গল্প

বিদায়

চিঠিতে কোন নামও ছিল না আর কোন ঠিকানাও ছিল না— হাতে লেখা একটি চিরকুট, খামটাও অতিসাধারণ। গুরু দরজা খোলার সময় যদি পাপোষ না সড়াতো তা হলে হয়ত ওটা ওর চোখের গোচরই হত না। সে সব সময় বাইরে যাওয়ার সময় পাপোষটা ভিতরে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে যায়, কারণ হচ্ছে বাইরে থাকলে পাপোষটা চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা….

এ ডেড সিক্রেট

অনেক আগে টাম্বা প্রদেশে ইনামুরায়া জেনসুকে নামক এক ধনী ব্যবসায়ী বসবাস করতো। ও-সুনো নামে উচ্ছল, প্রানবন্ত, চালাক এক সুন্দরী মেয়ে ছিল তার। একদা ধনী জেনসুকে তার বাড়ন্ত মেয়ের শিক্ষাদীক্ষার ব্যাপারে ভাবলেন যে, দেশের শিক্ষকরা তাকে যেমন শিক্ষা দিতে পারে, কেবল সে শিক্ষার ভেতরই তাকে বড় হতে দেয়াটা দুঃখজনক; তাই তিনি তার মেয়েকে বিশ্বস্ত কিছু পরিচারকের….

প্রেমহীন প্রেম কাহিনির উপক্রমণিকা

আজ ওই হলুদ পাখিটি আবার এলো। বর্ষায় প্রত্যেকদিন সে সময়ে অসময়ে চলে আসে আর গাছের ডালে বসে ভিজে অথবা তার ভেজা পাখা শুকায় আর সুরেলা কন্ঠে ডাকে। কোন সংস্কৃত শ্লোকের বাণী, পরিষ্কার, অবিকল… কিন্তু না জানি কি বলে। এই জায়গার লোকেরা এই পাখির নাম জানেনা শুনে পবিত্রা অনেক আশ্চর্য হল। জিজ্ঞাসা করলে মুখ বাঁকা করে….

করোনা ও কফিন

এক. এলার্ম ঘড়ির শব্দে ঘুম ভাঙ্গে আদ্রিয়ানার। সার্প সাতটা। লেপের তলা থেকে কচ্ছপের মতো মাথা ও শরীরটা ঈষৎ বের করে আর্তনাদরত ঘড়িটা একহাতে বন্ধ করে সে। তারপর তন্দ্রাতুর শরীরটা আবার বকের পালকের মতো শুভ্র কোয়েল্টের নিচে শুড়শুড় করে ঢুকে যায়। এটা আদ্রিয়ানার চিরকালের অভ্যেস। একবারে কিছুতেই উঠতে পারেনা সে। মিনিট পনের এভাবে শুয়ে থাকবে লেপের….

একজন বিধবার স্মৃতিকথা

উর্দু থেকে ভাষান্তর– হাইকেল হাশমী এটা জুলেখার গল্প, যার বয়স প্রায় ৩৫ বছর। সে একজন বিধবা। প্রায় এক বছর আগে তার স্বামী যে একজন মোটর মেকানিক ছিল, শহর থেকে কিছু সামগ্রী আনতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেল। জুলেখা ম্যাট্রিক পর্যন্ত লেখা-পড়া করেছে কিন্তু এই যুগে ম্যাট্রিক পাস করে কোন চাকুরী পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।….

জাদুকর

সফল এবং সমৃদ্ধ একজন জাদুকর আমাদেরই কোনো এক কালে একটা ভাড়াবাড়িতে দুটো ঘর নিয়ে বসবাস করতেন। তার সময় কাটত চিন্তার খোরাক আছে এমন সব বিষয়ে পড়াশোনা করে এবং পণ্ডিতসুলভ মননশীল গবেষণার মধ্য দিয়ে। জাদু সম্পর্কে তার যদি কিছু জানা না থাকে সেটা জানার যোগ্য নয় বলে মনে করতে হবে। কারণ তার আগে যত জাদুকর বেঁচে….

শেষ ক্রন্দনরত ব্যক্তির কারাবরণ

এই শহরে সবাই সব সময় হাসতে থাকে, সবাইকে বাধ্যতামূলক ভাবে হাসতে হবে, এই আইন সম্পূর্ণ ভাবে বলবৎ করা হয়েছে। তাই এখানে কারো বিষণ্ণ বা কান্না করার কোন সুযোগ নেই। পুলিশের কনস্টেবল শহরের অলিগলিতে টহল দেয় আর যেই লোকের মুখে হাসি নেই তাকে গ্রেপ্তার করে। আস্তে আস্তে সারা দেশে কোন বিষণ্ণ লোক আর খুঁজে পাওয়া যায়….

লাল রক্ত সবুজ হরিয়াল

শ্যাওলার আধিক্যের কারণেই সম্ভবত পানির রং ঘন সবুজ দেখাচ্ছে। পুকুরটিকে মোটেও ছোট বলা চলে না। চারপাশে উঁচু পাড়। পাড়জুড়ে নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভর্তি। ওগুলোর মধ্যে বাউল সন্ন্যাসীদের ঝাঁকড়া চুলের মতো কুল গাছটি শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে পুকুরের পাড় ছেড়েও বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে পুকুরের ওপর। বৃক্ষের প্রাচুর্যতার কারণে সূর্যের আলোও ঠিক মতো এসে পড়ে….

গোপন পাপ

বড় আব্বার হাঁকডাক শুনে তকদির ছুটতে ছুটতে সজনে তলায় এসেছে। লুঙ্গি পায়ে জড়িয়ে বেকায়দা পতন সামলে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই খালি হাতে এসে ভুল করেছে শুনে লুঙ্গি কাছা মেরে আবার ও হাত দাখানা আনতে ছুটেছে। সৈয়দ মীর কাশিম তুরানীকে ‘বড় আব্বা’ বলে ডাকে তকদির। বড় আব্বার ইঙ্গিত পেয়ে সে সজনের ডাল কাটতে শুরু করে। গাছের ডাল….

মধ্যরাতের ফুর্তিবাজ

আজ বিকালের বাসে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছে স্বপন। সন্ধ্যেটা কাটিয়েছে বাসস্ট্যান্ডের কাছেই ছোট একটা পার্কে। সেখানে লোকজন তেমন ছিল না। ভিতরের দিকে পাতাবাহার আর কলাবতীর ঝাড়ে আড়াল করা নিরিবিলি কোনায় চুপচাপ বসেছিল। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে নিজেকে খুব নিস্তেজ লাগছিল। ক্লান্তিতে দুই চোখের পাতা বুজে আসতে চাইলেও গত রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা স্মরণ করে….