Author Picture

সাফওয়ান আমিনের কালিসন্ধ্যার মিহি ডাক

সাফওয়ান আমিন

কালিসন্ধ্যার মিহি ডাক

গাঁঢ় জোছনার সাধ নেই, সে তো বহু দূর, বহু কথার বিনিদ্র যাপন তত্ত্ব— এখন তো খাচ্ছিই খুঁটে খুঁটে গাঢ় অমাবস্যার রঙ!
আজ শুধু ওটুকুই হোক, আপসে তোমাকে ভাবার চিরন্তন ও নির্জন পথের খাঁসা বুঁদরোদন— প্রেমের উর্ধ্বে গিয়ে দেখা যায় কি, কালিসন্ধ্যার মিহিমিহি ডাক? তবে আমার কালিসন্ধ্যাটা ফিরে আসুক; আমি নৃত্য করি তাঁর মায়াবুকে—

আজ শুধু ওটুকুই হোক, সারল্য নন্দন যেভাবে আমাকে গেঁথে নিয়ে হাঁটে, নিগুঢ় রহস্যে, নির্জন পথের সাথে—কলাপাতার আবছায়ায় মর্মর যে ধ্বনি পাও, তা কি চন্দনের, নাকি পৃথিবী মাতানো খুশবুবক্সের? (আফিমের মতো মনে হলো) প্রেয়সীর আঁচলের বাউলি ঝাপ্টা কিনা! আমাকে ওটা দাও, গাঁঢ় জোছনা চাই না।

.২.

বহু বৃষ্টি ভেজার সন্ধ্যায়, তুমি ভেতরে আমি জানালায়—
বেদানা-রঙা চোখের কানা-কুয়া উড়ে গেলো যবনের হাওয়ায়, জীবনের ভেতর— ভাবছি যদি ফিরে আসে প্যারাফিন নিয়ে, তবে কুমকুমে ভরে যাবে করপুট!

জানি, নখের যৌবন এলে ছেঁটে দিতে হয়; এসেছে কষ্টের যৌবন, সুযোগেই কাটবো, চিন্তার কিছু নাই। সাক্ষী রাখো এই কালো মিহি রঙ, সকল কল্যাণ খেলা করবে তোমাকে ঘিরে— তুমি আশা পেলে, আমি বর্ষার সমস্ত বৃষ্টির কোলে, শুধু তোমারই নাম লিখে দিলাম!
অসময়ে একদিন ঘুমঘোর থেকে জেগে দেখি, শানাই বাজে, তোমার পায়ে আলতা, গায়ে লাল টুকটুকে শাড়ি…আমার কেবল দেরি হয়ে যায়!

আজ সারাদিন বিষ্যুূদবার; তোমার দিকে চেয়ে আছে—

.৩.

দাপুটে সুখের দিন নেমে যায়— বাতাসে যে প্রেম বেজেছিল বাঁশের কঞ্চির পরশে পরশে, তা কি ক্ষয়ে গেল এত সহজে? ভেবেছি, দারুচিনি বিদিত করবে তোমার সন্ধ্যাবাটির সালুন সহযোগে—অথচ মেলেনি বহুকাল গাঁঢ় জোছনার দেখা। আকস্মিক বিপর্যয় ভেবে নেই ফড়িঙের, ইঁদুরের মৃত্যুকে আর তোমার প্রস্থানের স্বর!

যেন যে ফড়িঙ দোয়েলের, যে ইঁদুর চিলের তাতে নেই কারো অনুযোগ— কিন্তু ইঁদুর, ফড়িঙের তো ঠিকই আছে ঘোরবিরোধ। ভাবি আমারও কি?

.৪.

যদি জলের শরৎ ঘনার দিনে শীত আসে, তবে নিয়ম ভেঙে যায়, মনে হয় অলৌকিক কোনো ধাঁধার পর্ব মেতেছে কোনো পথিকের সাথে— তোমার জানালার পথ থেকে যতদূর গ্যাছে পথ, আমি সে পথে হেঁটেই হয়েছি পথিক। চুড়ির শব্দ, কুমকুমের ঘ্রাণই আমার পথ নির্দেশক; আমি হেঁটে যাই সেসবের ইশারায়… কোনো এক ঘোরভেদি সন্ধ্যায় তোমার জানালায় গিয়ে টের পাই; এক সহজ সত্য!
‌‌‘তুমি সূর্য মেনে, আমি গাছ হয়ে প্রত্যহ হেলে যাই— কিন্তু গাছ তুমি মালিক বদলিয়েছ!‌‌’

.৫.

যেদিন প্রথম দেখি, পড়নে বাসন্তী রাঙা শাড়ি। যতটুকু আস্ফালন ও ডাকাডাকিতে ডাহুকের সর্বনাশ হয়, আমারও তাই হলো— আর প্রেম প্রবেশিকার প্রথম পর্বে প্যাঁচার স্বরে চমকে গেলাম দু’জন, মিহি কাজল রঙের সন্ধ্যা ছিল তখন! সেই সাঁজে পাখিরা কি ফেরেনি গান গেয়ে? উঠানের সেই লাল সবরি গাছটা, তোমার তিলের রাখতো যে খোঁজ, তার সাথে কি হয়নি দেখা আমার হররোজ—? আশ্চর্য যে কল্পতরু তোমার খোঁপায় গাঁথা, তার কি আর মনে আছে, সকল সন্ধ্যে কথা?

ডাঙার ভয় মাছের চিরকালীন; আমার প্রেমের— তাই
যত গতিকের আহাজারি। আর ফেলেই তো রেখেছি সমস্ত ভোঁতা অলোকরোদন, বিষণ্ণ মিনজিরি! আফসোস শুধু, তেঁতুলতলায় দাঁড়িয়ে থাকাটুকু, কালিসন্ধ্যার নামে দলিল হয়ে গ্যাছে—

.৬.

পুরো তিথিঙ্ক ভেবে নেবার পর, ভেবেছিলাম তোমার চাঁদবদনের সুকৌশল নিয়ে—নেশার মতো পরে থাকতো আমার চোখ ওদিকেই। দিন পেরুচ্ছে, রাত আসছে; তুমি দাঁড়িয়ে ঠায়, উঠানটায়, আমি মোহগ্রস্ত তখন তাকিয়ে থাকতেই! সেইসব শিরিষ-কাগজে ঢেলে আজ কেমন মুছে দিতে গিয়ে, ক্ষত হয়ে যায়, হৃদয়—!

আরো পড়তে পারেন

আরণ্যক শামছ-এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রান্তিক কবি আমি এক নির্জনে পড়ে থাকা প্রান্তিক কবি। যেন সমাজতাত্ত্বিক সীমারেখার শেষপ্রান্তে ঝুলে থাকা এক পরিত্যাক্ত পলিথিন ব্যাগ। এখানে লুকিয়ে রেখেছি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, ভগ্নস্বাস্থ্য, অসাম্য, অশিক্ষা ও মানুষের ছলাকলার ইতিহাস। আমি গাণিতিক ধারণার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অনস্তিত্বের অপ্রয়োজনীয় সংযুক্তি। তবে জিপসিদের মত আমিও দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিতে পারি। আমিও মাটির ঘ্রাণ থেকে জেনে নিতে….

আজাদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

সবুজ স্তন প্রচুর নেশা হলে দেখবেন— গাছগুলো বৃষ্টি, পাতার বদলে বব চুল, কী ফর্সা! তার বাহু, উরু ব্যাঞ্জনা, জলভারে নুয়ে আছে সবুজ স্তন। নেশা এমনই এক সদগুন যে, মাঝরাতে উড়ে উঠবে রাস্তাগুলো আকাশে মুখ দিয়ে আপনি বলছেন— আমাদের একটা পৃথিবী ছিল, ঠিক চাঁদের মত গোল। চুর পরিমাণ নেশা হলে, আপনার পা থেকে অহংকারী পাথর খসে….

গাজী গিয়াস উদ্দিনের একগুচ্ছ কবিতা

ক্লান্তির গল্প যারা উপনীত সন্ধ্যে বেলায় ফিরে দেখো দিন মলিন স্বপ্ন – ধূসর জীবন, প্রখর রোদের শায়ক ক্রীড়া প্রাচুর্যে আত্মহারা ছিলে স্বাধীন একদিন, পশ্চিম বেলা চেয়ে চেয়ে আজ শেষ করো ক্লান্তির গল্প।   ছড়ানো বিদ্রুপ সাপের চুমোতে কোথা বিষ হিংস্র নিশ্বাসে তোমার গরল বিশ্বাসে আমাকে পাবে জিয়ল সরল। রুক্ষতা ছেঁটে ফেল – চেহারা কমনীয় সব….

error: Content is protected !!