Author Picture

ফারুক মঈনউদ্দীন

ফারুক মঈনউদ্দীন বাংলাভাষার অত্যন্ত পরিশীলিত একজন গল্পকার। তিনি কাব্যময় ভাষায় জীবন-ঘনিষ্ঠ গল্প লিখে থাকেন। সংখ্যায় কম হলেও শিল্পমানের দিক থেকে তার গল্পের তুলনা হতে পারে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় অথবা প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্পের সঙ্গে। যদিও ভ্রমণ-লেখক ও অনুবাদক হিসেবেই ফারুক মঈনউদ্দীন পাঠকের কাছে বেশি পরিচিত। এ ছাড়া ব্যংকিং বিষয়েও তার মূল্যবান একাধিক বই রয়েছে।

ফারুক মঈনউদ্দীন ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে কুমিল্লা বোর্ডের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন ১৯৭৬ সালে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালে এবি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৮৭ সালের ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অধুনালুপ্ত বিসিসিআই ব্যাংক স্বর্ণপদক লাভ করেন। পেশাগত জীবনে বিভিন্ন ব্যাংকের উচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োজিত আছেন।

সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

হাফিজের তুর্কি রমণী ও সমরকন্দ

সুফি কবি হাফিজের সেই বিখ্যাত পংক্তিদ্বয় ছাড়াও কবি ও কথাশিল্পী এডগার এলান পো যে নগরী সম্পর্কে বলেছিলেন “এবার তাকাও সমরকন্দের দিকে/ সে কি রাণী নয় পৃথিবীর?/ সকল নগরী ছাপিয়ে ওঠেনি কি গৌরব তার?/ তার হাত কি দেখিয়ে দেয়নি নিয়তির পথ?/ বিশ্বের জ্ঞাত সব মহিমার পাশে/একাকী অভিজাত দাঁড়ানো নয় কি সে?” কিংবা “শরীরের মাংস থেকে আত্মা….

উত্তম বিহার থেকে বুখারা

তাসখন্দ থেকে ভোররাতের অন্ধকারে রওনা হয়ে বুখারা যখন পৌঁছি, তখন সকাল মাত্র আড়মোড়া ভাঙছে। প্লেন থেকে টারমাকে পা দেওয়ার আগেই শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রার কামড় হিলহিল করে শরীরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। গায়ে ছিল না পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, তাই টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের উষ্ণতায় স্যুটকেস খুলে প্রথমেই পাতলা জ্যাকেটটা বের করতে হয়। জানি এই পাতলা উইন্ডচিটারে কোনো কাজ হবে না।….

রেশমপথের তাসখন্দে

ছাত্রাবস্থায় লোকাল ট্রেন বা বাসে চড়ার অভিজ্ঞতা হয়নি এমন মধ্যবিত্ত সন্তান বিরল। কলেজের হোস্টেলে সিট পাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুদিন সকাল বেলায় ডেলি প্যাসেঞ্জার আর ভিক্ষুক বোঝাই করে ফেনী শাটল নামের যে ট্রেনটি চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতো, সেই ট্রেনে চড়ে কলেজে হাজিরা দিয়েছি বহুদিন। স্থানীয় লোকজন মজা করে এই ট্রেনের নাম দিয়েছিল ‘ফইন্নির ট্রেন’। ফেরার সময় প্রায়ই….

error: Content is protected !!