আলোকচিত্র

এক নারীর নাৎসি-বিরোধী লড়াইয়ের ছবি

১৩ এপ্রিল, ১৯৮৫। সুইডেনের ভ্যাক্সো শহরে মিছিলের অনুমতি পায় ‘দ্য নরডিক রিয়াল্ম পার্টি’। ১৯৫৬ সালে সুইডেনে গড়ে ওঠা এটি ছিল একটি নব্য-নাৎসি বাহিনী। একই সময় একই স্থানে সমাবেশ করছিল সুইডেনের সমাজতান্ত্রিক দল ‘লেফ্ট পার্টি’। এই পার্টির নেতা লার্স ওয়ের্নার বক্তৃতা শেষ করলেই মিছিল শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় নব্য-নাৎসিরা। কিন্তু তার আগেই এই দুই দলের সমর্থকদের….

যত বড় বিজ্ঞানী তত বড় জিভ!

ছবিটি বিশ্ববরেণ্য পদার্থবিদ অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের বলেই এতো বিখ্যাত। আপনার-আমার হলে কিবোর্ডের শিফ্ট বোতাম চেপে ডিলেট করে দেওয়া হতো। তার মানে ছবি সবসময় তার যোগ্যতার জন্যই খ্যাতি পায়—তা নয়। ছবিটির সঙ্গে কতটা প্রভাবশালী ব্যক্তির স্মৃতি জড়িয়ে আছে অনেক ক্ষেত্রে তার ওপরও ছবির টিকে থাকা নির্ভর করে। ছবিটি অনেকেই দেখেছি, আইনস্টাইনের জিভ বের করা অদ্ভুত ছবি। বিশ্বের….

ছবিটি কি এখনো চাঁদে পড়ে আছে?

মার্কিন নভোচারী চার্লস ডিউক যখন চাঁদে পা রাখেন তখন তার বয়স মাত্র ৩৬। সর্বকণিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে তিনিই প্রথম চাঁদে গিয়েছিলেন। এটা শুধু তার জন্য নয় গোটা দুনিয়ার ইতিহাসের জন্যও একটি বড় ঘটনা। কিন্তু ডিউক ঐতিহাসিক ঘটনাটিতে একটি মাত্রা যোগ করলেন। ১৯৭২ সালের ২০ এপ্রিলের চন্দ্র-অভিযানের কথা যখন ওঠে তখন ওই মাত্রাটির কথাও সামনে চলে আসে।….

সিংহকে বশে আনলেন ইউসুফ কার্শ

ম্যাকেনজি কিং তখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ আলোকচিত্রী ইউসুফের কাজের প্রতি ভীষণভাবে আকৃষ্ট। ফলে যারা তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন তাদের ছবি তুলতে তিনি ইউসুফকে সুযোগ করে দিতেন। ১৯৩৫ সালে ইউসুফ কানাডার সরকারি আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। বড় বড় মানুষের ছবি তোলা ইউসুফের নেশায় পরিণত হয়ে গেল। বলছি বিশ্বখ্যাত পোরট্রেট আলোকচিত্রী ইউসুফ কার্শের কথা।….

বিশ্বযুদ্ধে চুমুর ছবি, বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের টাইম স্কয়ারের একটি আলোকচিত্র ব্যাপক আলোচিত হয়। ছবিতে দেখা যায় একজন নাবিক এক নারীকে চুমু দিচ্ছেন। ইতিহাসে ছবিটি ‘ভি-জে ডে কিস ইন টাইম স্কয়ার’ নামে পরিচিত। ভি-জে ডে মানে ‘ভিক্টরি ওভার জাপান ডে’। যাইহোক, আজ পর্যন্ত শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কে চুমু দিচ্ছেন, কাকে চুমু দেয়া হচ্ছে। ছবিতে থাকা দুজনের….

একটি ‘সুন্দর মৃত্যু’র পেছনের গল্প

একটি দুমড়ানো-মুচড়ানো গাড়ির ছাদে যেন ঘুমিয়ে আছেন এক তরুণী। তার পায়ের ওপর পা তোলা, সাদা দস্তানাপরা বাঁহাত বুকের ওপর। পোশাকও পরিপাটি। দেখে বুঝার উপায় নেই এই তরুণী আসলে নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ৮৬ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন। ২৩ বছর বয়সের এই তরুণীর নাম অ্যাভেলিন ম্যাকহেল। ১৯৪৭ সালের মে মাসের ঘটনা। অ্যাভেলিনের ওই অবস্থার ছবিটি তুলেছিলেন….

বিতর্কের তুঙ্গে ‘পিস ক্রাইস্ট’

যে আলোকচিত্রকর্মের কথা বলছি, সেই ছবিটি ১৯৯৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার ‘ন্যাশনাল গ্যালারি অব ভিক্টোরিয়া’য় প্রদর্শিত হলে স্থানীয় ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায় সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে— যাতে ছবিটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তাদের আর্জি না মঞ্জুর করেন আদালত। ছবিটির সমর্থকেরা সব সময়ই বলে আসছেন, ছবিটিকে প্রদর্শিত হতে না দেয়া মানে শৈল্পিক ও বাক্ স্বাধীনতার পরিপন্থী। তুমুল বিতর্কিত হওয়া….

‘দ্য গ্রেট পিকচার’ তৈরির ইতিহাস

গ্যালারিতে ৩২ ইঞ্চি আকারের প্রিন্ট আলোকচিত্রকর্ম দেখে আমরা অভ্যস্ত। সে ছবিই যথেষ্ট বড় মনে হয়। আর চোখের সামনে যদি ৩২ ইঞ্চির পরিবর্তে ১০৭.৫ ফুট x ৩১.৫ ফুট আকারের ছবি হাজির হয় তখন? স্বপ্ন মনে হবে। কিন্তু এই স্বপ্নের মতো ঘটনাটি কিন্তু সত্যিই ঘটেছিল। এতো বিশাল আকারের একটি আলোকচিত্রকর্ম সত্যিই তৈরি করা হয়েছিল— একটি পিনহোল ক্যামেরার….

তুমুল জনপ্রিয়—‘গেরিলারো হিরোইকো’

চে গুয়েভারা মানেই আগুন, আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রতিবাদ, বিপ্লব ও বিদ্রোহ। পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক, বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে এখনো জ্বলজ্বলে বিপ্লবী আর্নেস্ট চে গুয়েভারা। আর চে’র প্রতিচ্ছবি মানেই কিউবার আলোকচিত্রী আলবার্তো কোর্দার তোলা তুমুল জনপ্রিয় পোরট্রেট—‘গেরিলারো হিরোইকো’ (বীর গেরিলা যোদ্ধা)। চে’র কথা মনে আসতেই প্রথমে এই ছবিটিই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। জ্বলজ্বলে চোখ, যেন ভবিষ্যেতর দিকে….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (আট)

একজন আলোকচিত্রী তার পুরো জীবনে লাখ লাখ ছবি তোলেন। অনেকে সেই লাখ লাখ ছবি থেকে নিজের দশটি সেরা ছবি বের করতেও বিপাকে পড়েন। আবার কেউ কেউ এমনও আছেন—যিনি পুরো পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত হয়েছেন কেবল একটি ছবি দিয়ে। যেমন কেনেথ জারেক। তার জন্ম ১৯৬৩ সালে। তিনি একাধারে একজন মার্কিন ফটোসাংবাদিক, লেখক ও সম্পাদক। রণক্ষেত্রের সংবাদ সংগ্রহের জন্য….

error: Content is protected !!