Author Picture

রাজীব সরকারের জন্মদিনে হাসনাত আবদুল হাই ও আনিসুল হকের শুভেচ্ছা মন্তব্য

হাসান সাইদুল

লেখার ভঙ্গি সরল কিন্তু লক্ষ্যভেদী
হাসনাত আবদুল হাই

আমাদের সাহিত্যে মননশীল লেখা সংখ্যায় অনেক কম, বেশি পিছিয়ে আছে। এর একটা কারণ মনে হয় পঠন-পাঠনের সীমাবদ্ধতা। দ্বিতীয় কারণ, মৌলিক চিন্তা করতে যে পরিশ্রম প্রয়োজন তার প্রতি অনীহা। বয়স হিসেবে রাজীব সরকারকে নবীনই বলতে হয়। কিন্তু অল্প বয়সেই সে মননশীল লেখায় তার আন্তরিকতা ও মেধার পরিচয় দিয়েছে। সম্প্রতি তার লেখা দুটি প্রবন্ধের বই পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। এতো স্বল্প কলেবরে বুদ্ধদেব বসুর মতো বহুমুখী লেখকের ওপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা কেউ করেছেন বলে আমার জানা নেই। রাজীব সরকারের  ‘সাহিত্য ভাবনায় সেকাল একাল’ -বই এ রয়েছে বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল থেকে হাসান আজিজুল হকের ওপর আলোচনা। তার লেখার ভঙ্গি সরল কিন্তু লক্ষ্যভেদী। পড়তে যেমন অসুবিধা হয় না, একই সঙ্গে বক্তব্য বোঝা যায় সহজেই। আমাদের দীন প্রবন্ধ সাহিত্যে রাজীব সরকারের মননশীল লেখা উল্লেখযোগ্য সংযোজন। আজ রাজীব সরকারের জন্মদিন। এ দিন উপলক্ষে তার প্রতি রইলো পুষ্পিত শুভেচ্ছা।

রাজীব সরকার এক উজ্জ্বল লেখকের নাম
আনিসুল হক

রাজীব সরকার এক উজ্জ্বল লেখকের নাম। মেধাবী নিষ্ঠাবান ও অধ্যয়নশীল। সমকালীন স্বদেশ ও বিশ্বের তিনি এক অভিনিবিষ্ট পাঠক। তার দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণময়, তার পর্যবেক্ষণ সুক্ষ্ম ও সংবেদী। তার ভাষা গতিময়, প্রাণবন্ত। তিনি কেবল ওপর ভাষায় কথা বলেন না। বিষয়ের গভীরে আলো ফেলবার চেষ্টা করেন। আমাদের স্বদেশ ও সমাজ নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন। তার সেই ভাবনাগুলোর প্রতিফলন ঘটে তার লেখাগুলোয়। তার লেখা বইগুলো যেমন সুপাঠ্য, তেমনই চিন্তা উদ্রেককারী। তার প্রধান গুণ রম্যতা। হাস্যরস, সূক্ষ্ম কৌতুকবোধ, পরিহাসপ্রিয়তা প্রতিভাবান লেখকমাত্ররই গুরুত্বপূর্ণ রসদ।
আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে যে কজন প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক রয়েছেন তাদের মধ্যে রাজীব সরকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ। তার লেখায় প্রাসঙ্গিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ঐতিহ্যেরও স্পর্শ পাওয়া যায়। যারা তার লেখনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন ঠিক তারা তা অনুধাবন করতে পারবেন।
বহুগুণের অধিকারী লেখক প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক রাজীব সরকারের জন্মদিন আজ। জন্মদিনে তার সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। একই সঙ্গে তার সাহিত্য জীবন আরও সুস্থ ও সুগম হোক, পাঠকের কাছে তার লেখার মধ্যেই সে বেঁচে থাকবে বহুকাল এটাই প্রত্যাশা করি। শুভ জন্মদিন রাজীব সরকার।


গ্রন্থনা: হাসান সাইদুল

আরো পড়তে পারেন

একাত্তরের গণহত্যা প্রতিহত করা কি সম্ভব ছিল?

২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতির স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে মুছে দিতে পাকিস্তানি নরঘাতকেরা যে নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ওই এক রাতেই শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় প্রায় তিন হাজার। এর আগে ওই দিন সন্ধ্যায়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনা একতরফাভাবে….

ভাষা আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা

আগের পর্বে পড়ুন— চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল) ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের সাম্রাজ্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ও একটি সার্থক গণআন্দোলন। এই গণআন্দোলনের মূল চেতনা বাঙালী জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ হলো দেশপ্রেম থেকে জাত সেই অনুভূতি, যার একটি রাজনৈতিক প্রকাশ রয়েছে। আর, বাঙালি জাতিসত্তাবোধের প্রথম রাজনৈতিক প্রকাশ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে দুই হাজার মাইল দূরত্বের….

চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল)

আগের পর্বে পড়ুন— বায়ান্নর ঘটনা প্রবাহ একুশের আবেগ সংহত থাকে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দেও। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান এক বিবৃতিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। আওয়ামি লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম কমিটির সদস্য যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র….

error: Content is protected !!