কবিতা

কনীনিকা

১. শান্ত পুকুর স্তব্ধ দুপুর নির্মেঘ মন দোলে ঝাউবন। ২. নেই জাতপাত ভুলতে বসেছি সব কাছে কোন পাখি করে কলরব এখনওতো শেষ হয়নি রাত। ৩. গায়েতে আকাশ মেখেছে নীল তার ফাঁকে ফাঁকে কয়েকটি চিল ডানায় ডানায় রোদের গন্ধ মৌবনে আজ জেগেছে ছন্দ। ৪. ভোর হয় হয় রাত শেষ হবে সোনামণির কয় সূর্যি জাগবে কবে ?….

সিদ্ধার্থ হকের একগুচ্ছ কবিতা

পরিচয় ২৮ ~ ঘুম আজ শুধু ঘুমের চেষ্টা করা— চোখের ভিতরে সাত বেটারির টর্চ। বহু ধূলা বহু লাল নীল পাতা চোখের ভিতরে বসবাস করে, ওড়ে। আমার নীরব অন্তর্জ্ঞান যেন কিছু কথা জানে। হয়ত সে কথা গাঢ় ও ভয়ঙ্কর; অন্তর্জ্ঞান আমাকে জাগিয়ে রাখে। ঘুম না হলেও সকালে আমার তরতাজা ভাব থাকে কবিতা লেখায় কোনো অসুবিধা হয়….

মারুফুল ইসলামের একগুচ্ছ কবিতা

শ্যামল শরতে শামালোকে ~ ঘোরের মাঝে ঘোরে ঘড়ির কাঁটা কলাভবন করিডোরের ধাঁধা লম্বা আরো হয় না কেন হাঁটা দু’চোখে কার চলন্ত পা বাঁধা দীর্ঘ চালে যুবক চলে একা যুবতী তার জ্যোৎস্না মাখে গায় শ্যামল শরতে শামালোকে দেখা গুঁটিপোকাও রেশম হয়ে যায় না-বলা কথা পেরেক ঠোকে বোধে খাঁ সাহেবের সরোদ বাজে মনে সঙ্কোচের অবাক অবরোধে জীবন….

দুখু বাঙাল-এর পাঁচটি কবিতা

আঁধার বনাম অন্ধকার . দিতে চাও দিয়ো শাস্তি মায়ের মূর্তির ন্যায় সাগরে ফেলিয়ো ঢেউ হয়ে ফেনা হয়ে ছড়াইব সুরের কম্পন হৃদকূপে ফেলিয়ো না একমাত্র এটুকু মিনতি। দিতে চাও দিয়ো শাস্তি সাড়ে তিন হাত মাটির গভীরে রেখো পুঁতে ঘাস হয়ে ফুল হয়ে সাজাইব সমাধি প্রাঙ্গণ হৃদকূপে ফেলিয়ো না একমাত্র এটুকু মিনতি। পড়ে গেলে একবার হৃদকূপে কে….

সিদ্ধার্থ হকের ১০টি লজিং মাস্টার

কবিতাগুলো পড়ে প্রথমে মনে হবে- লজিং মাস্টারের জীবন তুলে আনা হয়েছে। দ্বিতীয়বার পড়লে মনে হবে- লজিং মাস্টার সকল জাগতিকতার ভ্রমণ শেষে দৃশ্যদের ইহজাগতিকতার হাতছানি দিয়ে পশ্চিমাকাশে অস্তমিত হতে যাচ্ছে। তৃৃতীয়বার পড়লে মনে হবে- পৃথিবীটা এই লজিং মাস্টারের ভিতরে ঘুর্নায়মান।  সিদ্ধার্থ হকের একটা কবিতা স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বেশি কাব্যময়তা ধরনে সক্ষম। তাঁর কবিতায় বাস্তবতাকে চিত্রকল্প রুপেও….

মইনুল ইসলামের টুকরো কবিতা

বৃষ্টি আর মিষ্টি ~ এই ভেজা ডালটাতে যে পাখিটা এসে বসে ওর নাম বৃষ্টি, এই ভেজা চুলে যে মেয়েটি দাড়ায় কাছে এসে ওর নাম মিষ্টি, এই বৃষ্টি আর মিষ্টিকে নিয়েই আমার মনে যতোসব অনাসৃষ্টি। বয়সকাল ~ আমার যখন বয়স হলো সেই সাথে তোমারও হলো, আমি যখন কচি লেবু পাতার ঘ্রানে মাতাল হলাম— সেই রোগ তোমাকেও….

হাইকেল হাশমী’র একগুচ্ছ কবিতা

জাগ্রত স্বপ্ন ~ জাগ্রত চোখে কতো স্বপ্ন দেখি কিন্তু জীবনের একটি এড়ো পথে এসে থমকে দাঁড়াই। জীবন তো কোন যানবাহন নয় ইচ্ছে মতো দিক পরিবর্তন করা যায় না থমকে দাঁড়াতে হয়। জীবন তো অনেক দিন ধরে অতিবাহিত করছি এটাও জানি, অভিজ্ঞতা থেকেই জানি জীবন খুব বেশীক্ষণ থেমে থাকে না। জীবন তো স্রোতের মতো নিজ গন্তব্যে….

সিদ্ধার্থ হকের একগুচ্ছ কবিতা

মৃত দেহের আক্ষেপ ~ মৃত দেহের আক্ষেপ নীল বাঁশ বাগানে ঘুরছে — নীরব, অলীক, অবিনাশী। বাঁশপাতা— বহু শেষ মুহূর্তের মনোবেদনা ও কৌতূহল— শত প্রশ্নে, বিভ্রান্তিতে, ক্রমশ: কাঁপছে। এই ঘূর্ণনের ফলে মুহ্যমান হয়ে গেছে তৃণ। মধ্যাকর্ষণের বাঁশঝাড়, বিলাপধ্বনির মত ছায়া অবলুপ্ত শরীরের শ্বাস হয়ে গেছে। বাতাসেরা সাদা হয়ে ঘুরে যাচ্ছে, ঘুরে ঘুরে সাদা হচ্ছে আরও। শীতল….

কামরুল আলম সিদ্দিকীর একগুচ্ছ কবিতা

তোমার জন্য বর্ষা রাখতাম . তোমার জন্য বর্ষা রাখতাম, কলাবতীর পাপড়ি হতাম। তোমার জন্য বাদল বেলা কেয়াবনের বৃষ্টি হতাম। তোমার জন্য কলাপাতা আমার পাশে খালি রাখতাম। তুমুল বৃষ্টি তোমায় আমায় ভাসিয়ে নিতে ঝড় চাইতাম। তোমার জন্য গঞ্জ কামাই, এক বারান্দা খালি রাখতাম। বৃষ্টি তোমার জীবন খাতা— সোনাপাতায় তুলে রাখতাম। এক আষাঢ়ে ভিজলে তুমি, কোন্ পথে….

রবীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরীর একগুচ্ছ কবিতা

তবুও মানব থেকে যায় ~ পৃথিবীর সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষদের একজন আমি, বৃদ্ধ কনফুসিয়াস, সেও বয়সে কনিষ্ঠ আমার; আমি দেখেছি মানুষের সমস্ত উত্থান-পতন বেবিলন-আসিরিয়ার গড়ে ওঠা আবার অন্ধকারে ডুবে যাওয়া— তাও প্রত্যক্ষ করেছি আমি; আমার চোখের ’পরে বারবার ব্যর্থ হলো মানুষের মুক্তির কত আয়োজন। তারপরও ‘মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়’ ক্রুশবিদ্ধ যিশু, হেমলকের পেয়ালা….

error: Content is protected !!