Author Picture

ফয়সল নোই’র একগুচ্ছ কবিতা

ফয়সল নোই

এক বর্ষা সন্ধ্যায় আজিজ মার্কেটের ঘটনা

বারান্দা ছেড়ে ছোট্ট নর্দমা সৌখিন এক লাফে পার হয়ে
শেষ-মেশ একটি রিকশা পেয়ে গেল মেয়েটি;
আঁধার বৃষ্টির সন্ধ্যা মাঝ পথে ক’ফোটা বৃষ্টি ধন্য হলো
তাকে ছুঁতে পেরে !
… পিছে ভুত-চোখে চেয়ে আছে মুগ্ধ আজিজ মার্কেট
দোকানের বইগুলো সুখে আছে আজ,
জড়াজড়ি করে শুয়ে আছে র্যাকে।
ঝড়-বর্ষার রাত, শাহবাগে বন্ধুরা কেউ নেই।
মেসে ফিরে যেতে আজ ভয়ঙ্কর মেনহোল,
গোড়ালি ডোবা নর্দমা-চুপচুপে শার্ট-পাজামা-
প্রথমেই সিগ্রেটসহ চা,
মায়া হবে নিঃসঙ্গ আজিজ মার্কেট
একটি রিকশা শেষ-মেশ পেয়ে গেল মেয়েটি
যে এই অপূর্ব রঙিন বর্ষা সন্ধ্যায়
তাকে লেক সার্কাস নিয়ে যেতে রাজি ।

 

অনুমান

অদৃশ্য কুল ঘেষে যে তটিনীর
অনুপম ঢেউ গোপনে
বেদনা জাগায় অধিকৃত জলে;
ভরা কাটালের কণ্ঠে, সুরে
অকল্পনীয় পাতাল আসে কাছে।
অথবা যে নিজেই নাগিনী ?
নিজেই বাজায় বীণ গোপনে ?
আমি তার লুকানো বাঁশি
লুকানো ফনা, লুকানো মনি
ফিসফিস কানাকানি,
ঢেউ, তানপুরা, অনুমান করি।

 

বেগুনীবিদ্যুৎ দৌঁড়

দেখছি মেঘের বুকে
বেগুনীবিদ্যুৎ দৌঁড়
জতুঘর ছিড়ে ধুলোর হৃদয়ে ওড়া
সব নারী-
জনারণ্যভেদী
যথেষ্টই অনাবৃত তোমার
দোঁআশ শরীরের
কাঁদা জলে,
পঙ্কিল দুই’পা
সঙ্গী করে বণিক পুরুষ
এ কার ফলনশীল আঙ্গিনায়
ভরা ভাদরের নদী নাচে !
আদীবাসি জন্ম নিয়ে
কেউ আজ শংকরে
পর্যাবৃত্ত হয় !

 

বন্ধু

আমি ভেবেছিলাম সে অন্যজন
যার সাথে দেখা হবে বহুদিন পর লুম্বিনী গ্রামে
আমাদের বাড়ির পাশে পুকুরের পাড়ে
শিরিষ গাছের তলায় বসে কথা বলবো
দুপুরের পর, রুইয়ের ঝোল দিয়ে ভাত খাবো
মায়ের রান্নার প্রশংসা করবে তুমি
বলবে তোমার মায়ের কথা
বাল্যকালের কথায় স্মৃতিকাতর তোমাকে
কিছু বলতে না পেরে হাত ধরে থাকবো অনেক্ষণ

 

সুঘ্রাণ

পিতা তার সূত্র ধরে মাটিতে নামান
হারানো ঘুড়ি। অথবা পুত্রই এসেছে কাছে
বন্ধু যার দিয়েছে সন্ধান, অনির্দিষ্ট দুঃখে।
মুষ্ঠিতে নতুন আঙুল, ভিক্ষার চাল, কোমল রৌদ্র
পায়ে পায়ে ভিড়, স্বপ্ন থেকে দূরে
হারানো স্বপ্ন ঘুরপাক খায়—
না শোনা সংগীতে। বিস্মৃত মানুষের নাম
যেন সুঘ্রাণ, জীবন থেকে সৌভাগ্য উড়ে যায়!
বনস্পতি মন ফিরে ফিরে পায় তামাদি খামার
পুরানা সন্ধ্যায়, ক্ষেত্র দেবীর রূপে

 

কৃষক জনম নিয়ে

নষ্ট বীজ ঊষর মাঠে ছড়াই দু’হাতে
কৃষক-কৃষক খেলা যত দিন বাঁচি
লবন গোলা জল খেয়ে মাতাল সারা বেলা
লাঙ্গল চষি, কেলানো দাঁতে হাসি হয়ে থাকি
পেটাই গরু চড়ানো লাঠিতে
ফুলে ওঠা অসুস্থ সাপের মতো
পাক বেঁধে গর্তে শুয়ে থাকি
মাঝে মাঝে ঝলসাই পূর্ণিমায়

 

বাসনা

পাহাড়ে প্রতিবিম্ব হবে– নির্জন সন্ধ্যায় ভাই বোনদের সে চিৎকার করে ডেকে নিবে
নাম ধরে , সাথে ছুটে আসে সঙ্গীনি, সন্তান, রাহুল ও যশোধরা লুম্বিনী গ্রামে।
তথ্যসূত্র ছিল না কোন শুদ্ধোধনের ছেলে; উত্তর থেকে মৌসুমী বাতাস ঘুরপাক খাবে
সেই ছিল ভরসা, না বলা কথা ইঙ্গিতে বুঝে নিবে পর্বত থেকে নেমে আসা অসীত সাধু।
শ্রমণ আন্দোলনের আগে তার সাথে দেখা হোক প্রাসাদ ত্যাগের অভিজ্ঞতা, দেখা হোক
বৃদ্ধ, অসুস্থ, মৃত ও জীবিত সন্যাসীর সাথে। অস্বীকার করে নিক দুঃখ ও তার কারণ এবং
নিবারণ ভেদে অপারগ নেতাদের !
খেয়ে নাও সুজাতার ঘরে। সুরাহা করে দাও রোহিনী নদীর বিবাদ। কুশীল নগরের পথে
শালের ছায়ায় তোমার অপরূপ মায়া। গৃহত্যাগী জ্যোৎস্নায় বসে বলো, ভীড় করে শুনি-
মানুষের বিনাশ ও মুক্তি সংগ্রামের কথা।

আরো পড়তে পারেন

আরণ্যক শামছ-এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রান্তিক কবি আমি এক নির্জনে পড়ে থাকা প্রান্তিক কবি। যেন সমাজতাত্ত্বিক সীমারেখার শেষপ্রান্তে ঝুলে থাকা এক পরিত্যাক্ত পলিথিন ব্যাগ। এখানে লুকিয়ে রেখেছি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, ভগ্নস্বাস্থ্য, অসাম্য, অশিক্ষা ও মানুষের ছলাকলার ইতিহাস। আমি গাণিতিক ধারণার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অনস্তিত্বের অপ্রয়োজনীয় সংযুক্তি। তবে জিপসিদের মত আমিও দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিতে পারি। আমিও মাটির ঘ্রাণ থেকে জেনে নিতে….

আজাদুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

সবুজ স্তন প্রচুর নেশা হলে দেখবেন— গাছগুলো বৃষ্টি, পাতার বদলে বব চুল, কী ফর্সা! তার বাহু, উরু ব্যাঞ্জনা, জলভারে নুয়ে আছে সবুজ স্তন। নেশা এমনই এক সদগুন যে, মাঝরাতে উড়ে উঠবে রাস্তাগুলো আকাশে মুখ দিয়ে আপনি বলছেন— আমাদের একটা পৃথিবী ছিল, ঠিক চাঁদের মত গোল। চুর পরিমাণ নেশা হলে, আপনার পা থেকে অহংকারী পাথর খসে….

গাজী গিয়াস উদ্দিনের একগুচ্ছ কবিতা

ক্লান্তির গল্প যারা উপনীত সন্ধ্যে বেলায় ফিরে দেখো দিন মলিন স্বপ্ন – ধূসর জীবন, প্রখর রোদের শায়ক ক্রীড়া প্রাচুর্যে আত্মহারা ছিলে স্বাধীন একদিন, পশ্চিম বেলা চেয়ে চেয়ে আজ শেষ করো ক্লান্তির গল্প।   ছড়ানো বিদ্রুপ সাপের চুমোতে কোথা বিষ হিংস্র নিশ্বাসে তোমার গরল বিশ্বাসে আমাকে পাবে জিয়ল সরল। রুক্ষতা ছেঁটে ফেল – চেহারা কমনীয় সব….

error: Content is protected !!