Author Picture

জহির খানের একগুচ্ছ কবিতা

জহির খান

বালু নদীর কথা

কি সব কথা তোমার সাথে কতোকাল আগে
পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা…
জলে সুরে সুখ শরীর দোলে
ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও
ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন
খুব নিরবে নিভৃতে
তখন
স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ
ট্রেনের বগিগুলোও চেয়ে থাকতো
এক অপলক দৃষ্টি নিয়ে তোমার দিকেই…

আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার
প্রতিদিন
তবু কত-শত প্রেমিক ঠাই নেয় তোমার বুকে
ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ

অতঃপর
যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয়
তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়
একদল হায়েনারা
গড়ে উঠে রাজ্যের সব দালান কোঠা
দখল প্রতিযোগিতা
নাকে তেল দিয়ে
সাধারণ মহোদয়
চলে শ্রমিক আন্দোলন
বালু তুমি মহান
কিছু সাদা ভাত
উঠে আসো আমাদের পেটে


সোশ্যাল ওয়ার্ক

রাত আর কতোই মমতা দেয় জড়িয়ে নেয় ঘুম
তবুও খুব করে ভালোবাসি তোকে- ভালোবাসি

স্তনের কুঁড়ি ফুটি ফুটি একটা ঘোর চুষে খাই
মায়ায় তোর কোমল ঠোঁটের স্মিত হাসি দেখি
গায়ে জড়িয়ে নিই গোলাপের সুগন্ধি কোলাহল

তুমিও খুব দেখো শরীরের আড়মোড়া মাতলামি
বিছানার চাদর বালিশও বুঝে নেয় যুগল চাহিদা
আহত ব্লাউজ ফেটে পড়ে বেড়িয়ে আসে ভোর
ডাষ্টবিনে পা বাড়ায় সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ট্রেড

এখন
উঠো সোনা অনেক সকাল হলো অফিসে যাও
ভালো থেকো চুমু আসো ধরো বাজারের লিস্ট


পরে কথা হবে

ফিরে আসো নীড়ে একটু ভালোবাসো- বাসো
বসো তমাল গাছের ছায়ায় বা ধানের নাড়ায়
দেখো মাটিতে জমে থাকা ঘাসেদের প্রেম দুধ
পোয়াতি ভোর কেটেকুটে দুধেভাতের সকাল

সকাল তুইও বড্ড অলস বারান্দায় বসে থাক
আমি বরং একটু দুপুর হয়ে আসি
পরে কথা হবে প্লিজ


তুমি
.
প্রতিদিন-ই লিখি তোমার নাম লিখি আমার শৈশব
মদ্রনালয়ে মুদ্রিত হয় হারানো শৈশব বার্ধক্য ইতিহাস
মুদ্রিত হয় বন্ধু পাওয়া এক দীর্ঘ কবিতা- কবিতা তুমি

লাউয়ের জালির মত করে বাড়ে গর্ভকালীন প্রেম
বেড়ে উঠে শরীরের ক্ষতচিহ্ন আমিও বেড়ে উঠি

প্রতিদিন ভুল বাল কতো কথা শিখি
তুমিও কি বলো?


অতঃপর একদিন চলে যাই

একদিন খুব করে নড়ে ওঠে
সবুজ পাতার টুপি
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নামে
আমার শহর জুড়ে

একদিন খুব করে উড়ে যায়
নীল রঙের ঘুড়ি
ম্লানমুখে রোদ আসে
সমস্ত আকাশ জুড়ে

একদিন খুব করে প্রার্থনারত
শাদা রেশমের পাঞ্জাবি
সুগন্ধি গায়ে জড়িয়ে
পাড়ায় পাড়ায় প্রেম

অতঃপর
একদিন টুপ করে চলে যাই
মসজিদে, মন্দিরে, গির্জায়…


বন্ধু

গেল তার সাথে কোন কাল সময়
কথা বলবো বলো তুমি
কি কথার স্রোতে ভেসে
যায় হে অতীত
এখন কই বন্ধু আমার?

বন্ধু
দারুণ সব সময় তোমার জন্য
অপেক্ষা…
প্লিজ একটু বসো পাশে বসো
শুনো
দেখো
কেউ দেখে কেউ সবে পড়ে থাকে
কেবল তার অতীতে…
এখন খুব করে কাটে দাগ
কোমল দেহের ভাঁজে
আর
এই সব লুকিয়ে একদিন কেউ
চিৎকার করে বলে উঠে
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি


যতিচিহ্নের রতি

চোখের ভাষার কোন দাঁড়ি কমা থাকতে নেই
এই থাকতে এইসব যাপনের যাত্রা কৌশলে
অমিয় বাগানে ঢোকা কিংবা তার স্বভাবের
অদৃশ্য এক কবিতা পাঠ মুগ্ধ করে আমাকে

এই আমি কখনো বনশ্রী কাতর না হই- কবিতা
হই তার উত্তর আধুনিক এক প্রজন্মের ফোরাম

নদী দেখি দেখি আমার এক ভিন্নচোখ
চিত্রনাট্য করি সোশ্যাল মেনারিজম

লোন হয় শতকের ঘর পোড়ায় জলের ছবি বন্ধু
ভুলে যেতে হয় তাই ভুল করি দাড়ি কমা কোলন


বিগলিত দৃশ্যপট

বুক পকেটে নিয়ে হাঁটি চৈত্রের দুপুর
দৃশ্যত এক কবিতা হবে প্রিয় সময়
তাহারা যাত্রার বিকেল হয়ে ফিরবে
বা নাই ফিরে আসুন আর এই তল্লাটে

দুপুরের সুমিষ্টঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ুক পাড়ায়
গলির মুখ থেকে বেড়িয়ে আসুক কবি
টিউব টাইপ সন্ধ্যায় নেমে আসুক পাহাড়

এখন
পাতারা ভুলে বসুক দীর্ঘ এক ছায়াশরীর
ফেকহী কিতাবাদী আলোর মুখ-

ধরে রাখি খা খা রোদ পরস্পরে


বিজুলী আলোক

যায় সেই আরো এই একটি নতুন পৃথিবীর মায়া
গায়ে পায়ে নিয়নের আলো পড়ে মনে পড়ে যাপন
মনে করে নেয় দেয় মায়ামেঘ ধুলিমাখা উঠোন

লাল এক দীর্ঘ চিন্তা উড়ে যায় সেই- আকাশ

কালোজামা পড়া বণিকের ফার্ম হাউজের চাপ
নিলাম হয় মানুষের ভিতরের মানুষ আর চিন্তা

একজোড়া ডায়নোসর বাবার পিঠে উঠে উঠুক
জল তৃষ্ণায় ক্লান্তিতে বেঁচে থাক- থাকুক মুখ

দিন মাস বছর কতো কথা বেঁচে থাকে তাহলে
এখন প্রমিথিউস তীব্র প্রতিবাদ হয় মানুষ হোক
বটবৃক্ষকে সামনে রেখে এগুতে পারি ঠিক ঠিক

আরো পড়তে পারেন

আরণ্যক শামছ-এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রান্তিক কবি আমি এক নির্জনে পড়ে থাকা প্রান্তিক কবি। যেন সমাজতাত্ত্বিক সীমারেখার শেষপ্রান্তে ঝুলে থাকা এক পরিত্যাক্ত পলিথিন ব্যাগ। এখানে লুকিয়ে রেখেছি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, ভগ্নস্বাস্থ্য, অসাম্য, অশিক্ষা ও মানুষের ছলাকলার ইতিহাস। আমি গাণিতিক ধারণার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অনস্তিত্বের অপ্রয়োজনীয় সংযুক্তি। তবে জিপসিদের মত আমিও দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিতে পারি। আমিও মাটির ঘ্রাণ থেকে জেনে নিতে….

আজাদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

সবুজ স্তন প্রচুর নেশা হলে দেখবেন— গাছগুলো বৃষ্টি, পাতার বদলে বব চুল, কী ফর্সা! তার বাহু, উরু ব্যাঞ্জনা, জলভারে নুয়ে আছে সবুজ স্তন। নেশা এমনই এক সদগুন যে, মাঝরাতে উড়ে উঠবে রাস্তাগুলো আকাশে মুখ দিয়ে আপনি বলছেন— আমাদের একটা পৃথিবী ছিল, ঠিক চাঁদের মত গোল। চুর পরিমাণ নেশা হলে, আপনার পা থেকে অহংকারী পাথর খসে….

গাজী গিয়াস উদ্দিনের একগুচ্ছ কবিতা

ক্লান্তির গল্প যারা উপনীত সন্ধ্যে বেলায় ফিরে দেখো দিন মলিন স্বপ্ন – ধূসর জীবন, প্রখর রোদের শায়ক ক্রীড়া প্রাচুর্যে আত্মহারা ছিলে স্বাধীন একদিন, পশ্চিম বেলা চেয়ে চেয়ে আজ শেষ করো ক্লান্তির গল্প।   ছড়ানো বিদ্রুপ সাপের চুমোতে কোথা বিষ হিংস্র নিশ্বাসে তোমার গরল বিশ্বাসে আমাকে পাবে জিয়ল সরল। রুক্ষতা ছেঁটে ফেল – চেহারা কমনীয় সব….

error: Content is protected !!