কুহুতান
শুদ্ধস্বরে কেঁদে ওঠো—তেঁতুলবন,
কেঁদে ওঠো ছেলেবেলার আম আঁটির ভেঁপুর মতো
বীতস্বরে।
কাজ-কারবার নাই। দেখবো অর্গ্যানিক কান্নার ফুলঝুরি।
পোস্টমর্ডান এইজে জানি কিভাবে কান্নাও হতে
পারে দারুণ “ইউটিউব কন্টেন্ট”। দেখাতে পারে
মুহুর্মুহু চকচকে
ডলারের ভেল্কি চমৎকার। হউক মাতম। এইসব
বোধসুদ্ধ আসে
কুকুরের জিভের মতো সহজ গ্রীষ্মপ্রভাত।
আসে ডুমুর ফলের আভায় কোমল। ডুবোজলে
তলিয়ে গিয়ে চেখে নিই
জীবনের ফ্লেভার। অর্থহীনতায় মাতি ডি-বাক্সের বাইরে।
করি স্বদেশি কান্নার তর্জমা –
সহজ ভূমিকায়—ভেঙে পড়ুক পুতুলের বিয়ের সম্বন্ধ—
হউক মঞ্জুরিত রহস্যাবৃত কুহুতান ~
নিছক প্রার্থনার ছলে…
বহুনির্বাচনি
মিনিটে আশিবার শ্বাস নিই, ছাড়ি।
ঊনাশিতম প্রয়াসে
আমার নামাক্ষরের আদলে তৈরি হলো চারটা রাস্তা।
ভাষার রাস্তা হলো, পিচ্ছিল।
রাজনীতির রাস্তা হলো, বিষফোঁড়ায় মোড়া।
ধর্মের রাস্তা দেখা গেলো, প্রাচীন নবীদের দস্তানা ছড়ানো।
কবিতার রাস্তাও পেলাম, যেথা ভ্যাম্পায়ারের দাঁতের
ঝলসানি।
বাঘে-মহিষে একঘাটে পানি খায়
সামনে আরও একটা রাস্তা ধরা দেয়;
প্রচ্ছদপট খুলে যেতে থাকে…
ম্যাটাডোর
প্রতিদ্বন্দ্বী লুকিয়ে এখানে লাল বরফের কামরায়
তার প্রতি আছে যৌন ঈর্ষা
কাব্যহিংসাও করি
ছয়ফুটিয়া মানুষটা থাকে আমার অতলান্তে, এবং
ঠাট্টার উত্তাপে কষায় আমাকেই…
ঐ দরজা ভেঙে তুলে আনব তাকে
চারি মেরে খুলে ফেলবো কফিনের পেরেক
ডাকবো উদ্ধত পাগলা ষাঁড়টাকে
কলোসিয়ামে, সম্মুখযুদ্ধে…
সর্বস্বান্ত ম্যাটাডোর
আত্মা-বেচা পয়সায় হাতিয়ে নিয়েছি রুপার ছুরি
হ্যাঁ, চোরাই পথেই তোকে হারাবো…
একবার রক্ত ঝরে গেলে
আমি বৈ দ্বিতীয় কোনো আমার পোদ্দারি থাকবে না কোথাও
গ্রেইভইয়ার্ড শিফট
এগারোটা বাজলেই নিঝ্ঝুম প্রহর
বৃদ্ধ বয়াতির মুখায়বে ঝরোকার আলোছায়া
সমগ্র মেটাজুড়ে বৃষ্টিপাত
ধস নেমেছে মুখবইয়ে
হাঁটুমুড়ে নিল ডাউন করে আছে হাজার বছরের
প্রেমের কবিতা।
ঠিক ঊনষাট মিনিটেই তুমি রঙরুটে করে
দাও মালগাড়ি চালান;
তুমিও তো জানো
এইসব রসদ কখনো পৌঁছুবে না তরুণ কবির মল্লিকার
বাগানে, তবু…
পোষা বেড়ালটার বয়স বাড়বে শুধু
বাড়বে
বেসরকারি জনসংখ্যা।
হরদিন একটা হলুদ বাস ক্রাশ করে তোমার
খুলির ভিতর
একটা পাখি অবিরল ঝাপটায় তার চিরল ডানা
ঐ থেকে গ্যাংগ্রিন
এভারগ্রিন-মাইগ্রেনের
জুটি বাঁধাবাঁধি।
ফতুয়ার পকেটে জমেছে জুবুথুবু শব্দের ফুলঝুরি
পরো চাপরাস, পড়ো প্রাতিপদিক
শব্দটার বানান ছিমছাম;
কবিতা নয়,
পারলে তরুণ কবির দুঃস্বপ্নগুলো
কয়েক কিস্তিতে ছাপো দেখি
তোমার রঙবাহারী সাময়িকীতে এবার।
হামিংবার্ড
তারাপীঠে আমি যাই নাই কোনোদিন
বাঁধিনি লাল ফিতা মাজার আঙিনায়
চুরি করিনি হামিংবার্ডের ছানা সংগোপনে…
তবু হায়, অজ্ঞেয়বাদী অনুরাগ,
মৃত বন্ধুর স্মৃতির মতো পোড়াবে কতকাল আমাকে?
তারাপীঠ আমি গিয়েছি কখনও বা যাইনি বহুকাল
আমার যমজের শবের পাশে
যেখানে ছড়ানো বার্ড ফুডের গুঁড়ো…
শে শুয়ে আছে খণ্ডবিখণ্ড, আছে ওসিরিসের
মতো পাতালপুরীতে, নীরব
শে একা নয়, সঙ্গে রয়েছে মুমূর্ষু সিডেটিভ
সঙ্গে রয়েছে হারানো সবুজ ফ্রকের টুকরো…
মাজারের আঙিনায় রাখিনি কোন চিহ্ন আজও
তথাপি
জীর্ণ অজপাড়াগাঁয়ের মাজারে যাওয়া দরকার আমার
পদধূলি নেয়া দরকার তারাপীঠের সে বটের…
যেই আমাকে হত্যা করেছে ওরা
অর্থাৎ প্রেমিকাগণ, মিত্র ও মর্ষকামী স্বজনেরা
তার সদগতির জন্য একটু যজ্ঞাদি না করলেই নয়
বেঁধে না আসলেই নয় সস্তা লাল সুতো
হে… হে, আধুলি, সিকি, পয়সার মতো খুচরো
কবিতার দশক!



