আলোকচিত্র

‘দ্য গ্রেট পিকচার’ তৈরির ইতিহাস

গ্যালারিতে ৩২ ইঞ্চি আকারের প্রিন্ট আলোকচিত্রকর্ম দেখে আমরা অভ্যস্ত। সে ছবিই যথেষ্ট বড় মনে হয়। আর চোখের সামনে যদি ৩২ ইঞ্চির পরিবর্তে ১০৭.৫ ফুট x ৩১.৫ ফুট আকারের ছবি হাজির হয় তখন? স্বপ্ন মনে হবে। কিন্তু এই স্বপ্নের মতো ঘটনাটি কিন্তু সত্যিই ঘটেছিল। এতো বিশাল আকারের একটি আলোকচিত্রকর্ম সত্যিই তৈরি করা হয়েছিল— একটি পিনহোল ক্যামেরার….

তুমুল জনপ্রিয়—‘গেরিলারো হিরোইকো’

চে গুয়েভারা মানেই আগুন, আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রতিবাদ, বিপ্লব ও বিদ্রোহ। পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক, বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে এখনো জ্বলজ্বলে বিপ্লবী আর্নেস্ট চে গুয়েভারা। আর চে’র প্রতিচ্ছবি মানেই কিউবার আলোকচিত্রী আলবার্তো কোর্দার তোলা তুমুল জনপ্রিয় পোরট্রেট—‘গেরিলারো হিরোইকো’ (বীর গেরিলা যোদ্ধা)। চে’র কথা মনে আসতেই প্রথমে এই ছবিটিই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। জ্বলজ্বলে চোখ, যেন ভবিষ্যেতর দিকে….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (আট)

একজন আলোকচিত্রী তার পুরো জীবনে লাখ লাখ ছবি তোলেন। অনেকে সেই লাখ লাখ ছবি থেকে নিজের দশটি সেরা ছবি বের করতেও বিপাকে পড়েন। আবার কেউ কেউ এমনও আছেন—যিনি পুরো পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত হয়েছেন কেবল একটি ছবি দিয়ে। যেমন কেনেথ জারেক। তার জন্ম ১৯৬৩ সালে। তিনি একাধারে একজন মার্কিন ফটোসাংবাদিক, লেখক ও সম্পাদক। রণক্ষেত্রের সংবাদ সংগ্রহের জন্য….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (সাত)

জালপরা বাসন্তী—এটি সম্ভবত বাংলাদেশের আলোকচিত্রকলার ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ছবি। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ে কুড়িগ্রাম থেকে ছবিটি তুলেছিলেন সেসময়ের দৈনিক ইত্তেফাকের ফটোসাংবাদিক আফতাব আহমেদ। তবে ছবিটি ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় ছাপা হওয়ার পরপরই এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সবখানে শুরু হয় ছবিটির পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্কের ঝড়। আফতাব আহমেদের জন্ম ১৯৩৫ সালে, রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। ১৯৬২ সালে ফটোসাংবাদিক হিসেবে ইত্তেফাকে….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (ছয়)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ও মারিও বার্গাস ইয়োসার মধ্যে মিল অনেক। দুজনেই বিশ্বখ্যাত কথাসাহিত্যিক, দুজনেই লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং দুজনেই সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। মার্কেসের জন্ম ১৯২৭ সালে, কলম্বিয়ায়। তিনি ১৯৮২ সালে নোবেল পুরস্কার পান। আর ইয়োসার জন্ম ১৯৩৬ সালে, পেরুতে। তিনি নোবেল পান ২০১০ সালে। বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও দুজনের….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (পাঁচ)

আলোকচিত্রীদের কাছে রবার্ট কাপা দেবতাতূল্য। যুগ যুগ ধরে তার তোলা ছবি আলোকচিত্রীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়ে আসছে। রণক্ষেত্রে ছবি তোলার ব্যাপারে তিনি ছিলেন দুঃসাহসিক ও সিদ্ধহস্ত। তাই তো তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রধান যুদ্ধ ও অভিযানের আলোচিত্রী হিসেবে গণ্য। তার জীবন অবলম্বনে সিনেমা ও বই হয়েছে। তার নামে করা হয়েছে কনটেম্পোরারি ফটোগ্রাফি সেন্টার, প্রবর্তিত হয়েছে পুরস্কার। তিনি মার্কিন….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (চার)

হেনরিক রস ছিলেন একজন ইহুদি আলোকচিত্রী। তার জন্ম পোল্যান্ডে—১৯১০ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রস পরিসংখ্যান বিভাগের আলোকচিত্রী ছিলেন। পরিসংখ্যান বিভাগটি ছিল নাৎসি বাহিনীর নির্দেশে গঠিত জিউস কাউন্সিলের আওতাধীন। পরিচয় নথিভুক্ত এবং বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করতে রসকে স্টুডিওতে মানুষের ছবি তুলতে হতো। যদিও যুদ্ধের আগে তিনি স্থানীয় একটি পত্রিকার খেলাধুলার আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করতেন। পোল্যান্ড দখলের পর….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (তিন)

কোনো আলোকচিত্রকেই আপনি নাকচ করে দিতে পারেন না। অত্যন্ত দুর্বল ছবিও ইতিহাস লিখতে, কোনো এক সময়ের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে বুঝতে কাজে লেগে যেতে পারে। বিশ্ব-ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবিরগুলোর মধ্যে ‘সোন্ডারকমান্ডো ফটোগ্রাফস’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনী বন্দিদের গণহারে হত্যা করতে যে গ্যাস চেম্বারের ব্যবহার করতো তা প্রথম প্রমাণিত হয় গোপনে তোলা ৪টি আলোকচিত্রের….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (দুই)

মানব-ইতিহাসের বর্বরোচিত ঘটনার দিন ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। বিশ্ব-ইতিহাসে এই ঘটনার তুলনা হয় না। ঘটনাটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা বা ৯/১১ নামে পরিচিত। এই দিন সকালে জঙ্গিরা যুক্তরাষ্ট্রের উপর সিরিজ হামলা চালায়। যাত্রীবাহী চারটি বিমান উড়িয়ে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিধ্বস্ত করা হয়। বড় অাঘাতটি হানা হয় নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে। সিরিজ আক্রমণে ২ হাজার ৯৯৭ জন নিহত….

আলোকচিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড (এক)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ইও জিমা যুদ্ধটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জাপানের ইও জিমা দ্বীপে জাপানি ও মার্কিন সেনাদের মধ্যে যুদ্ধটি চলে ১৯৪৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর প্রায় ৭ সাত হাজার এবং জাপানি বাহিনীর ১৮ হাজারেও বেশি সেনা নিহত হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ২৩ ফেব্রুয়ারি, দ্বীপের সুরিবাচি….