কি ভেবে পাঠালে চিঠিখানি,
কি কথা ছিল যে মনে।
তুমি সে কি লিখে গেলে,
আমি বসে বসে পড়ি
নিয়ে কম্পিত হৃদয়খানি,
তুমি আছো দূর ভুবনে।

আমি তখন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসাবে চাকরি শুরু করেছি। রঙিন খামে একটা চিঠি পেলাম। খামের উপরে মেয়েলি হাতে আমার নাম-ঠিকানা লেখা। খামের ভিতরে আরেকটি রঙিন কাগজের চিঠি, সাথে গোলাপ ফুলের পাপড়ি। চিঠির চারিদিকে কয়েকটি হৃৎপিণ্ডের ছবি আঁকা। একটি হৃৎপিণ্ডে তীর বিঁধে আছে, ক্ষতস্থান থেকে লাল রঙের রক্ত ঝরেছে।

চিঠির চারিদিকে কয়েকটি হৃৎপিণ্ডের ছবি আঁকা। একটি হৃৎপিণ্ডে তীর বিঁধে আছে, ক্ষতস্থান থেকে লাল রঙের রক্ত ঝরেছে

চিটিজুড়ে উচ্ছ্বাস এবং বানানভুলের ছড়াছড়ি, বিষয়বস্তু চিরকালীন, তবে প্রেমের চিঠি হিসাবে চিঠির শুরু এবং সমাপ্তিটা ছিল অভিনব:
‘সবিনয় নিবেদন’ এবং ‘ইতি, আপনার একান্ত ব্যাধ্যগত ছাত্রী।’
চিঠিতে প্রেরকের কোনো নাম-ঠিকানা ছিল না, তাই এই ‘বাধ্যগত ছাত্রীটি’ কে তা চিরদিনের জন্যে অজানাই রয়ে গেল।

আরো পড়তে পারেন

প্রেমের বুলি

একজন তরুণ প্রেমিক। পিটুইটারি গ্ল্যান্ড এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোর দল বানের জলের মতো রক্তে ঢেলে দিচ্ছে ডোপামিন, সিরোটোনিন, অক্সিটোসিন, টেসটোস্টেরন জাতীয় প্রেমের হরমোন। কপালগুণে জুটেছে ভালোবাসার জন- তাকে জানাতে হবে তোলপাড় হৃদয়ের কথা। কিন্তু কেমন করে? প্রেমের হরমন সবাইকে অল্প সময়ের জন্য লাইলী বা মজনু বানিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মুখে প্রেমের বুলি জোটাতে পারে না। মনভোলানো….

নিঃসঙ্গ নারী

অনিন্দ্য সুন্দরী তরুণী আজিজা। সামান্য কালো বিড়ালকেও ভয় পাওয়ার মত সরল তার মন। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত চেহারায় শেখ সাইদের সামনে ঠায় বসে আছে সে। শেখ সাইদের গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ চোখ দুটো কেমন যেন বন্যভাবে তাকিয়ে আছে আজিজার দিকে। মেয়েটি এক অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে উদগ্রীব হয়ে আছে, যে যন্ত্রণা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। এদিকে শেখ সাইদের কক্ষে….

রোমান্টিক প্রেম

‘আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-লেখা সে রহে কোথায়, হায়!’ উনিভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়াতে একাকী লাঞ্চ করছিলাম। পাশের টেবিল থেকে মেয়েটি উঠে এসে আমার টেবিলের একটি চেয়ার টেনে বসে পড়লো। বললো, ‘ধন্যবাদ, আমি আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।’ ‘আমি কি তোমাকে চিনি?’ ‘এক কালে চিনতেন। এখন হয়তো ভুলে গেছেন। তিন বছর আগে আমি আপনার অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাসের ছাত্রী….

error: Content is protected !!