কবিতা

তরুন ইউসুফের এগুচ্ছ কবিতা

আমরাও নক্ষত্রচূর্ণ . নিয়ত দূরে সরে যাচ্ছি আমরা সময়ের সাথে আমাদের একত্রে থাকা যা দেখি পেছনে তাকিয়ে আসলে অতীত দূরের ঘটনা মহাবিশ্বের মত ঘনীভূত ছিল একদা তারপর কাছে থাকার উত্তাপে প্রবল বিস্ফোরণ সেই থেকে গ্যালাক্সি থেকে গ্যালাক্সি দূরে সরে যাচ্ছে তারা থেকে তারা আমরাও নক্ষত্রচূর্ন, আহা দূরে যেতে যেতে কেমন আত্মহারা! নিখোঁজ সংবাদ . তোমাকে….

নাসের মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

আজাদীর বাঁশীওয়ালা কাজী নজরুল . পদ্যে গদ্যে কথার যাদুতে প্রবল বিদ্রোহে হানলে অগ্নিভাষা নাট্য গীতিতে ছন্দ সুরে বাঁধিতে পরাধীনতা ঘুঁচাতে জাগালে আশা। স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে শুনালে বিদ্রোহ জাগরণী শেকল ভাঙ্গার গান ঔপনিবেশিক ত্রাসের শাসন কাঁপিয়ে জীবনমৃত দেশবাসীরে এনে দিলে প্রাণ। বেনিয়া শাসনে আষ্ট্রেপৃষ্ঠে বাঁধা ভারতের সূর্য গেল অস্ত ধর্মের আফিমে দ্বি-জাতি যখন বিবাদে লাঠালাঠিতে….

কামরুল আলম সিদ্দিকী’র একগুচ্ছ কবিতা

জীবন . এক বসন্তের সখা তুমি আমের বোলে পাতা, এক শ্রাবণে তোমার সাথে ভিজেছিলো খাতা। এক পউষের সন্ধ্যাবাতি সাক্ষী আছে আজও, স্বাক্ষী আছে পোড়া সলতে মুখোমুখি রাতও। তেল পুড়লো সলতে পুড়লো, হলোনা শেষ কথা- হলোনা আর চোখের দেখা, এখন চোখে ব্যথা। বসন্ত রাত এলেই আজও চক্ষুপিদিম খুঁজি, আসল কবে হারিয়ে গেছে নকল সলতে গুঁজি। বোশেখ….

অনুভব আহমেদের একগুচ্ছ কবিতা

অন্তর্গত মসনদে * যেনো নাচছি সকল মুদ্রায় সঠিক আর ভুলের চর্চায় ঘন উস্তাদজীদের ভীড়ে কেবল একটা হাততালির প্রত্যাশায় জন্মের কাছে জিম্মি হয়ে নাচছি পর্ণ কুটির ধারের পথের মতো কাঙাল এ প্রত্যাশা এ প্রত্যাশা তৃষ্ণার্ত উটের কুব্জের মতো বেঢপ নাচতে নাচতে মনোরঞ্জনের এ আসরে ব্যর্থ ভাঁড় আমি দাঁড়ায় রয়েছি দরোজার বাইরে   নেকরোফিলিয়া * ১. প্রলেতারিয়েত….

আদিত্য নজরুল-এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রাচীর ~ পাশাপাশি দুটি বাড়ি; হিন্দু-মুসলমানের মাঝে গাঢ় মৌনতায় দাঁড়িয়ে একটি প্রাচীর তবু দুই বাড়ির বন্ধুত্ব বেশ। এ’বেলা, ও’বেলায় এ বাড়ির রান্না ও বাড়িতে যায়… মুসলিমের ছেলেরা খেলতে হিন্দুর বাড়িতে আসে। ধুলোবালি খেলতে খেলতে এ’বাড়ির ছেলেটির ও’বাড়ির মেয়েটির সাথে ভালোবাসা হয়ে গেলে দু’বাড়ির মাঝে পুনরায় ধর্মের প্রাচীর ওঠে। দু’বাড়ির ছেলে মেয়েরা এখন মিলেমিশে শত্রু শত্রু….

স্বয়ম্ভু, রাত্রিময়ূর অথবা নৈঃশব্দ্য…

স্বয়ম্ভু নারায়ণ তো সত্য। আবার সত্যনারায়ণ ! এই-ই বুঝি শব্দের শ্রী ৷ সন্ধ্যায় চলেছি দ্বিচক্রযানে, জানমান একাকার। পুজোর সওদা না করলেই নয় অথচ স্বয়ম্ভু, তুমি জান সত্যনারায়ণ। গৃহে ফিরে মুখপুথি— সে এক বিষম নেশা, শান দিলে তুমিও অগাধ। সেই যে অপেক্ষমাণ— একটি মূর্ধন্যের দিকে চিরায়ত হরিণ, হরিণ… কেন যে নিয়মবিধি, বানান গড়িয়ে যায় দিকচক্রবালে অথচ….

আবদুল্লাহ শুভ্র’র একগুচ্ছ কবিতা

কেউ দেখতে পায় না বহুদূর থেকে আমি একটু বিন্দু দেখতে পাই, বিন্দুটি একটু বড় হয়, হাঁটতে শুরু করে- বহুদূর থেকে আমি ‘হাঁটা’ দেখতে পাই! দেখতে পাই ‘হাঁটা’সহ কেউ একটি অবয়বে পরিণত হয়, বহুদূর থেকে আমি একটি অবয়ব দেখতে পাই, ক্রমেই আমার দিকে এগিয়ে আসে! বহুদূর থেকে আমি আমাকেই দেখতে পাই- দেখতে পাই অবয়বটি আমার ভেতর….

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল-এর একগুচ্ছ কবিতা

অর্জিতার সাথে লং ড্রাইভ . হাইওয়ে ধরে আমরা যাচ্ছি বিদেশি বিকেলের দিকে, রংধনুর দিকে। যেতে যেতে ওয়েস্ট একজিট নিয়ে ইয়াং স্ট্রিট ধরে নেমে যাই শহরের দিকে। ড্রাইভ থ্রো থেকে চা আর আইচ ক্যাপ নিয়ে ট্রাফিক জ্যাম আর দুটি ইন্টার সেকশন ক্রস করে আবার ইস্ট একজিটে উঠে যাই, ফিরে আসি ফোর-ও-ওয়ানে। দীর্ঘ পথে ইংরেজি রবীন্দ্র সঙ্গীত….

মাহবুব মোর্শেদের ১০টি সাম্প্রতিক কবিতা

বিস্মরণের নদী . বিস্মরণের নদীতে আমি এক বোটসম্যান। ঘুরতে দেখিনি… নিজেই এক বোটসম্যান আমি ক্ষরস্রোতা বিস্মৃতির নদীতে। দিশাময়ী, দূর গঞ্জের বাজারে তুমি হ্যাজাকের আলোর মতো। দীপ্তিময়ী তুমি, জোনাকের গুঞ্জরণ কালো আঁধারের মৌতাতে। বিদগ্ধ ও বিষণ্ণ। নীরব ও একাকীনি। অসীম অপেক্ষার দাওয়ায় বসে আছো, বিপুল ডিপ্রেশনে। তোমাকে তবুও আমি মাঝে মাঝে ভুলে যাই। ভুলে যে গিয়েছি….

সিদ্ধার্থ হকের একগুচ্ছ কবিতা

সন্ধিক্ষণ-৬ বহুদূরবর্তী সত্য, স্বপ্ন মনে হয়। কত নদী বিস্মরণে হারিয়ে যে যায়। আমরাও হারিয়ে যাই সময়ের এদিকে ওদিকে। অনেক দূরের হাত, নখ থেকে, ক্রমে ক্ষয়ে যায়। আমরা নীরবে বসি খুব কাছাকাছি; দুপুরের পাহাড়ের অবসরে, ঝুল বারান্দায়; ধূলা দিয়ে তৈরি ছিল বসে থাকাগুলি; ফলে ওরা ধ্বসে মিশে গেছে, রূপান্তরে; কেটে গেছে অনেক সময়; অদ্ভুত ধাঁধার মুখ,….

error: Content is protected !!