কবিতা

মামুন আজাদ এর একগুচ্ছ কবিতা

সাধারণ মানুষ আমি খুব সাধারণ মানুষ এবং ভীত। দুই’শ বছরের ‘সভ্যতার’ শোষণে আর চব্বিশ বছরের ‘ধর্মের’ শাসনে আমি খুব ভীত। আমি খুব সাধারণ মানুষ যার কাছে মেজর পদবি অনেক বড় জেনারেলের চেয়ে, যে কিনা ম্যাজিস্ট্রেটকে বড় ভাবে ডিসির চাইতে। আমি সেই সাধারণ মানুষ। ‘লাপাং’ নামের সৈনিক যে কিনা দাঁড়িয়ে ছিল ঘন্টার পর ঘন্টা আপনার নিরাপত্তার….

কাউসার মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

কাঁঠালগাছ মারা যাচ্ছে কিরূপ অযাচিত হয়ে ম্রিয়মাণ অস্তগামী এ রোদটুকু আমাকে ঘিরে ধরে। যেন কোনপথ খালি নেই তার। কোন ফাঁক নেই পালাবার। শুধু এই! আমার এই গন্ধকূট পর্দার আড়াল থেকে একবার উঁকি মেরে ছুঁয়ে যাওয়া। নিঃশব্দ তরঙ্গ ঘিরে কেমন এক ভীত, কম্পিত পরিবেশ তখন; মৃত হাওয়ার দোলাচালে আরেকটু খালি হলে রোদের পথ- ঝরে যাবার আগে….

পদচিহ্নে পা রেখে হেঁটে এসো

আয়নাওয়ালা অদ্ভুত সেই আয়নাওয়ালা যেদিন শহর ছেড়ে চলে গেল, সেদিন সাতশত পাখির পালক রাস্তায় ঝরে পড়তে দেখেছিল লোক। বিদ্ঘুটে এক বিকট গোলাকার আয়না হাতে নিয়ে যে অবলীলায় ঘুরে বেড়াত পথে পথে আর অকস্মাৎ সেটি মেলে ধরতো মানুষের মুখে। আতঙ্কিত মানুষ আয়নায় তার বীভৎস মুখমন্ডল দেখে চিৎকার করে জ্ঞান হারাত। সেই আয়নাওয়ালা বিদায় নিলে যারা হাঁফ….

কৌস্তুভ শ্রীর একগুচ্ছ কবিতা

আমার মা আমার অবাক শিশু আমার মাকে আমি বলি অবাক শিশু। ‘সোফির জগত’ এর জ্ঞানী বড়দের মতো নয় সে, যারা পৃথিবীটাকে একটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে। আমার মা এক অবাক শিশু। পৃথিবীর সবকিছুতে তার অপার বিস্ময়। ফল কাটতে গিয়ে তার রঙ, ঠিক তখন মরিচ খেতে আসা টিয়াপাখির ঠোঁট, আর একটা খোঁড়া কাকের জীবনযুদ্ধ, সব কিছু সে….

শ্বেতা শতাব্দী এষ-এর একগুচ্ছ কবিতা

ট্রমা জ্বরের স্বভাবে নেমে আসে হাইপার স্পেস- শহরের সবচেয়ে বিবশ বারান্দাটির কোণে যেখান থেকে সামনে তাকালেই ফুটে ওঠে মানুষের চলে যাওয়া… এইখানে থেমে থাকে ট্রমা- শ্বাসেদের কেটে যাওয়ার অনেক গোপনে…   নির্লিপ্ত ভালোবাসা মরে যাবার মতো হাওয়া— এ-গ্রীষ্মে বুকের ভেতর উত্তাপ নেই, চলো ফিরে যাই। গলি থেকে বাড়ি বেশি দূরে নয়! শর্তবন্দি মন; চলো ফিরে….

মৎস্যকুমারী ও অন্যান্য কবিতা

মৎস্যকুমারী সে আসবে যখন সময় হবে— হয়তো তার ভেজা শরীরে লেগে থাকবে স্রোতের কারুকাজ পিছল শরীর থেকে লোনা জল ঝরে পড়বে মুক্তোর মতো রূপসী শরীরে লেগে থাকা কয়েকটি বালুকণা হীরের দ্যুতি ছড়াবে ; ঘাই মেরে চলে যায় সে এক ঢেউ থেকে আর এক ঢেউয়ে চতুর ধীবরও পারেনা তাকে আটকাতে জালের জটিল ফাঁদে সহসা সে দেয়….

আমারে নেবে তুমি মাটি?

এয়া – ক এই মাঠে যায়গা নেই তবু প্রতিটি ডাকে আকাশের বুক ছুঁয়ে আমার পাখি ওড়ে বর্ষণভরা শুকনো গাছের পাতা তোমার নাম ধরে রাখে দেখে, দেখায়… পৃথিবীতে কে কখন তাকিয়েছিল মানুষের দিকে।   এয়া – খ তোমরা কোথায় কোথায় দেখা কর, আমি জানি না রেললাইনের একা হাঁটা অবাঞ্ছিত গাছের সবুজ তোমাদের গল্প রাখে? পায়ে হাঁটা শ্রমিকের ঘামে ভেজা জোসনার….

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

(উৎসর্গ: বেলাল ভাই ও নাজমুস সাকিব’কে, কবিতাটি মসজিদে নববীতে বসে লেখা হয়েছে ) ও আমার হৃদয়ের মহাজন তুমি তো বন্ধু মুমিনের মনেতে বইছে মরুঝড় তোমারও সাক্ষাৎ পরমের আমি কি উন্মাদ কতকাল সুতোতে গাঁথা যে প্রেমালাপ তোমাকে স্বপ্নে গতকাল বহুদূর ইবাদাতে শোকতাপ তুমি কি অশ্রুর দীর্ঘ মোনাজাত নির্ঝর বয়ে যাও অভিঘাত তোমাকে ডাকি সেই ক্রমাগত বহুকাল….

প্রাগমুহূর্তের গান ও অন্যান্য

দ্বন্দ্ব কে বলে সমস্ত গেছে? ঘোরে বা বেঘোরে, মানুষের সব খোয়া যায়! একার ভিতরে এক নিঃস্বতম, তারও ভেতরে বসা, মানুষ কি একা হতে পারে— সত্যি, বলো তো: কেউ একা হতে চায়? সন্ন্যাসে যাবার পরও, লক্ষ করো, তারে ট্যাঁকে যে গৃহের চাবি— অভ্যাসবশত? মুগ্ধরঙ, মায়াঘ্রাণ, জীবনের অনর্থক দাবী, মানুষের কলিজার তন্তু নাড়ায়—   কলকাতা: ভ্রম ও….

আন্দালীব-এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রার্থনাগার থেকে ধুয়ে ফেল রক্তের দাগ; ওই পবিত্র কিরীচ। ধর্মোন্মাদ মানুষের কাছে জমা রাখ তার সব ক’টা গান। আজ ঈষাণ-সমুদ্র তীরে নেমেছে যেখানে গৌণ দেবতারা, তাকে ঘিরে নাচছে ঋষিপুরুষ আর পৃথুলা রমণীর দল। এই স্নানাগার, এই সৌরস্মৃতি ফেলে স্তোত্রের বিষ তারে আজও তাড়া করে। ফলে প্রার্থনাগার থেকে ভুল স্মৃতি নিয়ে ফেরে মানুষ। তুমি তার বক্ষ….