Thursday, January 15, 2026
spot_img
More

    সর্বশেষ

    শ্বশুরবাড়ি সমাচার

    মানুষের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির অস্তিত্ব ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে। যে ব্যক্তি নিজের পরিচয়ে পরিচিত তিনি উত্তম, যিনি পিতার পরিচয়ে পরিচিত তিনি মধ্যম আর যিনি শ্বশুরের পরিচয়ে পরিচিত তিনি অধম। আরো আছে। যিনি শ্বশুরের মেয়ে অর্থাৎ স্ত্রীর পরিচয়ে পরিচিত তিনি নরাধম। আমাদের সমাজে অধম ও নরাধম বিরল নয়। ছোটবেলায় একটি কথা বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে প্রায়ই শুনতাম- বুদ্ধি থাকলে বিয়ের আগেই শ্বশুরবাড়ি যাওয়া যায়। প্রতীকী এ বাক্য থেকে আমরা বুঝে নিয়েছিলাম শ্বশুরবাড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন স্থান। তাই আমরাও উদগ্রীব ছিলাম দ্রুত শ্বশুরবাড়ি দেখতে। আমাদের সবার মনের আশাই কালক্রমে পূরণ হয়েছে।

    কলহের অন্য পিঠে থাকে ভালোবাসা। এক স্ত্রী অনুযোগ করে স্বামীকে বলেছিলেন ‘তুমি আমার আত্মীয়-স্বজনকে একদম সহ্য করতে পারো না। শুধু নিজের আত্মীয়-স্বজনকেই ভালোবাস।’ স্বামী বেচারা জবাব দিয়েছিলেন, ‘কথাটি ঠিক নয়, আমি নিজের শ্বশুর-শাশুড়ির চেয়ে তোমার শ্বশুর-শাশুড়িকে বেশি ভালোবাসি।’

    শ্বশুরবাড়ির মাধুর্য সবার কাছে একরকম নয়। এক দম্পতির কলহ চলছে। প্রতিবেশী কারণ জিজ্ঞাসা করলে স্বামী জানালেন বিবাহবার্ষিকীতে তার স্ত্রী এমন কোথাও যেতে চেয়েছিলেন, যেখানে বহুদিন তাদের যাওয়া হয়নি। স্বামী ভদ্রলোক তার বাবা-মায়ের বাড়ি অর্থাৎ স্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে গেলেন। শুরু হয়ে গেল কলহ। কলহের অন্য পিঠে থাকে ভালোবাসা। এক স্ত্রী অনুযোগ করে স্বামীকে বলেছিলেন ‘তুমি আমার আত্মীয়-স্বজনকে একদম সহ্য করতে পারো না। শুধু নিজের আত্মীয়-স্বজনকেই ভালোবাস।’ স্বামী বেচারা জবাব দিয়েছিলেন, ‘কথাটি ঠিক নয়, আমি নিজের শ্বশুর-শাশুড়ির চেয়ে তোমার শ্বশুর-শাশুড়িকে বেশি ভালোবাসি।’

    বাংলার ঘরে ঘরে বউ-শাশুড়ির দ্বন্দ্ব। কিন্তু দরদী শাশুড়ির সংখ্যাও কম নয়। নববধূকে আশ্বস্ত করে শাশুড়ি বললেন, ‘বউমা, আজ থেকে আমি তোমার মা, তুমি আমার মেয়ে। আমার সন্তানকে তুমি নিজের ভাই-বোন মনে করবে।’ সন্ধ্যাবেলায় নববধূর স্বামী অফিস থেকে ফিরে বাসার কলিংবেল টিপছেন। শাশুড়ি পুত্রবধূর কাছে জানতে চাইলেন কে এসেছে? পুত্রবধূর জবাব, ‘মা, ভাইয়া এসেছে।’

    শ্বশুরবাড়িতে ঋণী থাকতে চান না এমন জামাতা বিরল নয়। এক জামাতা তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরালয়ে উপস্থিত হলেন। শ্বশুরকে বললেন, ‘আমি সন্ন্যাস নেব ভেবেছি। তাই আপনার ঋণ শোধ করতে এলাম। কারো কাছে ঋণী থাকতে চাই না।’ শ্বশুর অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার কাছে তো কোনো ঋণ নেই তোমার। আছে কি?’ জামাতা বলল, ‘ঋণ আছে। ১০ বছর আগে আপনার মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আজ সুদসহ ফেরত দিয়ে গেলাম।’

    শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে জামাতার সম্পর্কের পারদ ওঠানামা করে অর্থনৈতিক মানদন্ডের ওপর ভিত্তি করে। শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার জন্য অনেক ব্যক্তিই বড়লোক শ্বশুর অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকেন। এমন মনোভাবের দুই বন্ধু ধনী-গরিব প্রসঙ্গে আলাপ করছে। প্রথম বন্ধু বিল গেটসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলল, ‘যদি তুমি গরিব হয়ে জন্মাও সেটি তোমার দোষ নয়, কিন্তু যদি তুমি গরিব হয়ে মরো সেটি তোমার দোষ।’ দ্বিতীয় বন্ধু জবাব দিল, ‘কথাটা খুব সহজ। আমার বাবা যদি গরিব হয় সেটি দোষ নয়, কিন্তু যদি আমার শ্বশুর গরিব হয় সেটি আমার দোষ।’

    ধনী শ্বশুরের বাড়িতে জামাতা বেড়াতে গেছে। শ্বশুর বললেন, ‘আজ থেকে তুমি আমার ব্যবসায়ের অর্ধেক অংশীদার। কাল থেকে ফ্যাক্টরিতে আসবে এবং কাজ দেখভাল করবে’- শ্বশুরের এমন প্রস্তাবের উত্তরে জামাতা বলল, ‘ফ্যাক্টরিতে কারখানার আওয়াজ আমার ভালো লাগে না।’ শ্বশুর বললেন, ‘তাহলে তুমি অফিসে বসবে এবং কাজ দেখবে।’ জামাতা বলল, ‘আমি অফিস পছন্দ করি না, একঘেয়ে লাগে।’ বিরক্ত হয়ে শ্বশুর বললেন, ‘তোমাকে নিয়ে তবে আমি কী করব?’ জামাতার চটপটে জবাব- ‘আমার কাছ থেকে অর্ধেক অংশীদারিত্ব কিনে নিন।’

    প্রথম বন্ধু বিল গেটসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলল, ‘যদি তুমি গরিব হয়ে জন্মাও সেটি তোমার দোষ নয়, কিন্তু যদি তুমি গরিব হয়ে মরো সেটি তোমার দোষ।’ দ্বিতীয় বন্ধু জবাব দিল, ‘কথাটা খুব সহজ। আমার বাবা যদি গরিব হয় সেটি দোষ নয়, কিন্তু যদি আমার শ্বশুর গরিব হয় সেটি আমার দোষ।’

    এক শাশুড়ির দুই জামাতা। তিনি ঠিক করলেন দুই জামাতার একটি পরীক্ষা নেবেন যেন বুঝতে পারেন কোন জামাতা তাকে বেশি ভালোবাসেন। প্রথম দিন তিনি বড় জামাতার সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নদীতে লাফ দিলেন। দেখতে চাইলেন জামাতা তাকে বাঁচায় কিনা। জামাতা নদীতে লাফ দিয়ে শাশুড়িকে বাঁচাল। শাশুড়ি খুশি হয়ে তাকে একটি মোটরসাইকেল উপহার দিলেন। পরের দিন ছোট জামাতার সামনে নদীতে ঝাঁপ দিলেন তিনি। এই জামাতা শাশুড়িকে তেমন পছন্দ করত না, তাই বাঁচাল না। নদীতে বেচারী শাশুড়ির সলিল সমাধি হয়ে গেল। কয়েকদিন পর দেখা গেল ছোট জামাতা মার্সিডিজ নিয়ে ঘুরছে। বড় জামাতা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘এটা কোথায় পেলে?’ ছোট জামাতা জবাব দিল, শ্বশুর মশায় খুশি হয়ে এটা গিফট করেছেন।

    গোপাল ভাঁড়ের পরিচিত গল্প দিয়ে শেষ করি এ প্রসঙ্গ। গোপাল ভাঁড়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী বাড়িতে জামাতাকে নিমন্ত্রণ করেছেন। শ্বশুর বাড়িতে আদর-আপ্যায়নের আতিশয্যে জামাতা আর যেতে চায় না। গোপাল তখন এক ফন্দি আঁটলেন। একদিন জামাতাকে ডেকে বললেন, ‘দেখ বাবাজি, বাড়ির পেছনে একটি ফলন্ত লেবু গাছ আছে। রাতের অন্ধকারে চোরের বড় উপদ্রব। তুমি রাতে একটু খেয়াল রেখো।’ জামাতা মহা উৎসাহে শ্বশুর মহাশয়ের আদেশ পালন করতে লাগল। এক রাতে গোপাল তার স্ত্রীকে বললেন, ‘বাগান থেকে লেবু এনে তাড়াতাড়ি ভাত খেতে দাও। পেটটা কেমন করছে।’ গোপালের স্ত্রী বাগানে ঢুকলেন। জামাতা তখন পাহারা দিচ্ছিল। অন্ধকারে জামাতা চোর ভেবে শাশুড়িকে দৌড়ে এসে জাপটে ধরল। শাশুড়ি নিজেকে ছাড়াতে চাইলে দু’জনের ধস্তাধস্তি শুরু হলো। চেঁচামেচি শুনে গোপাল বাতি নিয়ে বাগানে এসে দেখেন স্ত্রী আর জামাতা পরস্পরকে জাপটে ধরে আছে। গোপাল তার স্ত্রীকে ভর্ৎসনা করে বললেন, ‘ছি ছি, এজন্য জামাতা আনার এত আগ্রহ!’ লজ্জায় জামাতা তখনি বাড়ি ছাড়ল। শাশুড়িও আর কখনো জামাতা আনার কথা উচ্চারণ করেননি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    সর্বাধিক পঠিত

    Stay in touch

    To be updated with all the latest news, offers and special announcements.