Author Picture

শতভাগ যৌনশিল্প বিষয়ে লেখার আনন্দ পেতে চাই

কাউসার মাহমুদ

জেফ্রি চসার থেকে হলিংহার্স্ট পর্যন্ত প্রায় সব লেখকই যৌনতা বিষয়ে বলেছেন যে, ‘যৌনতা আমাদের আবেগ, প্রবৃত্তি এবং নৈতিকতা প্রকাশ করে।’ এ নিয়ে লেখক গ্যারেথ গ্রিনওয়েলের প্রশ্ন, ‘কেন যৌনতা নিয়ে না লিখে অন্য কিছু নিয়ে লিখেন?’

ইংরেজি ভাষার লেখকদের দৃঢ় বিশ্বাস ‘যৌনতা বিষয়ে খুব ভালোভাবে লেখা একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার। অথবা, অন্ততপক্ষে অন্যান্য বিষয় থেকে এ নিয়ে আলাদা করে লেখা বেশ দুরূহই বটে।’ আমি একবার প্রখ্যাত এক লেখককে বলতে শুনেছি, যিনি ‘আইওয়া রাইটার্স ওয়াার্কশপে’ যৌনতা সম্বন্ধে আলাপ করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন ‘‘যৌনতা বিষয়ে একটি যথাযথ বাক্য এরকম হতে পারে, ‘তারা সোফায় বসলো এবং…। অর্থাৎ পরবর্তী শূন্যস্থানের প্রতি ইঙ্গিত। তার এই মনোভাব এক ধরনের কুসংস্কার। যেটা আমি একদমই বুঝতে পারি না। আসলে ইংরেজি ভাষার লেখক হওয়ার অন্যতম গৌরব হলো আমাদের পূর্ববর্তী মহান প্রতিভা দুটি
জেফ্রি চসার এবং শেক্সপীয়র। এরা যৌন দেহ সম্পর্কে এমন বিস্তৃত, প্রাচুর্যপূর্ণ করে লিখেছেন, সাহিত্যের জন্য যা অমূল্য এক আবেদন এবং তা নিয়ে এসেছে বিপুল এক শব্দভান্ডারও। যেখানে অভূতপূর্ব চার অক্ষরের সে-সব শব্দ সমূহের অন্তর্ভুক্তিতে সমৃদ্ধ আমাদের সাহিত্য ভাষার জমিন। এ এক মহান উপহার অন্য ভাষায় যেটা নেই। যেমন, একবার এক অনুবাদক আমার কাছে অনুযোগ করেছেন যে, ‘তার ভাষায় কেবলমাত্র ডাক্তারের চেম্বার বা নিতান্ত অশ্লীলতায় ব্যবহৃত রচনাশৈলীই ছিল। যেগুলো কবিতা বা শিল্পে অনুভব করা যায় না।’

কিন্তু এমন কথা কীভাবে বলা যেতে পারে যে, মানব জীবনের একটি প্রধান ক্রিয়াকলাপ, অনুভূতি ও দৃশ্যকাব্য শিল্পের সীমার বাইরে! আদতে যৌনতা একজন লেখকের স্বতন্ত্র একটি হাতিয়ার। যা কেবল চরিত্রের প্রকাশ বা সম্পর্ক অন্বেষণই নয় বরং মানবসত্তা সম্বন্ধে বৃহৎ প্রশ্নও করে।

কথাসাহিত্যে যৌনতার শক্তি অন্বেষণের ক্ষেত্রে অনুভব করেছি যে খুব বেশি এগুয়নি আমি। তাই আমি আমার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ক্লিন্নেসে’ আরো বেশি এগিয়ে যাবার চেষ্টা করেছি। এর দুটি অধ্যায়েই যতদূর পারা যায় যৌনতা সম্বন্ধে স্পষ্ট করে বলতে চেয়েছি। মূলত আমি দেখতে চেয়েছিলাম যে, আমি এমন কিছু লিখতে পারি যা শতভাগ অশ্লীল ও একই সাথে শতভাগ শিল্পোত্তীর্ণও হতে পারে

এই হাতিয়ারের প্রয়োজনীয়তা লুকিয়ে আছে পরস্পর আবদ্ধ কিছু বৈপরীত্যে। মূলত, যৌনতা হলো একটি তীব্র দুর্বলতার অভিজ্ঞতা। এছাড়াও এটি হচ্ছে সে জায়গা যেখানে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতায় থাকি। তাই বাস্তবিকভাবে একইসাথে এটি আমাদের নিকটে এবং দূরে। প্রকৃত যৌনতা অবচেতনেই আমাদেরকে নিজস্ব সংবেদন, শারীরিক এবং মানসিক অনুভূতিতে আপতিত করে। এমনকি যখন আমরা অত্যন্ত যত্ন ও সচেতনতার সাথে অন্যের অভিজ্ঞতা পরখ করি তখন এটা আরো বেশি চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে। যেখানে অন্য কোন ক্রিয়াকলাপে একইসাথে শারীরিক এবং মানসিক অভিব্যক্তি আমরা একে অপরের কাছে সমর্পণ করি বলে আমি মনে করি না। ঠিক একইভাবে, এই তীব্র উপলব্ধি ও আনন্দযজ্ঞ অন্য কোথাও আছে বলে আমরা মনে করি না; যেখানে, আমরা আমাদের দেহ ও আমাদের দেহকে অতিক্রম করতে পারে এমন কিছু আছে বলে বিশ্বাস করি। আর তাই যৌনতা সম্বন্ধে আমাদের লেখাটি একেবারে তীব্র বর্ণনামুলক এবং বিস্তৃত দার্শনিকসুলভ হতে পারে। আদতে, কিছুই আমাদের খুব প্রবলভাবে প্রকাশ করে না। এমনকি তা শারীরিকভাবেও নয়; যদিও এটি তাৎপর্যপূর্ণ নয়। অধিকন্তু এর বাইরে নৈতিকভাবেও আমাদের বেশি কিছু প্রকাশ করে না। দেখা যায়, স্বার্থপরতা ও উদারতা, নিষ্ঠুরতা ও কোমলতা এবং সাহস বা ভীরুতায় আমার সঙ্গী ও নিজের মধ্যে যৌনতার চেয়ে বেশি কোথাও সচেতন নই আমি। শেষাবধি, যৌনতা আমাদের পৃথক প্রাণী ও প্রকৃতির সংস্পর্শে রাখে এবং নির্দিষ্ট স্থান ও সময় দ্বারা প্রভাবিত হয়। আমেরিকান শহরতলিতে যৌনতা এবং পশ্চিম ইউরোপের কোন একটি এপার্টমেন্ট ব্লকের মধ্যে যৌনতা এক নয়। এছাড়াও যৌনতার দৃশ্যগুলো মানুষের সামাজিক ও ঐতিহাসিক গতিধারাকে তুলে ধরতে বড় ভূমিকা পালন করে; মূলত, সেটিই পার্থক্য তৈরী করে দেয়। বললে এর সমস্ত ধরেই বলতে হয় যে, যৌনতা মানবতার একধরনের অগ্নিপরীক্ষা। সুতরাং প্রশ্ন এটা নয় যে, ‘কেন কেউ যৌনতা সম্বন্ধে লিখবে?’ বরং প্রশ্নটি হলো, ‘কেন কেউ অন্য কিছু সম্পর্কে লিখবে?’

আর হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি যে, ‘কেন আমরা যৌনতা সম্বন্ধে লিখি!’ তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে অবাক করার মতো ব্যাপারটি ঘটেছে আমার প্রথম উপন্যাস ‘হোয়াট বিলংস টু ইউ’ প্রকাশের সময়। অর্থাৎ, স্বাভাবিকভাবে কোন একটি বইয়ের ভেতর যে পরিমাণ যৌনতার উল্লেখ থাকলে, মানুষ সে সম্বন্ধে কথা বলতে চায় তারচেয়েও অনেক কম ছিল এর ভেতর। সাকুল্যে বইয়ের চরিত্রগুলোর মাঝে মাত্র দুই থেকে তিনটা যৌনদৃশ্য ছিল। এতেই কিনা বইটি অনেক বেশি সমালোচনার সম্মুখীন হয় এবং একটা মূলধারার প্রকাশনী সম্পর্কে ২০১৬ সালে কিছু অত্যুক্ত মন্তব্যই করা হয়। যে কারণে আমি মনে করি, এসব মন্তব্যগুলো আমার বই সম্পর্কে যা করেছে তারচে বেশি অসম্মান করেছে প্রকাশনীর। আসলে, কথাসাহিত্যে যৌনতার শক্তি অন্বেষণের ক্ষেত্রে অনুভব করেছি যে খুব বেশি এগুয়নি আমি। তাই আমি আমার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ক্লিন্নেসে’ আরো বেশি এগিয়ে যাবার চেষ্টা করেছি। এর দুটি অধ্যায়েই যতদূর পারা যায় যৌনতা সম্বন্ধে স্পষ্ট করে বলতে চেয়েছি। মূলত আমি দেখতে চেয়েছিলাম যে, আমি এমন কিছু লিখতে পারি যা শতভাগ অশ্লীল ও একই সাথে শতভাগ শিল্পোত্তীর্ণও হতে পারে।

কিন্তু এটা এমন নয় যে, আমি মনে করি, ‘স্পষ্টবাদিতা’ আবশ্যকরূপে আকর্ষণীয় হওয়া প্রয়োজনীয় না।
আর ইন্টারনেটকে ধন্যবাদ যে, আমাদের সংস্কৃতি স্পষ্টবাদিতায় ছেয়ে গেছে। অথচ তবুও আমরা শরীরী প্রতিনিধিত্বের অভাবে ভুগছি। যেটা দ্বারা আমি এমন শরীরকে বোঝাতে চাইছি যেটা সচেতনতার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত। আমি অশ্লীলতা বিরোধী নই। কিন্তু কখনো কখনো এটি পর্দায় রাখা শরীর থেকে ব্যক্তির ব্যক্তিসত্ত্বাকে মুছে ফেলে এবং প্রায়শই আমরা তাদের মুখাবয়ব ঠিকঠাক দেখতে পাই না। প্রায়ই তারা একক নাট্য-অনুভূতি, প্রয়োজন ও আনন্দ বেদনার উপস্থাপন করেন।

যখন আমি পর্নোগ্রাফি এবং শিল্পের মধ্যে রেখা টানার প্রতিরোধ করি; তখন যদি কোনও পার্থ্যকের প্রস্তাব দিতে বাধ্য করা হয় তাহলে আমি বলতে পারি যে, প্রচারের মতো পর্নোগ্রাফি আমাদের কোন একটি জিনিস অনুভব করাতে চায়। আর শিল্প জিনিসটাই উল্টো, সম্পূর্ণ বিপরীত, দ্বিধাহীনতা এবং অস্পষ্টতার তৈরি। এটি কখনোই আমাদের নির্দিষ্ট কোন জিনিস অনুভব করাতে চায় না

যোগাযোগ সচেতনতার জন্য সাহিত্য আমাদের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়। যৌন বিষয়ে লেখার জন্য যা আমাকে উদ্দীপ্ত করে তা নিজেই ব্যাখ্যাযোগ্য নয়; কিন্তু এই স্পষ্টতাও আমার রচনাশৈলীর বিশেষ এক ধরনের বাক্যের সংমিশ্রণ যেটার প্রতি আমি আকৃষ্ট করি। একটি বাক্য একটি ইতিহাসের চিহ্নের সাথে (সম্ভবত ১৬ এবং ১৭ শতকের অসম্ভব রকমের অন্তর্মুখী ইংরেজি গদ্যকার প্রাউস্ট এবং জেমসের মাধ্যমে উলফ এবং সেবেলডের কাছে) পাওয়া যেতে পারে। এটি একেবারে বিস্তৃত এবং পুনরাবৃত্তকারী এমন একটি বাক্য যা সামনে ডুবে গেছে। কিন্তু পুনরায় প্রশ্নে ফিরে এসে নিজেকে সংশোধনও করে। মূলত, অন্তরঙ্গতা তৈরির জন্য এবং যা ভাবি সেটিকে বইয়ের পাতায় তুলে ধরার জন্য আমি এটিকে প্রযুক্তি মনে করি। ‘ক্লিননেস’ লেখার সময় আমি বিষয়টি বের করার চেষ্টা করেছিলাম যে, যখন প্রযুক্তিটি বিভিন্ন ধরনের সেক্সের ক্ষেত্রে তথা, কোমল ও পাশবিক, অন্তরঙ্গ বা অব্যক্তিক, আনন্দময় এবং বিমূর্ত-রূপে প্রয়োগ করা হয় তখন কি ঘটতে পারে? আর তাতে আমি অনুভব করেছি যে, এখানে সাহিত্যের একটি হস্তক্ষেপ হতে পারে। যেখানে এটি ‘যৌনদেহ’কে চেতনা হিসেবে দাবী করতে পারে।

যখন আমি পর্নোগ্রাফি এবং শিল্পের মধ্যে রেখা টানার প্রতিরোধ করি; তখন যদি কোনও পার্থ্যকের প্রস্তাব দিতে বাধ্য করা হয় তাহলে আমি বলতে পারি যে, প্রচারের মতো পর্নোগ্রাফি আমাদের কোন একটি জিনিস অনুভব করাতে চায়। আর শিল্প জিনিসটাই উল্টো, সম্পূর্ণ বিপরীত, দ্বিধাহীনতা এবং অস্পষ্টতার তৈরি। এটি কখনোই আমাদের নির্দিষ্ট কোন জিনিস অনুভব করাতে চায় না। আমি যদি পাঠককে নির্দিষ্ট কোনো দৃশ্যে জাগ্রত করতে চাই, তাহলে এটাও চাই যে তারা এই উত্তেজনায় বিচলিত হোক। এটা নিয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুক, তদন্ত করুক এবং আরো জটিল আনন্দের মাধ্যমে প্রেরণা অর্জন করুক।

আর আমার অন্তর্গূঢ় বিশ্বাসের একটি হল, ‘শিল্পীর কি ধরনের শিল্প তৈরি করা উচিত তা কেউ বলতে পারবে না।
এর মানদন্ডও কেউ নির্ধারণের অধিকার রাখে না।’
আমি মনে করি না যে, যৌনতা সম্পর্কে লেখার একটা দায়বদ্ধতা আমার আছে, তবে এই প্রচেষ্টা সম্পর্কে আমি একটি নির্দিষ্ট আবশ্যিকতা অনুভব করি। এবং এই তাৎপর্যের অংশ হিসেবে আমাকে একজন সমকামীকে পর্যবেক্ষণ করতে হয়েছে। অ্যালান হলিংস্টসের ১৯৯৯ এর উপন্যাস ‘দ্য স্পেল’এর অখ্যাত একটি পর্যালোচনায় জন আপডাইক সমকামিতার প্রতি উদাসীনতা সম্পর্কে একটি তর্ক তুলেছিলেন এবং নিষিদ্ধ সমকামিতার আচার-অনুষ্ঠান ও সামাজিক অবস্থানের বিপক্ষে আপডাইক লিখেছিলেন, ‘নারী-পুরুষের যৌনতা বিষয়ে যেসব উপন্যাস আছে সেগুলো সাধারণত স্বার্থপরতা, সামাজিক দুর্ঘটনা, বোকামি, বাড়াবাড়ি এবং স্ফীত শারীরিক বিবরণ বৃদ্ধির তুলনায় ক্ষুদ্র ও ভিন্নধর্মী অংশীদারত্বের, প্রজাতির স্থায়িত্ব এবং পরিবারের প্রাচীন ধর্মনিষ্ঠ কাঠামোর সাথে জড়িত।’

১৯৯৯ থেকে পৃথিবীর চালচিত্র বদলে গেছে। একই সাথে বিশ্বের সবচেয়ে সভ্য অংশে যেসব সমকামী রয়েছেন তাদের কাছে চিরায়ত এবং ধর্ম সমর্থিত পরিবারের ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগও রয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে সমকামিতা প্রচলিত পরিবার ব্যবস্থার সাথে খাপ খায় না এবং তা এখনও অবজ্ঞার সাথে দেখা হয় বলে আপডাইক বলেন যে, ‘এটি এখনও অনৈতিক হিসাবেই রাখা হয়েছে।’ তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে আমার বই দুটিতে আমি যা করতে চেয়েছি তার একটি হলো, সমকামী পুরুষদের সম্পর্কে বলা তথা সমকামী সম্পর্কটি; হোক সেটি বহুগামী বা কোন বিশেষ ব্যক্তির সাথে। নির্দিষ্ট কোন পার্টনার বা অবিচ্ছিন্নভাবে, অথবা স্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী। এবং ঠিক যেভাবে তারা আমাদের সামাজে আছে, মানসিকভাবে সমৃদ্ধ, আবেগ ও নৈতিক মূল্যবোধপূর্ণ মর্যাদার অধিকারী বা যেমনই হোক।
তাছাড়া, মৌলিকভাবে কিছু লেখার জন্য এবং সেটিকে শিল্প বানাতে প্রথমে তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে হয়। এমনকি আমাদের সম-বিবাহের যুগেও যখন সংস্কৃতি হিসেবে আমরা সমকামিতা সম্পর্কে আলাপ করি তখনও আমাদের সমাজে সমকামীদের যৌন দেহকে তুচ্ছ করা হয়। তাই যৌন শরীর সম্পর্কে কেবল স্পষ্টতর লেখা নয় বরং সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সমস্ত সংস্থান নিয়ে এমনভাবে এটিকে লিখতে হবে যে, এর সৌন্দর্য এবং ভাবমূর্ছনা আমাদের সম্মুখে তুলে ধরা হয়। আমি বিশ্বাস করি, এভাবে লেখাই যৌনতার দেহটিকে ভালোবাসার মাধ্যম। আর এটিই যৌনতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তর্ক না করে এর প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা এবং প্রচার করার উপায়। এবং শিল্পই এটিকে অবমুক্ত করে এর অদ্ভুত চমৎকার উপস্থাপনে উচ্চতর ও মহান সম্মান প্রদান করতে পারে।


তথ্যসুত্র : https://www.theguardian.com/books

আরো পড়তে পারেন

একাত্তরের গণহত্যা প্রতিহত করা কি সম্ভব ছিল?

২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতির স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে মুছে দিতে পাকিস্তানি নরঘাতকেরা যে নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ওই এক রাতেই শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় প্রায় তিন হাজার। এর আগে ওই দিন সন্ধ্যায়, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সমঝোতা আলোচনা একতরফাভাবে….

ভাষা আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা

আগের পর্বে পড়ুন— চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল) ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের সাম্রাজ্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ও একটি সার্থক গণআন্দোলন। এই গণআন্দোলনের মূল চেতনা বাঙালী জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ হলো দেশপ্রেম থেকে জাত সেই অনুভূতি, যার একটি রাজনৈতিক প্রকাশ রয়েছে। আর, বাঙালি জাতিসত্তাবোধের প্রথম রাজনৈতিক প্রকাশ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে দুই হাজার মাইল দূরত্বের….

চূড়ান্ত পর্যায় (১৯৫৩-১৯৫৬ সাল)

আগের পর্বে পড়ুন— বায়ান্নর ঘটনা প্রবাহ একুশের আবেগ সংহত থাকে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দেও। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান এক বিবৃতিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। আওয়ামি লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম কমিটির সদস্য যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র….

error: Content is protected !!