কবিতা

বুলেটবিদ্ধ কবিতারা

গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি . আমি এক গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। সমুহ ক্ষতির ভয়ে হাতপা নাড়াচ্ছি না- তুমি আমার খাদ্যে ঢেলে দিচ্ছ বিষ, অথচ বলে বেড়াচ্ছ আমাকে খাওয়াচ্ছ মাগনা। তুমি সব শিক্ষাদীক্ষা কেড়ে নিয়ে আমার সন্তানদের ডাকাত-দস্যু, চোর-লুটেরা- ছিনতাইকারী-ধর্ষক বানাচ্ছ, বলছ আমাকে শিক্ষা দিচ্ছ। তুমি তোমার কমিশনের জন্য আমার ঘরবাড়ি, চাষের জমি, মাছের নদী, লবনের মাঠ, বন….

জরিনা আখতারের সেগুন মেহেগুনি ও অন্যান্য কবিতা

না . সুদৃঢ় খিলান হয়ে ‘না’ শব্দটি দাঁড়িয়ে আছে আমার সমস্ত গন্তব্যে- তবে তার অর্থ এই নয় যে, আমি কখনও যুদ্ধে যাবো না কখনও ভালোবাসবো না গান শুনবো না। তবে হ্যাঁ যদি বলো- এই যে বন উজাড় করতে করতে এগিয়ে চলেছে সভ্যতা তাকে স্বীকৃতি দাও। আমি বলবো- ‘না’। যদি বলো- বাজারে তো অনেক কিছুই পাওয়া….

নূরনবী সোহাগ এর একগুচ্ছ কবিতা

লোভ . আগে খেতে পারলে দু’টাকা। বাবার এমন ঘোষণায় আমরা ভাইবোনরা প্রতিযোগী হয়ে উঠতাম। ‘করলা–ডাল’ চটকে দ্রুত খাওয়ার পাল্লা। বাবা অবশ্য কাউকে নিরাশ করতেন না। খাওয়া শেষে সকলের হাতে দু’টাকা দিতেন। প্রাপ্ত দু’টাকার নোট জমিয়ে রাখতাম ‘অর্জন’ ভেবে। আমার সন্তানদের খাওয়াতে ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান্সের লোভ দেখাই। ওরাও দ্রুত খায়। ওরাও হয়তো ‘অর্জন’ ভেবে পয়েন্ট জমিয়ে….

মামুন আজাদ এর একগুচ্ছ কবিতা

সাধারণ মানুষ আমি খুব সাধারণ মানুষ এবং ভীত। দুই’শ বছরের ‘সভ্যতার’ শোষণে আর চব্বিশ বছরের ‘ধর্মের’ শাসনে আমি খুব ভীত। আমি খুব সাধারণ মানুষ যার কাছে মেজর পদবি অনেক বড় জেনারেলের চেয়ে, যে কিনা ম্যাজিস্ট্রেটকে বড় ভাবে ডিসির চাইতে। আমি সেই সাধারণ মানুষ। ‘লাপাং’ নামের সৈনিক যে কিনা দাঁড়িয়ে ছিল ঘন্টার পর ঘন্টা আপনার নিরাপত্তার….

কাউসার মাহমুদের একগুচ্ছ কবিতা

কাঁঠালগাছ মারা যাচ্ছে কিরূপ অযাচিত হয়ে ম্রিয়মাণ অস্তগামী এ রোদটুকু আমাকে ঘিরে ধরে। যেন কোনপথ খালি নেই তার। কোন ফাঁক নেই পালাবার। শুধু এই! আমার এই গন্ধকূট পর্দার আড়াল থেকে একবার উঁকি মেরে ছুঁয়ে যাওয়া। নিঃশব্দ তরঙ্গ ঘিরে কেমন এক ভীত, কম্পিত পরিবেশ তখন; মৃত হাওয়ার দোলাচালে আরেকটু খালি হলে রোদের পথ- ঝরে যাবার আগে….

পদচিহ্নে পা রেখে হেঁটে এসো

আয়নাওয়ালা অদ্ভুত সেই আয়নাওয়ালা যেদিন শহর ছেড়ে চলে গেল, সেদিন সাতশত পাখির পালক রাস্তায় ঝরে পড়তে দেখেছিল লোক। বিদ্ঘুটে এক বিকট গোলাকার আয়না হাতে নিয়ে যে অবলীলায় ঘুরে বেড়াত পথে পথে আর অকস্মাৎ সেটি মেলে ধরতো মানুষের মুখে। আতঙ্কিত মানুষ আয়নায় তার বীভৎস মুখমন্ডল দেখে চিৎকার করে জ্ঞান হারাত। সেই আয়নাওয়ালা বিদায় নিলে যারা হাঁফ….

কৌস্তুভ শ্রীর একগুচ্ছ কবিতা

আমার মা আমার অবাক শিশু আমার মাকে আমি বলি অবাক শিশু। ‘সোফির জগত’ এর জ্ঞানী বড়দের মতো নয় সে, যারা পৃথিবীটাকে একটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে। আমার মা এক অবাক শিশু। পৃথিবীর সবকিছুতে তার অপার বিস্ময়। ফল কাটতে গিয়ে তার রঙ, ঠিক তখন মরিচ খেতে আসা টিয়াপাখির ঠোঁট, আর একটা খোঁড়া কাকের জীবনযুদ্ধ, সব কিছু সে….

শ্বেতা শতাব্দী এষ-এর একগুচ্ছ কবিতা

ট্রমা জ্বরের স্বভাবে নেমে আসে হাইপার স্পেস- শহরের সবচেয়ে বিবশ বারান্দাটির কোণে যেখান থেকে সামনে তাকালেই ফুটে ওঠে মানুষের চলে যাওয়া… এইখানে থেমে থাকে ট্রমা- শ্বাসেদের কেটে যাওয়ার অনেক গোপনে…   নির্লিপ্ত ভালোবাসা মরে যাবার মতো হাওয়া— এ-গ্রীষ্মে বুকের ভেতর উত্তাপ নেই, চলো ফিরে যাই। গলি থেকে বাড়ি বেশি দূরে নয়! শর্তবন্দি মন; চলো ফিরে….

মৎস্যকুমারী ও অন্যান্য কবিতা

মৎস্যকুমারী সে আসবে যখন সময় হবে— হয়তো তার ভেজা শরীরে লেগে থাকবে স্রোতের কারুকাজ পিছল শরীর থেকে লোনা জল ঝরে পড়বে মুক্তোর মতো রূপসী শরীরে লেগে থাকা কয়েকটি বালুকণা হীরের দ্যুতি ছড়াবে ; ঘাই মেরে চলে যায় সে এক ঢেউ থেকে আর এক ঢেউয়ে চতুর ধীবরও পারেনা তাকে আটকাতে জালের জটিল ফাঁদে সহসা সে দেয়….

আমারে নেবে তুমি মাটি?

এয়া – ক এই মাঠে যায়গা নেই তবু প্রতিটি ডাকে আকাশের বুক ছুঁয়ে আমার পাখি ওড়ে বর্ষণভরা শুকনো গাছের পাতা তোমার নাম ধরে রাখে দেখে, দেখায়… পৃথিবীতে কে কখন তাকিয়েছিল মানুষের দিকে।   এয়া – খ তোমরা কোথায় কোথায় দেখা কর, আমি জানি না রেললাইনের একা হাঁটা অবাঞ্ছিত গাছের সবুজ তোমাদের গল্প রাখে? পায়ে হাঁটা শ্রমিকের ঘামে ভেজা জোসনার….