবে পরিদর্শক বলেন, ‘আমি একজন আযহারি। ধর্মীয় বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চ ডিগ্রি আছে আমার। এরপর অবশ্য ওখান থেকে মাদরাসায় চলে যাই। এবং মাদরাসা থেকেই শেষতক চারুশিল্পে স্নাতক অর্জন করি।’ উৎসাহী জনতা তখন সোল্লাসে বলে ওঠে, ‘তাহলে আমাদের জন্য কিছু তেলাওয়াত করুন।’ লোকটি তখন তার জুতো খুলে স্থির হয়ে বসে। এবং তাদের জন্য এমনই অভূতপূর্ব এক সুরে সূরা হুদ পাঠ করেন; যেমনটি তারা ইতোপূর্বে কখনও শোনেনি।

সুতরাং নিশ্চয় আপনি তাদের বিস্ময়-বিহ্বল হয়ে যাওয়া ও প্রশংসার কথা কল্পনা করতে পারছেন যে, কী স্তুতিবাণী আর সমাদরই না তারা ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অঞ্জলি ভরে দিয়েছিল! সেইসাথে আমাদের শিক্ষকের কথাও কল্পনা করতে পারছেন নিশ্চয় যে, কি দুঃখী আর বিরক্তই না ছিলেন তিনি! ফলে লোকটি সেদিন এভাবে রাত যাপন করে, যেন তিনি অশনি আলোর শিকার হয়েছেন। সুতরাং পরদিন ভোরে শায়খ তার ছেলেকে রোজ ওই পরিদর্শকের বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বালককে যা অতিশয় আনন্দিত করে তুলেছিল। এবং মকতবে এসে এর সবকিছুই আনন্দের সাথে সহপাঠীদের কাছেও বলেছিল। অবশ্য এ আলোচনা আমাদের শিক্ষককে কী পরিমাণ ব্যথিত করে তুলেছিল নিশ্চই আপনি তা অনুমান করছেন। সুতরাং যা হওয়ার তাই হয়। তথা শিক্ষক-বালককে ধমকে এই বলে সতর্ক করে দেন যে, আর কখনোই যেন এই মকতবে ওই পরিদর্শকের নাম উচ্চারিত না হয়। যাহোক, বালক রোজ ওই পরিদর্শকের বাড়ি যাওয়া শুরু করে। পরিদর্শক তাকে ‘তুহফাতুল আতফাল’ কিতাবখানা পড়ায়। এবং তাজবিদের বিভিন্ন প্রকরণ সম্পর্কে ব্যখ্যা করে বোঝায়। মদ, গুন্নাহ, ইখফা, ইদগাম-ইত্যকার সমস্ত বিষয়াদিই ভালোভাবে শেখায়।

অন্যদিকে নতুন এই জ্ঞানার্জনে বালকও বেশ অভিভূত ও আনন্দিত হয়েছিল। ফলে মকতবে গিয়ে এসব বিষয়ে সে তার বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করত। তাদের ব্যখ্যা করে বোঝাত যে, আমাদের শিক্ষক ভালোভাবে মদ, গুন্নাহ উচ্চারণ করতে পারেন না। এমনকি মদ্দে কালমী, হরফি, মদ্দে মুসাক্কাল ও মুখাফ্ফাফ-এর মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কেও অবগত নন। আর এই সবকিছুই ধাপেধাপে আমাদের শিক্ষকের কাছে পৌঁছেছিল এবং তা তাকে যারপরনাই দুঃখী ও ব্যথিত করে তুলেছিল। এদিকে বালক পরিদর্শকের কাছে পুনরায় প্রথম থেকে কোরান পড়া শুরু করে। আর পরিদর্শকও তাকে সঠিকভাবে আয়াতের যতিচিহ্ন ইত্যকার বিষয়াদি শেখাতে থাকেন। তখন ধীরে ধীরে বালকও পরিদর্শকের উচ্চারণ ও সুর নকল করতে শুরু করে। এবং মকতবে গিয়েও এভাবেই কোরান তেলাওয়াত করে। এসময় বাবা তাকে সময়ে সময়ে পরীক্ষা করেন এবং যখনই তিনি তার কণ্ঠে পাঠের এই নতুন শৈলী শুনতে পান; তিনি আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠেন। হৃদয়ের সমস্ত ভাষা উজাড় করে পরিদর্শকের প্রশংসা করেন। কিন্তু শায়খ এর এই স্তুতিগাথা আমাদের শিক্ষককে এমনই বিরক্ত আর উত্তেজিত করে তোলে, ইতিপূর্বে কোনোকিছু যা তাকে এরূপ ক্রোধান্বিত করেনি।

এভাবে পুরো একবছর বালক ওই পরিদর্শকের বাড়িতে যায় এবং তার কাছে কোরান পড়ে। এক পর্যায়ে সে হাফস এর রীতি অনুসারে কোরানের তাজবিদ সম্পর্কে পরিপক্ব হয়ে ওঠে। এরপর অবশ্য সে ‘ওয়ারশ’ এর রীতি শুরু করেছিল প্রায়; যদি না হঠাৎ তার কায়রো চলে যাওয়ার ঘটনাটি না ঘটত। আমাদের বালক ওই বাড়িতে যেতে এত পছন্দ করেছিল, কারণ পরিদর্শক তার তারীফ করত। সেইসাথে সে নিজেও কোরান সম্পর্কে তার বিবিধ জ্ঞানার্জন ও নিখুঁতভাবে তাজবিদ শেখার ব্যপারে ভীষণ আগ্রহী ছিল। তদুপরি এ কারণেও যে, আমাদের শিক্ষককে সে অপছন্দ করত এবং একইসাথে নিজের সহপাঠীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশেও। আর হ্যাঁ! অবশ্যই এই সবকিছু কেবল বছরের প্রথম দুই মাসের জন্য। কিন্ত এরপর থেকে মূলত অন্য কিছুই তাকে পরিদর্শকের বাড়ির প্রতি আকৃষ্ট ও প্রেমময় করে তুলেছিল। আমরা আগেই বলেছি, পরদির্শক মধ্য বয়সী ছিলেন। অর্থাৎ তার বয়স যখন চল্লিশ বা এর কিছু ওপরে তখন তিনি ষোলো বছরেরও কম এক কিশোরীকে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। এবং সমস্ত বাড়িতে শুধু ওই যুবতী মেয়ে আর তার পিতামহী (যার বয়স ছিল পঞ্চাশের ওপর) ছাড়া অন্য কোনো বাসিন্দা ছিলো না। বালক যখন প্রথমদিকে নিয়মিত এ বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে, তখন পরিদর্শক ছাড়া অন্য কারও দিকে কোনরূপ তাকাতো না। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই ওই যুবতী মেয়ে তার সঙ্গে কথা বলা শুরু করে এবং তার বিষয়ে, তার মা, ভাইবোন ও তাদের বাড়ি সম্পর্কে নানা কিছু জিজ্ঞেস করতে থাকে। এতে প্রথমদিকে বালক বেশ লাজুক ভঙ্গিতে এসবের জবাব দিত। এরপর কিছুটা ধাতস্থ হলে পরে স্বচ্ছন্দ ও অসংশয়ে। সুতরাং শীঘ্রই তাদের মাঝে স্নিগ্ধ এক অনুরাগ বেড়ে ওঠে। যা তার আত্মার কাছে ছিল পরম প্রিয় এবং তার হৃদয়ে তৈরি করেছিল সুস্বাদু বিন্দু। যদিও বিষয়টি বৃদ্ধাকে যারপরনাই বিরক্ত করত। কিন্তু বিপরীতে পরিদর্শক ছিল এ ব্যপারে সম্পূর্ণই অজ্ঞ।

ফলে রোজ নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা বা তার আগেই বালক ওই বাড়িতে চলে যেত; যেন সে যুবতীর সঙ্গে কথা বলতে পারে। ওদিকে মেয়েটিও তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত এবং যখনই সে আসত; তাকে তার রুমে নিয়ে যেত। এরপর সে নিজে বসত ও বালককে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে, পরষ্পর গল্প শুরু করত।
এভাবে দীর্ঘ কথোপকথন তাদের মাঝে ক্রীড়াকৌতুকের জায়গা করে দেয়। কেবলই ওই ক্রীড়া; অজাতশ্মশ্রু, অনভিজ্ঞরা যা খেলে। এরচেয়ে কমও নয় বেশিও নয়। কিন্তু সত্যিই তা বড়ো আনন্দদায়ক খেলা ছিল। আর বালকও এই সবকিছু তার মায়ের কাছে জানাত। সব শুনে মা হাসতেন আর যুবতী মেয়েটির প্রতি করুণা করে বালকের বোনকে বলতেন, ‘আহা বেচারি! এটুকুন একটা মেয়ে, অমন বুড়ো বেটাকে বিয়ে করেছে! না সে কাউকে চেনে, না তাকে কেউ চেনে। তাই সে বেশ খারাপ অবস্থাতেই আছে এবং তার হৃদয় এখনও কিছু খেলাধুলা ও আমোদপ্রমোদের জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে।’ মূলত সেদিন থেকেই বালকের মা ওই তরুণীর সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং প্রায়শই তিনি তাকে তার বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানান। উপরন্তু এও বলে দেন যে, তার যখনই ইচ্ছে হবে, সে যেন এ বাড়িতে চলে আসে।

______
*তাজবিদ : যেসব বিষয়ে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে শুদ্ধভাবে কোরান পাঠের নিয়ম জানা যায়।
* সূরা হুদ : পবিত্র কোরানের ১১তম সূরা। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ১২৩ এবং রুকু সংখ্যা ১০টি।
*তুহফাতুল আতফাল : পুস্তিকাটির সম্পর্ণ আরবি নাম: ‘তুহফাতুল আতফাল ওয়াল গিলমান ফি তাজওয়ীদিল কুরআন।’ লিখেছেন, শায়খ সুলাইমান আল-জামযুরি (১১৩৯-১২২৯ হিজরী)

আরো পড়তে পারেন

একাত্তরের গণহত্যা প্রতিহত করা কি সম্ভব ছিল?

২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতির স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে মুছে দিতে পাকিস্তানি নরঘাতকেরা যে নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ওই এক রাতেই শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় প্রায় তিন হাজার। এর আগে ওই দিন সন্ধ্যায়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনা একতরফাভাবে….

ভাষা আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা

আগের পর্বে পড়ুন— চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল) ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের সাম্রাজ্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ও একটি সার্থক গণআন্দোলন। এই গণআন্দোলনের মূল চেতনা বাঙালী জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ হলো দেশপ্রেম থেকে জাত সেই অনুভূতি, যার একটি রাজনৈতিক প্রকাশ রয়েছে। আর, বাঙালি জাতিসত্তাবোধের প্রথম রাজনৈতিক প্রকাশ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে দুই হাজার মাইল দূরত্বের….

চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল)

আগের পর্বে পড়ুন— বায়ান্নর ঘটনা প্রবাহ একুশের আবেগ সংহত থাকে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দেও। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান এক বিবৃতিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। আওয়ামি লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম কমিটির সদস্য যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র….

error: Content is protected !!