Author Picture

সার্ত্রের প্রত্যাখ্যান

এয়া

আধুনিক কালের দার্শনিকদের মধ্যে জাঁ পল সার্ত্রে এমন একজন মানুষ যাঁর কর্মকাণ্ডে সব সময়েই মনে হয়েছে তিনি কী করছেন বা না করছেন সে সম্পর্কে তিনি ভীষণভাবে নিশ্চিত। মানুষের চিন্তার জগতে তাঁর প্রভাবের কথা না হয় বাদই দিলাম। অস্তিত্ববাদ, মার্কসবাদ, প্রতিভাসবিদ্যা, এমন কী হালের পোস্টকলোনিয়াল থিওরি সম্প্রসারণে তিনি যা করেছেন তা অতুলনীয়। কিন্তু আমার মনে হয়, সার্ত্রের মধ্যে যে বিশ্বাসটা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছে সেটা হচ্ছে ব্যাড ফেইথের ধারণা। সার্ত্রের মতন একজন বাস্তবাদী নাস্তিক ধরণের মানুষ ফেইথ বা বিশ্বাস শব্দটা এমন ব্যবহার করবেন এটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এটা ভুলে গেলে চলবে না যে তাঁর মায়ের দিকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এক মামা ছিলেন, যিনি একাধারে আপাদমস্তক দার্শনিক এবং একই সঙ্গে লুথেরান মতবাদে বিশ্বাসী যাজক। সার্ত্রের এই মামা, আলবার্ট শোয়াইটজার পারিবারিকভাবে সবার খুব শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। যদিও তেমনভাবে জানা যায় নি এই ভদ্রলোকের প্রভাব সার্ত্রের ওপর কেমন ছিল। তবুও কেন যেন মনে হয়, নিজে ধর্মবিশ্বাসী না হলেও, ধর্মীয়ভাবে উদ্ভূত শব্দকে ব্যবহার করতে সার্ত্রের হয়ত বিশেষ আপত্তি ছিল না। যাই হোক, খুব সাধারণভাবে ব্যাড ফেইথের ধারণাটা হচ্ছে সামাজিক চাপে মানুষ তাঁর নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে। তখন সে একটা মিথ্যে বিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে নিজের জীবনটাকে চালিয়ে নেয়। এই মিথ্যা বিশ্বাসটা মানুষের অরিজিনালিটিকে শুধু যে নষ্ট করে দেয় তা-ই না, বরং মানুষকে এক ধরণের দাসত্বের শেকলেও বেঁধে ফেলে। তখন মানুষ নিজের অজ্ঞাতসারে এমনসব দাসসুলভ কাজ করে যেটা একসময় অভ্যেসে পরিণত হয়ে যায়। সার্ত্রের বিশ্বাস ছিল এই শেকলচাপা সামাজিক চাপটা আসে মূলত শাসক শ্রেণি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বুদ্ধিজীবী বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যারা সমাজের কাছে আইডল হিসেবে বিবেচিত। এই সমস্ত শক্তিধরেরা একধরণের বিশেষ আচার আচরণ, জাতীয়তাবাদ, বিশ্বাস, সর্বোপরি একটা কালচারকে প্রমোট করে যেটা সাধারণ মানুষ এক অর্থে বিনা প্রশ্নে গিলে নেয়।

সার্ত্রের বিশ্বাস ছিল এই শেকলচাপা সামাজিক চাপটা আসে মূলত শাসক শ্রেণি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বুদ্ধিজীবী বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যারা সমাজের কাছে আইডল হিসেবে বিবেচিত

সার্ত্রে সারাজীবন এ ধরণের দাসবৃত্তির বিরোধিতা করে গেছেন। আর এই কাজটা তিনি করেছেন অকপটে। এ কারণেই তাঁর যুক্তিকে কখনোই অতিপ্রাকৃত মনে হয় নি বরং মনে হয়েছে তিনি যা লিখছেন এ তারই প্রতিবিম্ব। তিনি সারা জীবনই যেকোনো ধরণের সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদানকৃত সম্মাননা বা পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন; এবং, সেসবের কারণ মাঝেমধ্যে চিঠি লিখেও লোককে জানিয়েছেন।

১৯৬৪ সালে নোবেল কমিটি তাঁকে নোবেল প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেন। সার্ত্রে খবরটা জানা মাত্রই প্রচণ্ড অস্বস্তিবোধ করেন। অনেকেরই হয়ত জানা নেই তিনি নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিলেন এবং সেই জন্যে ডাকযোগে একটা চিঠিও পাঠিয়েছিলেন নোবেল কমিটি বরাবর। কিন্তু সেই চিঠি পৌঁছনোর আগেই নাম ঘোষণা হয়ে গেল। সার্ত্রে পরে সাংবাদিকদের জানান কেন তিনি নোবেলের মত পুরস্কারকেও গ্রহন করতে চান নি। লেখকের স্বাধীনতা একটু হলেও খর্ব হয় এমন কিছুকে প্রশ্রয় দিতে তিনি রাজি নন এ কথা তিনি অকপটে আবার বললেন। এবং আরো বললেন যে, কাজটা তিনি বিনা সংকোচেই করেছেন। কোনো সরকার বা প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার নিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানের অংশ হয়ে যাওয়াকে তিনি মেনে নিতে পারেন না। তাঁর মতে লেখকের কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত না থেকে স্বাধীনভাবে লিখতে পারাটাই সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

মানুষ তাঁর মনের কথা কাজের মাধ্যমে দেখাতে পারেন না। অনেক বুদ্ধিজীবীও সেটা পারেন নি। তবে সার্ত্রে পেরেছেন। সার্ত্রের নিশ্চিত বিশ্বাস আমাদের অনুপ্রাণিত করে। সৃজনের পাঠকদের জন্যে সে চিঠির একটা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো। আপনারা চিঠি পড়ে কী ভাবছেন সেটা আমাদের জানালে খুবই আনন্দিত হবো।

‘আমি খুবই হতাশ যে ঘটনাটি একটি কলঙ্কের কিছু হয়ে গেছে- একটি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে, এবং আমি এটা প্রত্যাখ্যান করেছি। এটি সম্পূর্ণরূপে এই কারণে ঘটেছে যে আমাকে এই ব্যাপারে আগে থেকেই অবহিত করা হয়নি। সুইডিশ পত্রিকা ‘ফিগারো লিটারেয়ারে’ পড়ে সুইডিশ একাডেমির পছন্দের কথা আমি জানতে পারি, এবং এর মধ্যে কিছুটা ঝুঁকিও ছিল কারণ এটি তখনও নির্ধারিত ছিল না, আমি মনে করেছিলাম একাডেমিতে একটি চিঠি লেখার মাধ্যমে আমি বিষয়গুলি পরিষ্কার করতে পারি এবং সেখানে আর কোন আলোচনা হবে না, যা আমি পরের দিন সেটা প্রেরণ করেছি।
আমি অবগত ছিলাম না যে নোবেল পুরস্কার প্রাপকের মতামত ছাড়াই পুরস্কৃত করা হয়, এবং আমি বিশ্বাস করি যেটা ঘটেছে সেটা ঠেকানোর যথেষ্ট সময় ছিল। কিন্তু আমি এখন বুঝি সুইডিশ একাডেমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরবর্তীকালে সেটা আর প্রত্যাহার করতে পারবে না।
আমি একাডেমিকে আমার চিঠিতে ব্যাখ্যা করেছিলাম, আমার পুরস্কার অস্বীকার করার কারণ সুইডিশ একাডেমি কিংবা নোবেল পুরস্কার কোনটিই নয়, এর মধ্যে আমি দুটি কারণ উল্লেখ করেছিলাম: ব্যক্তিগত এবং বস্তুগত। ব্যক্তিগত কারণ হল এই: আমার অস্বীকৃতি কোন আবেগপ্রবণ ইঙ্গিত নয়, আমি সবসময় আনুষ্ঠানিক সম্মান অস্বীকার করেছি। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধের পর, আমাকে ‘লজিওন অফ অনার’ দেওয়া হয়েছিল, আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম, যদিও আমি সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলাম। একইভাবে, আমি কখনও কলেজ দে ফ্রান্সে প্রবেশ করার চেষ্টা করিনি, যদিও আমার কয়েকজন বন্ধু প্রস্তাব করেছিল।
আমার ধারণা এই মনোভাব লেখকের কর্মপ্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে। একজন লেখক, যিনি রাজনৈতিক, সামাজিক, বা সাহিত্য পদ গ্রহণ করেন সে কেবল যন্ত্রবৎ ব্যবহৃত হবে অর্থাৎ অন্যের মতামত তাকে মেনে নিতে হবে- আর এটাই লিখিত শব্দ। তিনি যে সব সম্মান অর্জন করবেন সে সব তার পাঠকদের একটি চাপের মুখোমুখি করে দিবে যা আমি পছন্দনীয় মনে করি না। যদিও নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত জাঁ পল সার্ত্রে হিসেবে সাইন করা আর শুধু জাঁ পল সার্ত্রে হিসেবে সাইন করা একই জিনিস নয়। লেখক যিনি এই ধরনের একটি সম্মান গ্রহণ করেন, তিনি নিজেও সেই সমিতি বা প্রতিষ্ঠান যারা তাকে সম্মানিত করেছেন তাদের সাথে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেন। ভেনেজুয়েলার বিপ্লবীদের প্রতি আমার সহানুভূতি কেবল আমারই, তবে জাঁ পল সার্ত্রে যদি নোবেলজয়ী চ্যাম্পিয়নও হন তবুও ভেনেজুয়েলার বিপ্লবীদের প্রতি আমার সহানুভূতি কেবল আমারই, তবে জাঁ পল সার্ত্রে যদি নোবেলজয়ী চ্যাম্পিয়নও হন তবুও ভেনেজুয়েলার প্রতিরোধের প্রতি তার সহানুভূতি তেমনই থাকবে।
লেখককে তাই একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিজেকে রূপান্তরিত করা অস্বীকার করতে হবে, এমনকি যদি এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে সম্মানজনক পরিস্থিতির সম্ভাবনা থাকে তবুও। এই মনোভাব অবশ্যই আমার নিজের, এবং যারা ইতোমধ্যে এই পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের সমালোচনা করার কিছু নেই। বেশিরভাগ বিজয়ীদের প্রতি আমার সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে, যাদের অনেকের সাথে পরিচয় থাকার কারণে নিজেকে আমার সম্মানিত মনে হয়’।

সার্ত্রে সম্পর্কে কিছু কথা

আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায় সব কিছুই পণ্য, এমন কি মানুষও। এই কথায় আপত্তি থাকতে পারে, কিন্তু ‘আন্ডার দা টেবিল’ এটাই এখনকার ট্যাগ লাইন; অর্থাৎ আমরা সবাই বিক্রেতা! পরিবার, মেধা, সম্মান, লজ্জা, শরীর বিকিয়ে দিই অর্থের সূচকে। জাঁ-পল সার্ত্রে বেঁচে থাকলে এই কথায় প্রতিবাদ করতেন সন্দেহ নাই। নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে বুঝিয়ে দিয়েছেন মানুষকে শুধু শারীরিক নয় আত্মিকভাবে বেঁচে থাকাও জরুরী।
সার্ত্রের কথায়- ‘বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমার দায়িত্ব চিন্তা করা, বাধাবিঘ্নহীন চিন্তা করা এমনকি ভুল করার ঝুঁকি নিয়ে হলেও। নিজের ভেতর কোনো সীমা আরোপ করতে পারব না এবং আমার জন্য কোনো সীমা আরোপ করতে দেয়া যাবে না।’ একজন প্রতিরোধকারী, অস্বীকারকারী, ভয়ংকর ও দূরদর্শী হিসেবে তিনি দুটো যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ফ্রান্সের গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের সুলুক সন্ধানের ভেতর দিয়ে নিজের ভূমিকা পালন শুরু করেন। জার্মানদের কাছে ফ্রান্সের পরাজয় ও দখলদারি ছিল তার জীবনের প্রথম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে আলবেয়ার কামু, ফ্রাঁসোয়া মরিসের পাশে রেনেসাঁর অন্যতম নায়ক হিসেবে অবস্থান নিয়েছিলেন সার্ত্রে। সোভিয়েত সরকারের চাপে বোরিস পাস্তারনাক ১৯৫৮ সালের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কিন্তু সার্ত্রেই স্বেচ্ছায় এই পরম পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে ইতিহাসের প্রথম লেখক হয়েছেন।
সার্ত্রে তার নানা সাহিত্যকর্মে, উপন্যাসে দেখিয়েছেন একটি সমগ্রের বিবেচনাহীনতার কাছে ব্যক্তিমানুষ কতই না অসহায়! তিনি মনে করেন, ব্যক্তি যদি তার অস্তিত্ব বিষয়ে সচেতন থাকে, তবে তাকে শোষণ করা সহজ নয়। চিন্তানায়ক এই মানুষটির জন্ম ফ্রান্সের প্যারিস শহরে, ১৯০৫ সালের ২১ জুন। নানা সময়ে সার্ত্রের যে লেখনীগুলো তাঁকে বিশ্বদরবারে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছে- এর মধ্যে রয়েছে ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সার্ত্রের প্রথম উপন্যাস ‘লা নাজি’, ‘দ্য মুর’, ‘ব্যারিওনা’ (প্রথম নাটক), ‘দ্য ফ্লাইজ’, ‘নো এক্সিট’, ‘দ্য এজ অব রিজন’, ‘দ্য রেসপেক্টফুল প্রস্টিটিউট’, ‘দ্য ভিক্টরস’, ‘দ্য চিপস্ আর ডাউন’, ‘ইন দ্য ম্যাস’, ‘ডার্টি হ্যান্ডস’, ‘ট্রাবলড পি’, ‘দ্য ডেভিল অ্যান্ড দ্য গুড লর্ড’, ‘কিন’, ‘দ্য কনডেমড অব আলটোনা’, ‘দ্য ট্রোজান ওম্যান’, ‘দ্য ফ্রড সিনারিও’ প্রভৃতি। আর এসবের বাইরে দার্শনিক যেসব প্রবন্ধ ও সমালোচনা দিয়ে সার্ত্রে বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন, তার মধ্যে রয়েছে ‘ইমাজিনেশন : এ সাইকোলজিক্যাল ক্রিটিক’, ‘দ্য ট্রানসেন্ডেন্স অব দ্য ইগো’, ‘স্কেচ ফর এ থিওরি অব দ্য ইমোশন্স’, ‘দি ইমেজিনারি’, ‘বিয়িং অ্যান্ড নাথিংনেস’, ‘এক্সিসটেনসিয়ালিজম ইজ এ হিউম্যানিজম’, ‘সার্চ ফর এ মেথড’, ‘ক্রিটিক অব ডায়ালেকটিক্যাল রিজন’, ‘এন্টি সেমাইট অ্যান্ড জিউ’, ‘বদলেয়ার’, সিচুয়েশন সিরিজ (ওয়ান টু টেন), ‘ব্ল্যাক অরফিউজ’, ‘দ্য হেনরি মার্টিন অ্যাফেয়ার’ প্রভৃতি।
অবশেষে ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতা এবং শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ১৯৮০ সালের ১৫ এপ্রিল ৭৪ বছর বয়সে জন্মস্থান প্যারিসেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান দার্শনিক, চিন্তানায়ক।

আরো পড়তে পারেন

একাত্তরের গণহত্যা প্রতিহত করা কি সম্ভব ছিল?

২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতির স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে মুছে দিতে পাকিস্তানি নরঘাতকেরা যে নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ওই এক রাতেই শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় প্রায় তিন হাজার। এর আগে ওই দিন সন্ধ্যায়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনা একতরফাভাবে….

ভাষা আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা

আগের পর্বে পড়ুন— চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল) ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের সাম্রাজ্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ও একটি সার্থক গণআন্দোলন। এই গণআন্দোলনের মূল চেতনা বাঙালী জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ হলো দেশপ্রেম থেকে জাত সেই অনুভূতি, যার একটি রাজনৈতিক প্রকাশ রয়েছে। আর, বাঙালি জাতিসত্তাবোধের প্রথম রাজনৈতিক প্রকাশ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে দুই হাজার মাইল দূরত্বের….

চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল)

আগের পর্বে পড়ুন— বায়ান্নর ঘটনা প্রবাহ একুশের আবেগ সংহত থাকে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দেও। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান এক বিবৃতিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। আওয়ামি লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম কমিটির সদস্য যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র….

error: Content is protected !!