ভ্রমণ

হাফিজের তুর্কি রমণী ও সমরকন্দ

সুফি কবি হাফিজের সেই বিখ্যাত পংক্তিদ্বয় ছাড়াও কবি ও কথাশিল্পী এডগার এলান পো যে নগরী সম্পর্কে বলেছিলেন “এবার তাকাও সমরকন্দের দিকে/ সে কি রাণী নয় পৃথিবীর?/ সকল নগরী ছাপিয়ে ওঠেনি কি গৌরব তার?/ তার হাত কি দেখিয়ে দেয়নি নিয়তির পথ?/ বিশ্বের জ্ঞাত সব মহিমার পাশে/একাকী অভিজাত দাঁড়ানো নয় কি সে?” কিংবা “শরীরের মাংস থেকে আত্মা….

উত্তম বিহার থেকে বুখারা

তাসখন্দ থেকে ভোররাতের অন্ধকারে রওনা হয়ে বুখারা যখন পৌঁছি, তখন সকাল মাত্র আড়মোড়া ভাঙছে। প্লেন থেকে টারমাকে পা দেওয়ার আগেই শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রার কামড় হিলহিল করে শরীরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। গায়ে ছিল না পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, তাই টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের উষ্ণতায় স্যুটকেস খুলে প্রথমেই পাতলা জ্যাকেটটা বের করতে হয়। জানি এই পাতলা উইন্ডচিটারে কোনো কাজ হবে না।….

রেশমপথের তাসখন্দে

ছাত্রাবস্থায় লোকাল ট্রেন বা বাসে চড়ার অভিজ্ঞতা হয়নি এমন মধ্যবিত্ত সন্তান বিরল। কলেজের হোস্টেলে সিট পাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুদিন সকাল বেলায় ডেলি প্যাসেঞ্জার আর ভিক্ষুক বোঝাই করে ফেনী শাটল নামের যে ট্রেনটি চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতো, সেই ট্রেনে চড়ে কলেজে হাজিরা দিয়েছি বহুদিন। স্থানীয় লোকজন মজা করে এই ট্রেনের নাম দিয়েছিল ‘ফইন্নির ট্রেন’। ফেরার সময় প্রায়ই….

নদীজলে মাছশিকার ও পতঙ্গ-মিথুনের অলোকচিত্র

শ্যানানডোয়া নদীটির বাঁকানো রেখাকে নিশানা করে অনেকক্ষণ হলো হাইক করছি। রূপালি জলের বঙ্কিম অবয়ব ছোট ছোট হতে হতে এমন আকার ধারন করেছে যে- স্রোতের এ স্বচ্ছ সলীলা শরীরকে এখন অস্ট্রেলিয়ার আদীবাসীদের হাতিয়ার বুমেরাং এর মতো দেখাচ্ছে। আজকের হাইকে কেন জানি খুব অস্বস্তি হচ্ছে। তাই দ্রুত বেগে হাঁটি। কোন দিকে যাচ্ছি ঠিক বুঝতে পারি না। আবার….

কফি হাউজের আড্ডাটা আজ আর নেই

বাংলা গানের প্রখ্যাত গীতিকবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা এবং মান্না দে’র গাওয়া শিরোনামের জনপ্রিয় গানটির কল্যাণে কলকাতার কলেজ স্ট্রীটের কফি হাউজের নাম-পরিচয় এবং কফি হাউজ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেয়েছিল বাংলাভাষী দুই বাংলার মানুষ। কলকাতার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় কফি হাউজের গুরুত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কে উচ্চ ধারণাই জন্মেছিল জনমনে। বাস্তবে আশির দশক পর্যন্ত কফি হাউজ….

সোয়াজিল্যান্ডের হাউস অন ফায়ার ও সেক্স অফেন্ডার

আমার আজকে কোন কিছু করার কোন তাড়া নেই, তাই অনেকটা সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে হাউস অন ফায়ারের দেয়ালটি দেখি। এর কেল্লার মতো করে স্থানীয় স্থপতি ও কলাকারদের হাতে গড়ার কায়দা দেখে ওয়ালটিকে বরং প্রাচীর বলাই সঙ্গত। তার গায়ে নতশীর হয়ে কতগুলো মূর্তি গভীর চিন্তায় মগ্ন। অর্ধভগ্ন হয়ে কয়েকটি প্রতিমা খামোকা ছড়িয়ে আছে আঙ্গিনায় স্রেফ ভাস্করের….

গোলাপের রাজতোরণ (পর্ব-৬)

একটি মন্দিরও আছে এক পাশে—নাম কাল-ভৈরব। আশ্চর্য এই দেবতা—হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন—তিন ধর্মের দ্বারাই পূজিত। তার মূর্তিটাও বেশ ব্যক্তিক্রমী—পুরুষের পুরো জননযন্ত্র সবিস্তারে খোদিত। দেখেই আপা ঝট করে কাপড়ে মুখ ঢেকে সাথীকে সরিয়ে নিয়ে গেলেন অন্যদিকে। আর প্রতিক্রিয়ায় যা ঘটলো—তাতে আমি বিস্ময়ে হতভম্ব। সবুজ আকস্মিকভাবে প্রশ্ন করে বসে: মামা, এত ছোট পুরুষাঙ্গ দিয়ে এসব দেবতারা কিভাবে….

গোলাপের রাজতোরণ (পর্ব-৫)

জয়গর ফোর্টে আমি আগে যাইনি। দুলাভাইর পিড়াপিড়িতে নিমরাজি হয়ে টেক্সি নিলাম। আমের ফোর্ট থেকে বেশ পশ্চিমে—অনেক উঁচুতে এই দুর্গ ফটোগ্রাফারদের স্বর্গ। এটিও আরাবেল্লী পাহাড়ে মাথায় অবস্থিত এবং জয়পুর ও আমেরকে সুরক্ষার জন্য নির্মিত—তবে বেশি খ্যাত এর যুদ্ধ সরঞ্জাম, বারুদ-বুলেট এবং স্পেয়ারের জন্য। রাজপুত, মোঘল, ইংরেজ—সব আমলেই জয়গর একই ভূমিকায় নিয়োজিত ছিল। লাল পাথরে গড়া এই….

গোলাপের রাজতোরণ (পর্ব-৪)

ডান দিকে শিলা দেবীর মন্দির দেখিয়ে বললাম: দুলাভাই, ওখানেই আছে সুবে বাঙলার হারানো সম্পদ মহারাজা প্রতাপাদিত্যকে হারিয়ে রাজা মানসিং যা লুটে এনেছিলেন—তাই। চলো, তুলে নিয়ে যাই। দুলাভাই তার স্বভাবসুলভ রসিকতায় হাঁটা দিলেন মন্দিরের দিকে। আমি তো মুক্তিযোদ্ধা! আমিও ছুট লাগালাম। ঝরোকা দিয়ে দেখি—কালো কষ্টি-পাথরের দুর্গা-মূর্তি—যার গায়ে খোদাই করে প্রাচীনলিপি। না-হে, শালাবাবু—এত ছোট-মা দিয়ে আমার চলবে….

গোলাপের রাজতোরণ (পর্ব-৩)

এরপর গেলাম আয়না-ঘরে। এটিও আসলে পুরানো তেতলাহাভেলীর আয়না-ছাওয়া দেয়ালের যাদু!সবগুলো দরোজা-জানালায় বহির্মুখী আয়না লাগানো। বেশ মজা লাগলো আয়না ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরো জয়পুরের প্রতিবিম্ব দেখতে। দূরের আমের ফোর্ট এবং নাহারগড় ফোর্ট দেখা গেল কবুতরের বাসার মত। সবুজ হেসে উঠে বললো—ঐটুকুন বাড়ি, ওর আবার এত নাম? আমি তার চুল ধরে টান দেই: শয়তান ছেলে, তুই জানিস, আম্বর….

error: Content is protected !!