Author Picture

খন্দকার রেজাউল করিম

শিক্ষক, গবেষক, লেখক। তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু ১৯৭৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা যান। ১৯৮৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব অরিগন থেকে পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরে ৩০ বছর কাটিয়েছেন আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনা ও শিক্ষকতার কাজে। বর্তমানে তিনি আমেরিকার ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ইমিরেটাস প্রফেসর।
ড. করিম গবেষনার কাজে জড়িত ছিলেন নাসা, মার্কিন জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা, মার্কিন এনার্জি সংস্থা, ন্যাটো, টোকোমাক ফিউশন টেস্ট রিয়্যাক্টর এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান প্রকল্পে। তাঁর ৮০টি গবেষনা-প্রবন্ধ রয়েছে। এর বাইরে লিখেছেন দুটি বই- Quantum Nursery Rhymes ও কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার।

ত্রিভুজ প্রেমের মামলা

সাদা মানুষ, কালো মানুষ আমেরিকায় সাদা মানুষ এবং কালো মানুষ কখন সবচেয়ে বেশি আলাদা হয়ে পড়ে? রবিবার সকাল নয়টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত। আমেরিকার প্রাপ্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সাদা-কালো সম্প্রীতির আলোচনা করতে গিয়ে এই মর্মান্তিক সত্যটা ফাঁস করে দিয়েছিলেন, ‘most segregated hour of American life occurs on Sunday morning!’ কি হয় তখন? প্রার্থনা। প্রতিটি গির্জায়….

ত্রিভুজ প্রেমের মামলা

কালো ধোঁয়া   ‘আর যদি দ্যাখোম, আর যদি শুনম, অন্য জনের সাথে কথা, এ হেন যৌবন সাগরে ভাসাবো, পাষাণে ভাঙিব মাথা।’ সেই ‘হটাৎ দেখার’ পর প্রতি রবিবার বিকালে বেসবল ক্যাম্পে সুজানের সাথে কেভিনের দেখা হয়। আর সব মায়ের মতো সুজান দর্শকের গ্যালারিতে বসে থাকে। জেসি একটা রান করলে উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়ায়, হাততালি দেয়। রবিবারের….

ত্রিভুজ প্রেমের মামলা

যে ছিল আমার স্বপনচারিনী   ‘I had a dream the other night, when everything was still; I thought I saw Susanna dear, coming down the hill.’ সুজান ছিল তার স্বপনচারিনী। সে যে কারো জায়া বা জননী, এমন সম্ভবনার কথা কেভিন স্বপ্নেও ভাবে নি। সুজানকে দেখে অল্পবয়েসী তরুণী মনে হয়েছিল। একটু আগে কেভিনের ফ্যাকাসে মুখের দিকে….

হটাৎ দেখা

‘মনের জালে দুঃখের বৃষ্টি ঝুমঝুমাইয়া পড়ে, একলা ঘরে ভালোবাসা কেঁদে কেঁদে মরে। ইন্দুবালা গো, তুমি কোন আকাশে থাকো! ডুবিয়া মরিলাম, মরিয়া ডুবিলাম, তোমারি প্রেমে পড়িলাম।’ স্কুল এবং কলেজ জীবনে কেভিন ছিল সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সেই এতটুকু বয়েস থেকেই আমেরিকার জাতীয় বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। সব স্বপ্ন মাঠে মারা গেছে। কলেজ থেকে শারীরিক ব্যায়াম….

ত্রিভুজ প্রেমের মামলা

গৃহদাহ . “আমার বঁধুয়া আনবাড়ি যায়, আমারি আংগিনা দিয়া ঘাঁটা।” আমেরিকার এক আদালতে আসামীর কাঠগড়ায় ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে। নারীনির্যাতন, প্রেমিকার গৃহে অগ্নিসংযোগ, এবং একজন নারী ও একটি কুকুরের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে ওর বিচার চলছে। কালো পোশাকপরা এক উকিল ছেলেটিকে জেরা করছে। আদালতের একজন কর্মচারী আসামীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করছে, ভাবলেশশূন্য মুখে বিচারক সবার কথা মনোযোগ….

প্রেমের বুলি

একজন তরুণ প্রেমিক। পিটুইটারি গ্ল্যান্ড এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোর দল বানের জলের মতো রক্তে ঢেলে দিচ্ছে ডোপামিন, সিরোটোনিন, অক্সিটোসিন, টেসটোস্টেরন জাতীয় প্রেমের হরমোন। কপালগুণে জুটেছে ভালোবাসার জন- তাকে জানাতে হবে তোলপাড় হৃদয়ের কথা। কিন্তু কেমন করে? প্রেমের হরমন সবাইকে অল্প সময়ের জন্য লাইলী বা মজনু বানিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মুখে প্রেমের বুলি জোটাতে পারে না। মনভোলানো….

রোমান্টিক প্রেমের চিঠি

রবীন্দ্রনাথের ‘সমাপ্তি’ ছোটগল্পে মৃন্ময়ী তার স্বামীকে লিখেছিলো, ‘তুমি কেমন আছ, আর তুমি বাড়ি এসো। এইবার তুমি আমাকে চিঠি লিখো, আর কেমন আছ লিখো, আর বাড়ি এসো, মা ভালো আছেন, বিশু পুঁটি ভালো আছে, কাল আমাদের কালো গোরুর বাছুর হয়েছে।’ ছেলেবেলায় একটি বইয়ে, লেখকের নাম ভুলে গেছি, আরেকটি প্রেমের চিঠি পড়েছিলাম, যেখানে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে লিখছেন,….

ভীরু প্রেম

কি ভেবে পাঠালে চিঠিখানি, কি কথা ছিল যে মনে। তুমি সে কি লিখে গেলে, আমি বসে বসে পড়ি নিয়ে কম্পিত হৃদয়খানি, তুমি আছো দূর ভুবনে। আমি তখন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসাবে চাকরি শুরু করেছি। রঙিন খামে একটা চিঠি পেলাম। খামের উপরে মেয়েলি হাতে আমার নাম-ঠিকানা লেখা। খামের ভিতরে আরেকটি রঙিন কাগজের চিঠি, সাথে গোলাপ ফুলের….

মারমুখো প্রেম

“প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরা পড়ে, কে জানে… গরব সব হায় কখন টুটে যায়, সলিল বহে যায় নয়নে।” আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক-শিক্ষিকারা খুব কাছাকাছি থেকে পরস্পরকে জানাজানির সুযোগ পায়, তাই প্রেমের জাল এখানে বিশেষ ভাবে ছড়ানো। অনেকে এই জালে বারে বারে জড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত নিজেদের মধ্যেই প্রেম বিনিময় করে, তবে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও কখনো….

রোমান্টিক প্রেম

‘আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-লেখা সে রহে কোথায়, হায়!’ উনিভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়াতে একাকী লাঞ্চ করছিলাম। পাশের টেবিল থেকে মেয়েটি উঠে এসে আমার টেবিলের একটি চেয়ার টেনে বসে পড়লো। বললো, ‘ধন্যবাদ, আমি আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।’ ‘আমি কি তোমাকে চিনি?’ ‘এক কালে চিনতেন। এখন হয়তো ভুলে গেছেন। তিন বছর আগে আমি আপনার অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাসের ছাত্রী….

error: Content is protected !!