গল্প

জাদুকর

সফল এবং সমৃদ্ধ একজন জাদুকর আমাদেরই কোনো এক কালে একটা ভাড়াবাড়িতে দুটো ঘর নিয়ে বসবাস করতেন। তার সময় কাটত চিন্তার খোরাক আছে এমন সব বিষয়ে পড়াশোনা করে এবং পণ্ডিতসুলভ মননশীল গবেষণার মধ্য দিয়ে। জাদু সম্পর্কে তার যদি কিছু জানা না থাকে সেটা জানার যোগ্য নয় বলে মনে করতে হবে। কারণ তার আগে যত জাদুকর বেঁচে….

শেষ ক্রন্দনরত ব্যক্তির কারাবরণ

এই শহরে সবাই সব সময় হাসতে থাকে, সবাইকে বাধ্যতামূলক ভাবে হাসতে হবে, এই আইন সম্পূর্ণ ভাবে বলবৎ করা হয়েছে। তাই এখানে কারো বিষণ্ণ বা কান্না করার কোন সুযোগ নেই। পুলিশের কনস্টেবল শহরের অলিগলিতে টহল দেয় আর যেই লোকের মুখে হাসি নেই তাকে গ্রেপ্তার করে। আস্তে আস্তে সারা দেশে কোন বিষণ্ণ লোক আর খুঁজে পাওয়া যায়….

লাল রক্ত সবুজ হরিয়াল

শ্যাওলার আধিক্যের কারণেই সম্ভবত পানির রং ঘন সবুজ দেখাচ্ছে। পুকুরটিকে মোটেও ছোট বলা চলে না। চারপাশে উঁচু পাড়। পাড়জুড়ে নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভর্তি। ওগুলোর মধ্যে বাউল সন্ন্যাসীদের ঝাঁকড়া চুলের মতো কুল গাছটি শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে পুকুরের পাড় ছেড়েও বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে পুকুরের ওপর। বৃক্ষের প্রাচুর্যতার কারণে সূর্যের আলোও ঠিক মতো এসে পড়ে….

গোপন পাপ

বড় আব্বার হাঁকডাক শুনে তকদির ছুটতে ছুটতে সজনে তলায় এসেছে। লুঙ্গি পায়ে জড়িয়ে বেকায়দা পতন সামলে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই খালি হাতে এসে ভুল করেছে শুনে লুঙ্গি কাছা মেরে আবার ও হাত দাখানা আনতে ছুটেছে। সৈয়দ মীর কাশিম তুরানীকে ‘বড় আব্বা’ বলে ডাকে তকদির। বড় আব্বার ইঙ্গিত পেয়ে সে সজনের ডাল কাটতে শুরু করে। গাছের ডাল….

মধ্যরাতের ফুর্তিবাজ

আজ বিকালের বাসে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছে স্বপন। সন্ধ্যেটা কাটিয়েছে বাসস্ট্যান্ডের কাছেই ছোট একটা পার্কে। সেখানে লোকজন তেমন ছিল না। ভিতরের দিকে পাতাবাহার আর কলাবতীর ঝাড়ে আড়াল করা নিরিবিলি কোনায় চুপচাপ বসেছিল। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে নিজেকে খুব নিস্তেজ লাগছিল। ক্লান্তিতে দুই চোখের পাতা বুজে আসতে চাইলেও গত রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা স্মরণ করে….

রায়ের দিঘির ঘাটলায়

রায়ের দিঘির পাড়টি ভেঙেচুরে কোন কোন জায়গায় মিশে গেছে আশপাশের নিচু ধানের জমিনে। এক জামানায় রূপালি জলের শানদার পরিসরে কচুরিপানার এমন পুরু স্তর হয়েছে যে- হালফিল পানি-টানি আর তেমন দেখা যায় না। তবে চিন্নিটিকরীর কাজ করা বাঁধানো ঘাটটি মোটামুটি এখনো ভালো হালতেই আছে। এক যুগে সরমঙ্গল গ্রামের পানীয় জলের প্রধান উৎস ছিলো এ দিঘিটি, এখন….

কালো গোলাপ

সৌদি আরবের আবহা সিটির একটি আবাসিক মহল্লায় আবু বকরের দোকান। নিজের কফিল ছাড়াও মহল্লায় বসবাসকারি প্রতিটি সৌদি পরিবারই তার দোকানের নিয়মিত খদ্দের। অনেকেরই নাম আছে বাকির খাতায়। ফোনে অর্ডার পেলেও সহকারীকে দিয়ে তৎক্ষণাৎ মাল পৌঁছে দেয় বাড়িতে। ফলে নানা পেশা ও গোত্রের সৌদি পরিবারকে ঘনিষ্ঠভাবে চেনাজানার যে সুযোগ পায় আবু বকর, তেমন নসিব এ দেশে….

লিঙ্গনাশা

তামান্নার বাবা নাই। সে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরে নাই। এই গ্রামে এইরকম অনেক মানুষ আছে। আবার সমুদ্রে না গিয়াও তাদের কোনো উপায় নাই। তারা জানেই এই একটা কাজ, মাছধরা। বঙ্গোপসাগরের পাশেই ঘটিভাঙ্গায় তামান্নাদের বাড়ি। তার ছোট দুইভাই। ছেলে মেয়ে তিনজনকে নিয়ে দুশ্চিন্তার সমুদ্রে ডুবে যায় তামান্নার মা কালাখাতুন। দিন চলমান, সে কারো জন্য….

দোলা আপা এবং রোমিওদের গল্প

মফস্বল থেকে বাবা ঢাকায় বদলী হলে আমরা এসে উঠেছিলাম গোপীবাগে, এক ভাড়াটে বাসায়। গোপীবাগে তখন অল্প কিছু বাড়িঘর, হাতে গোনা কিছু দালান কোঠা, স্থায়ী আর ভাড়াটে মিলিয়ে অল্প কিছু লোকের বসবাস। আমি স্কুলে যাই, স্কুলে ভর্তি হওয়ায় বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব জুটে গেল। আর পাড়ার ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল খুব অল্প দিনের মধ্যেই। পাড়ার ছেলে….

এ প্রেম সে প্রেম

রিপন বরাবর খুঁতখুঁতে স্বভাবের। শার্ট বা প্যান্ট কিনতে গেলে বিপদের একশেষ, সহজে পছন্দ হয় না। আজও ব্যতিক্রম নয়। শপিংমলের একটা নামকরা দোকানে ঢুকে যেই না একটা শার্ট মনঃপূত হল, অমনি রাজ্যের বিভ্রম। শেষে শার্টের প্যাকেটসহ সটান ঢুকে পড়ে দোকানের ড্রেসিংরুমে। নতুন জামাটি গায়ে চড়াল। বেরিয়ে এসে আবার দাঁড়াল দোকানের আয়নায়। ঘুরিয়ে ফুরিয়ে নিজেকে যখন দেখছে,….