প্রবন্ধ

রাজীব সরকারের গদ্যসাহিত্য : বিতার্কিক বিবেচনা

যে-কোনো দেশেরই সাহিত্য সৃষ্টি নিয়ে যে-সব সমালোচনা আলোচনা হয়েছে- কোনোটি কেবলই বর্ণনামূলক, আবার কোনোটি লেখকের লেখার স্বরূপটির চিত্র, আবার কোনোটি তুলনামূলক আলোচনা আবার কোনোটি তার্কিক দৃষ্টিতে তুলে ধরা হয়েছে; হচ্ছে। বিতার্কিক দৃষ্টিতে যে-বিবেচনা- ‘শনিবারের চিঠি’-কে খারিজ করেই আমার বক্তব্য। সাহিত্যের সমালোচক বা আলোচক বা বিশ্লেষক তিনি কোন বিবেচনায় বা দৃষ্টির প্রসারণ ঘটিয়ে সাহিত্যকে বিবেচনায় এনেছেন-….

রাজীব সরকারের ভ্রমণ সাহিত্য

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন- ‘মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধুমরু, কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু/ রয়ে গেলো অগোচরে বিশাল বিশ্বের আয়োজন;/ মন মোর জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তারি এক কোণ,/ সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আছে যাহে/’ কবি অক্ষয় উৎসাহে ভ্রমণকাহিনী পড়তেন। তিনি ভ্রমণ করে এবং ভ্রমণ কাহিনী পড়ে এই বিপুলা পৃথিবী সম্পর্কে সম্যক….

সার্ত্রের প্রত্যাখ্যান

আধুনিক কালের দার্শনিকদের মধ্যে জাঁ পল সার্ত্রে এমন একজন মানুষ যাঁর কর্মকাণ্ডে সব সময়েই মনে হয়েছে তিনি কী করছেন বা না করছেন সে সম্পর্কে তিনি ভীষণভাবে নিশ্চিত। মানুষের চিন্তার জগতে তাঁর প্রভাবের কথা না হয় বাদই দিলাম। অস্তিত্ববাদ, মার্কসবাদ, প্রতিভাসবিদ্যা, এমন কী হালের পোস্টকলোনিয়াল থিওরি সম্প্রসারণে তিনি যা করেছেন তা অতুলনীয়। কিন্তু আমার মনে হয়,….

ইলেক্ট্রনের চক্কর

লেখক : শ্রোডিঙ্গারের তত্ত্ব এবং কোপেনহাগেন মতবাদ থেকে জানা গেলো যে হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেক্ট্রনের মেঘে ঢাকা মাঝখানে বসে আছে নিউক্লিয়াস। ইলেক্ট্রনকে কোথায় পাওয়া যাবে তা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। ধরে নিতে হবে যে একটা ইলেক্ট্রন সব জায়গাতেই আছে! এই মেঘের জগতে ইলেক্ট্রনের জন্য বিভিন্ন কোয়ান্টাম ঘরের ব্যবস্থা আছে। ওদের নাম 1s, 2s, 2p, ইত্যাদি। ইলেক্ট্রন….

রাজীব সরকারের রম্যসাহিত্য

রাজীব সরকার বাংলাদেশের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক। পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করলেও বিতর্কের সূত্রটি এখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি। ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ লেখকের রম্য রচনা। এ বইটিতে লেখক সহজ ও সরস ভঙ্গিতে অনেক কঠিন কথা বলেছেন। রম্য শব্দের অর্থ মনোরম, রমণীয়, সুন্দর। অর্থাৎ রম্য রচনায় জীবনের মনোরম সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে। রাজীব সরকার ইতোমধ্যেই রম্য লেখক….

সব্যসাচী বিতার্কিক রাজীব সরকার

২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। সেই সুবাদে টিএসসিতে আনাগোনা। টিএসসিতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস) এর কক্ষটি আমাকে খুব টানতো। মাঝেমধ্যে সেখানে বিতর্ক শুনতে যেতাম। এরপর ধীরে ধীরে আমার বিতার্কিক হয়ে ওঠা। যাই হোক সেই গল্প অন্য কোথাও হবে। টিএসসি অডিটেরিয়ামে আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা চলছে। জগন্নাথ হলের সাথে অন্য একটি হলের বিতর্ক। সেখানে রাজীব….

ছায়া কণিকার সন্ধানে

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮): “দিন-কতক তাহাদের ভারী কলহ বাধিয়া গেল, কে যে আলো, কে যে ছায়া কিছুতেই মীমাংসা হয় না। শেষে সুরমা বুঝাইয়া দিল, এটা তোমার সূক্ষ্মবুদ্ধিতে আসে না যে, তুমি না থাকিলে আমি কোথাও নাই।” লেখক : আমার মোটা বুদ্ধিতে এটুকু বুঝি যে এই মহাবিশ্বের অস্তিত্বের জন্যে ছায়া, কায়া, এবং আলো সবাই একসাথে হাত মিলিয়েছে।….

রাজীবের অনন্যতা

রাজীব সরকার ভালো আলোচনা করে এবং বিতর্কে তার কাছাকাছি যাবার প্রতিযোগী প্রায়ই পাওয়া যায় না। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র সে, হলের আবাসিক শিক্ষক হিসেবে তখন আমি সেটি দেখেছি। ডাকসু ও হল সংসদ সে সময় থাকলে ঘরে পুরস্কার রাখার জায়গা পেতো না সে। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ও হলের আয়োজনে সাহিত্য-প্রতিযোগিতা খুব-একটা হতো….

রাজীব সরকারের জন্মদিনে হাসনাত আবদুল হাই ও আনিসুল হকের শুভেচ্ছা মন্তব্য

লেখার ভঙ্গি সরল কিন্তু লক্ষ্যভেদী হাসনাত আবদুল হাই আমাদের সাহিত্যে মননশীল লেখা সংখ্যায় অনেক কম, বেশি পিছিয়ে আছে। এর একটা কারণ মনে হয় পঠন-পাঠনের সীমাবদ্ধতা। দ্বিতীয় কারণ, মৌলিক চিন্তা করতে যে পরিশ্রম প্রয়োজন তার প্রতি অনীহা। বয়স হিসেবে রাজীব সরকারকে নবীনই বলতে হয়। কিন্তু অল্প বয়সেই সে মননশীল লেখায় তার আন্তরিকতা ও মেধার পরিচয় দিয়েছে।….

কোয়ান্টাম সত্য

রবীন্দ্রনাথ: “আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে। আমি চোখ মেললুম আকাশে, জ্বলে উঠল আলো পুবে পশ্চিমে। গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম “সুন্দর’, সুন্দর হল সে।” আইনস্টাইন: তোমার কবিতাটি সুন্দর, তবে তোমার সাথে আমি একমত নই। পান্না এবং চুনি কয়েকটি বিশেষ তরঙ্গদৈর্র্ঘের আলো প্রতিফলন করে, তোমার চেতনার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কাঁচের….

error: Content is protected !!