Author Picture

ত্বহা হুসাইন এর দিনগুলি

কাউসার মাহমুদ

তিন

সে ছিল তার পিতার তের সন্তানের সপ্তম জন। অন্যভাবে বললে, পিতার দ্বিতীয় স্ত্রীর এগারো সন্তানের পঞ্চম জন। তার মনে হত, এই বিপুল সংখ্যক যুবা ও শিশুদের মাঝে, অন্যান্য ভাইবোনদের থেকে নিজের বিশেষ একটি স্থান আছে তার। এই অবস্থান ও স্বাতন্ত্র্যবোধ কি তাকে আনন্দ দিত না বিরক্ত করত? এ ব্যাপারে সত্য হলো: এ সম্বন্ধে না সে নিশ্চিতরূপে কিছু বলতে পারে, না সত্যাসত্য কোনো রায় দিতে পারে।

সে আরও বুঝতে পারে, তার জন্য যা নিষেধ; অন্য ভাইবোনদের ওসব করতে মায়ের অনুমতি আছে। বিষয়টি প্রথমে এক প্রকার অসন্তোষের উদ্রেক করেলও; পরে এই অনুভূতিটি রূপান্তরিত হয় এক নিঃসঙ্গ নীরবতায়। না! বরং এক হৃদয়গ্রাহী বেদনায়; যখন সে তার ভাইবোনদের এমন সব বিষয়ে কথাবার্তা বলতে শোনে, যে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞানই ছিল না। সুতরাং সে বুঝতে পারে, সে যা দেখেনি তারা তা দেখেছে

প্রকৃতপক্ষে মায়ের কাছ থেকে সে পেয়েছিল সীমাহীন আদর ও কোমল বিবেচনা। বাবার কাছ থেকে পেয়েছিল প্রশ্রয় ও উদারতা। আর ভাইদের আচরণে মনে হয়েছে, তার সাথে কথোপকথন ও মনোভাবে কোথাও কোথাও কিছুটা সংরক্ষিত ও সংযত ছিল তারা। কিন্তু মায়ের এই আদর-আহ্লাদের পাশাপাশি মাঝেসাঝে কিছু অবহেলা, অবজ্ঞাও পেয়েছিল সে। সেইসাথে বাবার প্রশ্রয় ও উদারতার পাশাপাশি সময়ে-সময়ে ছিল কঠোরতা ও নির্দয়তাও। এর মাঝে বিশেষত ভাইবোনদের ওই সংযত ভাবটিই তাকে কষ্ট দিত। কেননা এর ভেতর আকস্মিক পরিবর্তনের সাথে একটি বিকৃত ও দূষিত মনোভাব দেখতে পেত সে।
যাহোক, তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এসবের কারণ বুঝতে পেরেছিল সে। বুঝেছিল, তার তুলনায় অন্যান্যদের নিজস্ব কিছু সুবিধা আছে। তা এই যে, তার ভাইবোনেরা এমন কিছু করতে পারে যা সে করতে পারে না। এমন কিছুর সম্মুখীন হতে সক্ষম, যাতে সে অক্ষম। সে আরও বুঝতে পারে, তার জন্য যা নিষেধ; অন্য ভাইবোনদের ওসব করতে মায়ের অনুমতি আছে। বিষয়টি প্রথমে একপ্রকার অসন্তোষের উদ্রেক করেলও; পরে এই অনুভূতিটি রূপান্তরিত হয় এক নিঃসঙ্গ নীরবতায়। না! বরং এক হৃদয়াগ্রাহী বেদনায়; যখন সে তার ভাইবোনদের এমন সব বিষয়ে কথাবার্তা বলতে শোনে, যে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞানই ছিল না। সুতরাং সে বুঝতে পারে, সে যা দেখেনি তারা তা দেখেছে।

আরো পড়তে পারেন

একাত্তরের গণহত্যা প্রতিহত করা কি সম্ভব ছিল?

২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতির স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে মুছে দিতে পাকিস্তানি নরঘাতকেরা যে নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ওই এক রাতেই শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় প্রায় তিন হাজার। এর আগে ওই দিন সন্ধ্যায়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনা একতরফাভাবে….

ভাষা আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা

আগের পর্বে পড়ুন— চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল) ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের সাম্রাজ্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ও একটি সার্থক গণআন্দোলন। এই গণআন্দোলনের মূল চেতনা বাঙালী জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ হলো দেশপ্রেম থেকে জাত সেই অনুভূতি, যার একটি রাজনৈতিক প্রকাশ রয়েছে। আর, বাঙালি জাতিসত্তাবোধের প্রথম রাজনৈতিক প্রকাশ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে দুই হাজার মাইল দূরত্বের….

চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল)

আগের পর্বে পড়ুন— বায়ান্নর ঘটনা প্রবাহ একুশের আবেগ সংহত থাকে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দেও। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান এক বিবৃতিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। আওয়ামি লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম কমিটির সদস্য যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র….

error: Content is protected !!