Author Picture

হাইকেল হাশমী

পুরো নাম মোহাম্মাদ মোস্তাফা হাইকেল হাশমী। বিখ্যাত প্রগতিশীল উর্দু কবি নওশাদ নূরীর একমাত্র পুত্র। জন্ম ১৯৬০ সালে ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’এর ব্যস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন যথাক্রমে ১৯৮২ ও ১৯৮৪ সালে। তাছাড়া ইতালির বোকোনি ইউনাভারসিটি, মিলান থেকে “মাস্টার ইন ব্যাঙ্কিং অ্যান্ড ফিনান্স”এর ডিগ্রী লাভ করেন ১৯৯১ সালে। পেশায় একজন ব্যাংকার, বিভিন্ন বেসরকারি বানিজ্যিক ব্যাংক আর বহুজাতিক বিদেশী ব্যাংকে কাজ করেছেন। দুবাই, সিঙ্গাপুর, বেহরেন আর চেন্নাইতে কর্মরত ছিলেন। বাংলা, উর্দু আর ইংরেজী ভাষায় কবিতা লেখেন। তিনি বাংলায় ছোট গল্পও লেখেন। বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে থাকেন। উর্দু আর হিন্দি ভাষার কবিতা ও গল্প অনুবাদ করেন যেটা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। তার তিনটি কবিতার সংকলন রয়েছে, “শেষ নিশ্বাসের প্রথম গান”, “কবিতার ক্যানভাস” আর “শব্দের রক্তক্ষরণ”। তা ছাড়া তিনটি অনুবাদের বই প্রকাশ পেয়েছে, “বাংলাদেশের উর্দু ছোটগল্প, ১ম ও ২য় খন্ড” এবং “উপমহাদেশের উর্দু ছোটগল্প”। তিনি স্ত্রীসহ ঢাকায় থাকেন এবং দুটি সন্তানের জনক।

করোনাকালের গল্প

মহামারিতে একটি বিয়ে এক মাস আগে, হ্যাঁ ঠিক এক মাস আগে সে কতো খুশী ছিল। সময় আর কাটছে না। আমির, যার সাথে তার বিয়ের কথা পাকাপাকি ছিল তার দুবাই থেকে আসার কথা। ২৩ তারিখে তাদের বিয়ে হবে। শেষমেশ ১৫ তারিখ এসে গেল, সেই দিন আমিরের ফ্লাইট লাহোরে আসার কথা। লালা আর তার কয়েকজন বন্ধু তাকে….

হাইকেল হাশমী’র একগুচ্ছ কবিতা

জাগ্রত স্বপ্ন ~ জাগ্রত চোখে কতো স্বপ্ন দেখি কিন্তু জীবনের একটি এড়ো পথে এসে থমকে দাঁড়াই। জীবন তো কোন যানবাহন নয় ইচ্ছে মতো দিক পরিবর্তন করা যায় না থমকে দাঁড়াতে হয়। জীবন তো অনেক দিন ধরে অতিবাহিত করছি এটাও জানি, অভিজ্ঞতা থেকেই জানি জীবন খুব বেশীক্ষণ থেমে থাকে না। জীবন তো স্রোতের মতো নিজ গন্তব্যে….

ক্ষতবিক্ষত

একবার বলে দিলাম তোমার বাচ্চার ভর্তি এখানে হবে না…, যখন বলে দিলাম হবে না তো হবে না। এখন ভদ্র ভাবে এখান থেকে চলে যাও তা না হলে ভাল হবে না। নাসির এই মহিলাকে এক চোখে দেখতে পারে না, তাকে দেখলেই তার মাথায় রক্ত উঠে যায় আর সে রাগের মাথায় যা তা বলতে থাকে। ‘বিনা পয়সায়….

বিদায়

চিঠিতে কোন নামও ছিল না আর কোন ঠিকানাও ছিল না— হাতে লেখা একটি চিরকুট, খামটাও অতিসাধারণ। গুরু দরজা খোলার সময় যদি পাপোষ না সড়াতো তা হলে হয়ত ওটা ওর চোখের গোচরই হত না। সে সব সময় বাইরে যাওয়ার সময় পাপোষটা ভিতরে রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে যায়, কারণ হচ্ছে বাইরে থাকলে পাপোষটা চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা….

প্রেমহীন প্রেম কাহিনির উপক্রমণিকা

আজ ওই হলুদ পাখিটি আবার এলো। বর্ষায় প্রত্যেকদিন সে সময়ে অসময়ে চলে আসে আর গাছের ডালে বসে ভিজে অথবা তার ভেজা পাখা শুকায় আর সুরেলা কন্ঠে ডাকে। কোন সংস্কৃত শ্লোকের বাণী, পরিষ্কার, অবিকল… কিন্তু না জানি কি বলে। এই জায়গার লোকেরা এই পাখির নাম জানেনা শুনে পবিত্রা অনেক আশ্চর্য হল। জিজ্ঞাসা করলে মুখ বাঁকা করে….

শেষ ক্রন্দনরত ব্যক্তির কারাবরণ

এই শহরে সবাই সব সময় হাসতে থাকে, সবাইকে বাধ্যতামূলক ভাবে হাসতে হবে, এই আইন সম্পূর্ণ ভাবে বলবৎ করা হয়েছে। তাই এখানে কারো বিষণ্ণ বা কান্না করার কোন সুযোগ নেই। পুলিশের কনস্টেবল শহরের অলিগলিতে টহল দেয় আর যেই লোকের মুখে হাসি নেই তাকে গ্রেপ্তার করে। আস্তে আস্তে সারা দেশে কোন বিষণ্ণ লোক আর খুঁজে পাওয়া যায়….

error: Content is protected !!