Author Picture

রবীন্দ্র উপন্যাসে দাম্পত্য সংকট ও নীতিগর্হিত প্রেম

নাসের মাহমুদ

বাংলা সাহিত্যের পুরোধা ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথের কবি সত্ত্বার প্রতিপত্তি সর্বগ্রাসী। ফলে তাঁর গদ্যকার বা ঔপন্যাসিক পরিচয় যতটা দ্যুতিময়, সাহিত্যের বিচারে তার উজ্বল্য ততোধিক দীপ্তিময়। রবীন্দ্রনাথকে বাংলা ভাষার অগ্রসরমান মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের জনক বলা যায় সহজে। রবীন্দ্রনাথ ঐতিহাসিক ও কাহিনী নির্ভর উপন্যাস লিখে যাত্রা শুরু করলেও (বৌ ঠাকুরানীর হাট, রাজর্ষী) অতিদ্রুত চরিত্রের মনোজগতের বিশ্লেষণধর্মী গদ্যে ফিরে আসেন । তিনিই প্রথম উপলদ্ধি করেন নরনারী যা করে তার চেয়ে অবচেতন মনে ভাবে অনেক বেশী। সেই অবচেতন ভাবনার বিকাশ ঘটাতে তিনি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাকে প্রাধান্য দিয়ে লিখেছেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস চোখের বালি। নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী রবীন্দ্রনাথ নারীকে এঁকেছেন ত্রিমাত্রিক ভাবে। প্রথমত নারীকে দেখেছেন শাশ্বত সেবাদায়িণী, মায়াবতী রুপে সংসারযজ্ঞে। দ্বিতীয়ত প্রকাশ করেছেন নারীর মনোজৈবিক সক্রিয়তা-নিষ্ক্রিয়তা এবং তৃতীয়ত নারীর ভালবাসার নিবিড় বন্ধনকে ভেবেছেন দাম্পত্যের ভিত্তিস্তম্ভ হিসেবে। বাঙালি মধ্যবিত্তের সুচনা কালীন সময়ে নারী পুরুষের সংসার দাম্পত্যের বাহিরে নীতিগর্হিত প্রেম কামনাও রবীন্দ্রনাথের নায়িকাদের স্পর্শ করেছে। কেউ দাম্পত্যের বন্ধনে থেকেও সংসারের কাজে আনাড়ী, দাম্পত্য প্রেমে লাজুকতার জন্য নিষ্ক্রিয় যেমন চোখের বালির “আশা”।

অন্যদিকে বাল্যবিধবা বিনোদিনী একই সাথে মনোজৈবিক কামনায় জ্যান্ত, সংসার কর্মে সুনিপুণা। একই সাথে অন্তরে নিত্য পুজারিণী এক অনন্য ব্যাক্তিত্বময়ী অপকট ও সাহসিনী নারী বিনোদিনী। পরনির্ভরশীল, ভোগী ও লোভী মহেন্দ্র বিবাহের পর বৌ আশার মায়া/ছলনা ছাড়াই কামমুগ্ধ স্ত্রৈণ হয়ে উঠে। রবীন্দ্রনাথ দাম্পত্যকে নরনারীর একান্ত জীবনাচারন বলেছেন। বিবাহের আইনী বন্ধনেই দাম্পত্যের সুচনা ঘটলেও স্বামী স্ত্রী পরস্পরের ভালবাাসায়, দায়িত্ব সচেতনায়, প্রেমের খেলায় পরস্পরের পরিপুরক হয়ে না উঠলে দাম্পত্যে ফাটল লাগাই স্বাভাবিক। চিরলোভী মহেন্দ্র স্বল্প বুদ্ধির অশিক্ষিতা আশাকে চারুপাঠ শিক্ষা দানের ভান করে মধ্যহ্নের প্রখর আলোকে উন্মুক্ত দ্বারে দাম্পত্যলীলায় মেতে উঠে। কিন্তু দাম্পত্য কেবল কাম নির্ভর নয়, বরং একটা সংসারে নানা দিক সামলে নিয়ে চৌকষভাবে একগেঁয়েমি দুর করে প্রেমে নতুনত্ব নিয়ে হাজির হওয়া। দাম্পত্যের প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘লোকে ভুলে যায়, ওটা একটা আর্ট। তাকে প্রতিনিয়ত সৃজন করতে হয়’।

রবীন্দ্রনাথ দাম্পত্যকে নরনারীর একান্ত জীবনাচারন বলেছেন। বিবাহের আইনী বন্ধনেই দাম্পত্যের সুচনা ঘটলেও স্বামী স্ত্রী পরস্পরের ভালবাাসায়, দায়িত্ব সচেতনায়, প্রেমের খেলায় পরস্পরের পরিপুরক হয়ে না উঠলে দাম্পত্যে ফাটল লাগাই স্বাভাবিক

দাম্পত্যের খেলায় আশা যতটা আনাড়ী, বিধবা বিনোদিনী ততটাই খেলুড়ি। সেবায় নিরালস্য কাজে পরিপাটি, পাঁকা রাধুনী, কথায় পারদর্শীতা বিনোদিনীকে সংসার কর্মে অপরিহার্য করেছে। অন্যদিকে বড়ো সুন্দরী, ইংরেজী শিক্ষিতা, কথায় জাদু জানা বিনোদিনীর ডাগর আঁখি, দেহবল্লরী মহেন্দ্রের মনে কামনার আগুন ছড়িয়েছে। সদ্যবিধবা চিরবঞ্চিতা, অতৃপ্ত যৌবন জ্বালায় জর্জরিত বিনোদিনী আশার স্বামী সোহাগ দেখে ঈর্ষায় জ্বলতে থাকে। রবীন্দ্রনাথের  মতে ‘সোহাগের সঙ্গে রাগ না মিশালে ভালবাসার স্বাদ থাকে না, তরকারিতে লঙ্কামরিচের মতো’। আশা মরিচের ঝাঁল সইতে অপরাগ। আবার বিনোদিনীর কেবল মরিচের ঝাঁলই পেয়েছে, তরকারির স্বাদ পায় নি। দুই নারীর দ্বান্দিকতা, মহেন্দ্রের লোভী কামজ মানসিকতা দাম্পত্য সংকটকে প্রকট করে তুলেছে চোখের বালিতে।

মহেন্দ্র আশার একগেঁয়ীপূর্ণ বৈচিত্রহীন দাম্পত্য পরস্পরের প্রেমকে নিঃশেষিত করে তুলেছে। নতুনত্ব না থাকায় প্রেম তলানিতে পৌঁছেছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘প্রেমের সংগীত একেবারেই তারস্বরের নিখাদ হইতেই শুরু হইয়াছিল-সুদ ভাঙ্গিয়া না খাইয়া তাহারা একেবারে মুলধন উজাড় করিবার চেষ্টায় ছিল। ফলে তাদের দাম্পত্যের বলগাহীন প্রেমলীলায় মধু শুকাইয়া গেল’। ফুল সজীব ও সতেজ থাকে বাগানে, তাকে ফুলদানিতে রাখিলে বির্মষ হয়ে যায় দ্রুত। তেমনি সংসারের কাজের মধ্যে প্রেমকে বাধিঁতে না পারলে দাম্পত্যের বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ হয়। ‘নিরবিচ্ছিন্ন মিলনে প্রেমের মর্যাদা ম্লান হয়ে যায়’। ফলে মহেন্দ্রের যতিহীন দাম্পত্য প্রেমের নেশার পরেই যে অবসাদ, শ্রান্তি আসে সেটা দুর করতেই যেন নতুন নেশার রঙীন পাত্র নিয়া বিনোদিনী হাজির হইলো। আসলে সংসার মাঝে দাম্পত্য কে খুবই সুস্থ্য ভাবে সাজাতে হয়। যা অধিকাংশ বাঙালি নর নারীর জীবনেই অধরা রয়ে যায়। কেউ কেউ সংসার, মা, কামীমার প্রতি কর্তব্য ভুলিয়া প্রেমের নেশায় ভোগী হয়ে যায় যেমন মহেন্দ্র।

আবার আশা দাম্পত্য প্রেমে নতুনত্ব আনার মতো কুশলী, সংসারী, আত্মবিশ্বাসী না হওয়ায় মহেন্দ্র নীতিবর্হিভুত পরকীয়া প্রেমে জড়ায় বিনোদনীর রুপে পাগল হয়ে। দাম্পত্য নীতিগর্হিত প্রেমে মত্ত প্রেমিক প্রেমিকা জানে না কি তার শেষ গন্তব্য। এক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ চমৎকার ভাবে অর্ন্তযামীর ভুমিকায় অবর্তী হয়েছেন। সাবলীল বর্ণনায় পরকীয়া প্রেমের অনৈতিকতা সত্ত্বেও প্রচন্ড অমোঘ টানে মহেন্দ্রকে দিকবিদিক শুন্য করে বিনোদিনীর জন্য উতলা করে তুলেছে। তারই বনর্ণা পাই ‘এই প্রচ্ছন্ন অথচ ব্যক্ত, নিষিদ্ধ অথচ নিকটাগত, বিষাক্ত অথচ মধুর, একই কালে উপহৃত অথচ প্রত্যহৃত প্রেমের আভাস মহেন্দ্রকে মাতাল করিয়া তুলিল।” অন্যদিকে আশা মহেন্দ্রের সোহাগ প্রীতি দেখে কামনা রোহিত বিনোদিনীর হৃদয়ের জ্বালা কেবল বাড়িয়া গেল। অস্থির মনস্তত্ত্ব সিন্ধান্তহীনতায় আচ্ছন্ন করে রাখে বিনোদিনীকে। ‘একটা জ্বালা মহেন্দ্র তাহার অন্তরে জ্বালাইয়াছে, তাহা হিংসার না প্রেমের, না দুয়েরই মিশ্রন, বিনোদিনী তাহা জানিয়া পায় না’।

দাম্পত্য বর্হিভুত প্রেমাসক্ত মহেন্দ্র আশার সাথে দাম্পত্য অব্যাহত রেখেই বিনোদিনীকে কাছে পেতে চায়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘বিনোদিনী এবং আশা, উভয়কে স্থান দিবার মতো প্রশস্থ হ্নদয় মহেন্দ্রের আছে’। দাম্পত্য নীতি অটুট রেখেই বিনোদিনীর সাথে পবিত্র প্রেমের সর্ম্পক বাঁধতে আগ্রহী মহেন্দ্রে। একইভাবে নৌকাডুবি উপন্যাসের নায়ক রমেশ দুরদেশের বাংলাঘরে হেমনলিনীকে নিয়ে সংসার করার চেয়ে হেমনলিনী সাথে চিরসখীরুপে কমলাকে পাওয়ার আশায় আরামবোধ করে। এখানেও কি সেই বাগানের মালী যেরুপ গোলাপের সাথে রজনীগন্ধা ফুটাতে চায়- সেই রূপ পুরুষ মাত্রই বহু গন্ধে বহু রঙে সাজতে চায় তার হিয়া। নৌকাডুবিতে রমেশের বিবাহিত স্ত্রীর মৃত্যুর পরে ঘটনাক্রমে কমলার সাথে স্বামীর মত বসবাসের পর রমেশ বুঝে কমলা তার স্ত্রী নয়। এত কিছুর পরও হেমনলিনীকে বিবাহের আশা রমেশ ছাড়তে পারে না। পুরুষের অতৃপ্তবাসনাকেই কি ঘটনার আড়ালে প্রকাশ করতে চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ? দাম্পত্যের বন্ধন ছিন্ন করে  পুরুষ বিপথে পা বাড়ালে সেটাও স্ত্রীর ব্যর্থতা বলেই সমাজে প্রচলিত।

দাম্পত্য নীতি অটুট রেখেই বিনোদিনীর সাথে পবিত্র প্রেমের সর্ম্পক বাঁধতে আগ্রহী মহেন্দ্রে। একইভাবে নৌকাডুবি উপন্যাসের নায়ক রমেশ দুরদেশের বাংলাঘরে হেমনলিনীকে নিয়ে সংসার করার চেয়ে হেমনলিনী সাথে চিরসখীরুপে কমলাকে পাওয়ার আশায় আরামবোধ করে

এই বিষয়টি উপলব্ধি করে রবীন্দ্রনাথ রাজলক্ষীর কন্ঠে বলেন ‘পুরুষ মানুষ তো স্বভাবতই বিপথে যাইবার জন্য প্রস্তুত, স্ত্রীর কর্তব্য তাহাকে ছলে বলে কৌশলে সিধা পথে রাখা’। এভাবে বাঙ্গালী সমাজে দাম্পত্যকে টিকিয়ে রাখার একক দায়িত্ব নারীর কাঁধে দিয়ে পুরুষ তার অভিলাষ চারিতার্থ করনের পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে যোগাযোগ উপন্যাস যেন দাম্পত্য হীনতার গল্প। পরকীয়ায় আসক্তি পূর্ব হতেই মুধুসদনে বিদ্যামান। তাছাড়া মধুসুদন ও কুমুদিনীর বয়সের ফারাক বিস্তর। তারচেয়ে বড় ফারাক পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধে। সংস্কৃত সাহিত্যে গভীর অনুরাগী দাদা বিপ্রদাসের কাছে কুমু ব্যাকরণ পড়েছে। প্রাচীন কুমার সম্ভব ও আধুনিক ফটোগ্রাফী, দাবা উভয় শিক্ষাই কুমুর মনে গাথাঁ। দাদার কাছে পিস্তল চালানো শিখা, এসরাজে সুর তোলা কুমুর প্রিয় কাজ। আবার পুরুষ সংসার চালায় শক্তিতে, আর মেয়ের ভাগ্যেই লক্ষী। এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী কুমুদিনী। তাছাড়াও দক্ষযজ্ঞের সতীর মত শিব পূজাতেও আত্মনিবেদিতা কুমু। মধুসুদন রাজভারী হিসেবে নির্ভূল। তার ঘোষাল কোম্পানীর ব্যবসা বনেদি বিলতি কোম্পানির সাথে পাল্লা দেয়। এত বৈপিরীত্যের সাথে বিবাহের সমন্ধে বিপ্রদাস রাজি ছিল না। তাঁর ভাষায় দাম্পত্য তখনই মধুময়, হয়ে উঠে যখন সুরে বাধা এসরাজ কোন পাকা হাতে পড়ে। দাম্পত্যের আদর্শ জোড়া যেমন সীতা তেমনি রাম, যেমন শিব, তেমনি সতী। পুরুষের নৈতিকতা ছাড়া কেবলি নারীর সতীত্ব খোঁজা তেল ছাড়া বাতি জ্বালানোর মত। শুকনো সলতে পুড়ে কেবল ছাই ধুয়া সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে স্ত্রী বড় অকিঞ্চিৎকর, তুচ্ছ ও কটাক্ষ মেনে সংসার কর্ম করবে- এটাই মুধুসুদনের ভাবনা।

দাম্পত্যের নীতিতে স্ত্রী সাথে সহবত, আচরনে যে বিশেষ কলানৈপুণ্য থাকতে পারে তা মধুসুদনের অজানা । তার কাছে স্ত্রী লক্ষীর অধিষ্ঠান। স্ত্রী ভাগ্যে ধন বিবেচনায় নীলা তার সয় না বলে কুমুর আগুলের নীলার আঙটি সে জোর করে খুলে রাখতে বাধ্য করে। মধুসুদন স্ত্রীকে মর্যাদা অধিকার না দিয়ে বরং দাসী করে রাখতে চায়। রবীন্দ্রনাথ মোতির মা’র কণ্ঠে দাম্পত্যের চমৎকার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, ‘কাঠুরে গাছকে কাটতেই জানে, সে গাছ পায় না, কাঠ পায়। মালী গাছকে রাখতে জানে, সে পায় ফুল, পায় ফল’। তেমন দাম্পত্যে নারীকে স্বাধীন মানুষের মর্যাদা দিতে হবে। তাঁকে বিকশিত করা পুরুষের কর্তব্য। তবেই দাম্পত্য সুখময় প্রাণ প্রাচুর্যময় হবে। ঐশ্বর্য্যময় হবে। মধুসুদন কাঠুরের ন্যায় গাছকে হত্যা করে কাঠ চেয়েছে। তাই সে কুমুদিনীর মনকে ভেঙ্গে দিয়ে তাঁকে ভাল না বেসে সম্পত্তি রুপে পেতে চেয়েছে। অন্যদিকে শ্যামাসুন্দরী মধুসুদনেকে ভালবাসে। মধুসুদন দাম্পত্যে সৎ থাকতে পারে নাই। জোৎসার আলোয় মধুসুদনের সাথে শ্যামার মিলনের ছবি মোতির মার চোখে ধরা পড়েছে। যোগাযোগে দাম্পত্যের সুচনার চেষ্টা যে মধুসুদনের একেবারে ছিল না তা নয় কিন্তু কমুদিনীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বিধা তাদের শারীরিক মিলন সম্ভবপর করলেও মানসিক দুরত্ব কমাতে পারে না। কুমুর অনুপস্থিতিতে শ্যামা সুন্দরী নিলর্জ্জভাবে প্রবৃত্তির আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে। মধুসুদনের মোহকে ষোলো আনা ভোগে পরিনত করে ছাড়ে। গল্পের শেষে কুমুদিনী মাতৃত্বের স্বার্থে মধুসুদনের সংসারে ফিরে এলেও দাম্পত্যে কোন ঐশ্বর্যময় সুখের দেখা পেলো না। দাম্পত্য যৌথ প্রযোজনা কিন্তু মাতৃত্বের দায়িত্ব নারীর একান্ত নিজেস্ব বিধায় বাঙালি নারী সংসার মাতৃত্বে যতটা সফল, পুরুষের অসহযোগীতায় দাম্পত্যে ততটাই অসফল।

আরো পড়তে পারেন

একাত্তরের গণহত্যা প্রতিহত করা কি সম্ভব ছিল?

২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতির স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে মুছে দিতে পাকিস্তানি নরঘাতকেরা যে নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ওই এক রাতেই শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় প্রায় তিন হাজার। এর আগে ওই দিন সন্ধ্যায়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনা একতরফাভাবে….

ভাষা আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা

আগের পর্বে পড়ুন— চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল) ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের সাম্রাজ্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ও একটি সার্থক গণআন্দোলন। এই গণআন্দোলনের মূল চেতনা বাঙালী জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ হলো দেশপ্রেম থেকে জাত সেই অনুভূতি, যার একটি রাজনৈতিক প্রকাশ রয়েছে। আর, বাঙালি জাতিসত্তাবোধের প্রথম রাজনৈতিক প্রকাশ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে দুই হাজার মাইল দূরত্বের….

চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল)

আগের পর্বে পড়ুন— বায়ান্নর ঘটনা প্রবাহ একুশের আবেগ সংহত থাকে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দেও। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান এক বিবৃতিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। আওয়ামি লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম কমিটির সদস্য যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র….

error: Content is protected !!