Author Picture

নিঃসঙ্গ নারী

কাউসার মাহমুদ

অনিন্দ্য সুন্দরী তরুণী আজিজা। সামান্য কালো বিড়ালকেও ভয় পাওয়ার মত সরল তার মন। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত চেহারায় শেখ সাইদের সামনে ঠায় বসে আছে সে। শেখ সাইদের গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ চোখ দুটো কেমন যেন বন্যভাবে তাকিয়ে আছে আজিজার দিকে। মেয়েটি এক অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে উদগ্রীব হয়ে আছে, যে যন্ত্রণা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। এদিকে শেখ সাইদের কক্ষে রাখা তামার পাত্র থেকে উত্থিত ‘ধূপগন্ধী’ দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। যা আজিজার নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করে ক্রমশ তার সমস্ত শরীর নিস্তেজ করে তুলছে।

খানিক বাদে শেখ সাইদ নিরবতা ভঙ্গ করে বলে, ‘তা তুমি তোমার স্বামীকে তোমার কাছে ফেরত চাচ্ছো?’

‘হ্যাঁ তাকে আমি আমার কাছে ফিরে পেতে চাই’—দ্বিধাভরা কণ্ঠে আজিজা উত্তর দেয়।

এতে শেখ সাইদ মৃদু হাসে এবং কণ্ঠে একরাশ শোকতাপ ফুটিয়ে বলে, ‘কিন্তু তার পরিবার তো তাকে আবার বিয়ে করাতে চায়!’

গনগনে কয়লার পাত্রটিতে আরো কিছু ধূপ নিক্ষেপ করতে করতে শান্ত-নরোম গলায় আজিজাকে আশ্বস্ত করে বলে, ‘তোমার স্বামী তোমার কাছে ফিরে আসবে এবং সে আর কাউকে বিয়ে করবে না।’

শেখ সাইদের গম্ভীর কণ্ঠস্বর আজিজাকে প্রবোধ দেয়। তার বুক থেকে একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।

শেখের হোবদা মুখটা তখন দপ করে জ্বলে ওঠে। বুভুক্ষের মত বলে, যাহোক, ‘সস্তায় কিন্তু আমার কাজ হবে না।’

আজিজা মাথা নীচু করে। আনত নয়নে, ক্ষীণ-স্বরে কব্জিতে থাকা চিক্কণ সোনার চুড়িটার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আপনি যা চান তাই দেব আমি।’

উত্তর শুনে বিশ্রি, কুটিল এক হাসি ছড়িয়ে পরে শেখের মুখাবয়বজুড়ে। ফিসফিস করে সে আজিজাকে বলে,‘তুমি সামান্যই খোয়াবে। কিন্তু বিনিময়ে ফিরে পাবে তোমার স্বামীকে।’

‘আচ্ছ! তা তুমি তাকে ভালোবাসো তো?’

আজিজা ক্রোধাগ্নি হয়ে বিড়বিড় করে, ‘না। ভালোবাসি না।’

‘তার সাথে ঝগড়া করেছো?’

‘হ্যাঁ! ওর পরিবারের সাথে ঝগড়া করেছি।’

‘হুম বুঝেছি। তা এবার বলোতো—‘কখনো কি তোমার বুক খুব ভার মনে হয়?’

‘হ্যাঁ। মাঝেমাঝে মনে হয় যে, খুব ভারি কিছু একটা আমার বুকের উপর চেপে আছে।’

‘রাতে কোন দুঃস্বপ্ন দেখ?’

‘হ্যাঁ, প্রায় প্রতিরাতেই,আচমকা কি এক ভয়ে যেন ঘুম থেকে জেগে উঠি!’

—সামান্য এই কথোপকথন শেষে শেখ সাইদ বার কয়েক গম্ভীরভাবে তার মাথা দুলিয়ে বলে, ‘নিশ্চিত তোমার শ্বাশুড়ি তোমায় কোন কালো জাদু করেছে ‘

এই শুনে আজিজা আতকে ওঠে। ভয়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, ‘এখন কি করবো আমি?’

শেখ তখন তাকে বোঝায়—‘সমস্যা নেই। তাদের এই মন্ত্র কাটাতে ধূপ খরচ বাবদ মাত্র দশ পাউণ্ড লাগবে।’

শেখের এই প্রস্তাব শুনে কিছুক্ষণ নীরব থাকে আজিজা। এরপর নিজের অন্তর্বাসের ভেতর থেকে দশ পাউন্ড বের করে শেখ সাইদের হাতে দিয়ে আর্তকণ্ঠে জানায়, ‘সাকুল্যে এই ছিল আমার কাছে।’

টাকা নিয়ে শেখ সাইদ উঠে দাঁড়ায় এবং সামনের জানালা দুটোর পর্দা নামিয়ে দেয়। যেখান থেকে সরু গলিটা স্পষ্ট দেখা যায়। এরপর সে ধীরপায়ে ফিরে আসে এবং জ্বলন্ত অঙ্গার পূর্ণ তাম্র পাত্রটির কাছে এসে বসে। যার উপর মসৃণ সাদা ছাইয়ের গাদার ভেতর ধিকধিক অগ্নিলাভা প্রজ্বলিত। তাতে সে আরো কিছু ধূপ নিক্ষেপ করে বলে, ‘আমার জ্বিন ভাইয়েরা আলো ঘৃণা করে এবং অন্ধকার ভালোবাসে। কারণ, তাদের আবাসস্থল মাটির নীচে।’

আজিজা শেখের তাম্র পাত্রটির পাশে শুয়ে পড়ে। শেখ সাইদ আজিজার কপালে তার হাত রাখে এবং দুর্বোধ্য শব্দের কোনকিছু পাঠ করতে থাকে

তখন বাহিরে ফর্সা রমণীর মতো ধবধবে উজ্জ্বল দিন। পথের উপর গমগমে হলুদ সূর্যের শিখা ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে এবং মানুষের কোলাহলের সাথে মিশে যাচ্ছে। কিন্তু এমন সময়ও শেখ সাইদের বদ্ধ কামরাটি নিশ্চুপ ও অন্ধকার।

শেখ সাইদ বলতে থাকে, আমার জ্বিন ভাইয়েরা বেশ দয়ালু। তাদের ভালোবাসা পেলে তুমি সৌভাগ্যবান হবে। তারা সুন্দরী নারীদের পছন্দ করে। যাহোক, তোমার বোরকা খোলো।

আজিজা আচ্ছন্নের মত তার কালো বোরকা খোলে। আঁটসাঁট পোষাকাবৃত তার শরীর প্রকাশিত হয় শেখ সাইদের বন্য চোখ দুটির সামনে। সে তখন বেশ নীচু, রহস্যময় এক স্বরে হলুদপৃষ্ঠার একটি পুরনো পুস্তিকা পড়া শুরু করে। কিছুক্ষণ পর সে তাকে বলে, ‘কাছে আসো। এখানে শোও।’

আজিজা শেখের তাম্র পাত্রটির পাশে শুয়ে পড়ে। শেখ সাইদ আজিজার কপালে তার হাত রাখে এবং দুর্বোধ্য শব্দের কোনকিছু পাঠ করতে থাকে। এরপর হঠাৎ সে বলে ওঠে, ‘চোখ বন্ধ করো। এক্ষুণি আমার জ্বিন ভাইয়েরা আসবে।’

আজিজা চোখ বন্ধ করে। একইসাথে শেখ সাইদের কণ্ঠও আরো কর্কশ হয়ে ওঠে। কঠোর, নির্দেশসূলভ কন্ঠে সে বলে, ‘সব কিছু ভু্লে যাও।’ এরপর তার হাত দুটো  ধীরেধীরে আজিজার মসৃণ মুখাবয়ব স্পর্শ করে। আজিজার তখন তার পিতার কথা মনে পড়ে। কিন্তু না। এ হাত তো তেমন না! বরং শেখের হাত দুটো বড়ো খসখসে, শক্ত এবং অদ্ভুত এক গন্ধের। বহু বলিরেখার বিশাল এক দানবের হস্ত যেন। একইসাথে তার কণ্ঠও ভীষণ অস্বাভাবিক। ধূলিধূসর দেয়ালের সাথে এই বদ্ধ, নিস্তব্ধ ঘরের ভেতর ক্রমশই তা গুমোট হয়ে উচ্চে উঠছিল। কিন্ত এখানেই কি শেষ! ধীরেধীরে শেখের হাত তার মুখাবয়ব ছেড়ে এবার গণ্ডদেশে গিয়ে পৌঁছে। তখন সে তার স্বামীর হাতের কথা মনে করে যা মেয়েদের হাতের মতো নরোম ও সরু। আর যে কিনা তার বাবার দোকানেই একজন কেরানি হিসেবে কাজ করে। কিন্ত কোনদিনই কোমলভাবে সে তার স্ত্রীর গণ্ডদেশ স্পর্শ করেনি। পরিবর্তে, সবসময়ই তার নখর আঙ্গুল তড়িৎ আজিজার উরুর মাংস খামচে ধরেছে।

শেখ তার দুই হাত আজিজার বুকের উপর রাখে। ধীরে ধীরে তা আজিজার উভয় স্তনের ওপর বিচরণ করে। তারপর লম্বা হয়ে একদম শরীরের নীচ পর্যন্ত নেমে যায়, এবং কিছুক্ষণ পর পুনরায় আবার তার বক্ষ-পুষ্পের উপর ফিরে আসে। এবার তা পুর্বের মত কিছুটা নরোমভাবে বিচরণ শুরু করলেও ধীরেধীরে পাগলের মত তার স্তন দুটো চাপতে শুরু করে। এতে আজিজা ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে। খুব কষ্টে সে তার চোখ খোলে। এবং সমস্ত ঘরময় ছড়িয়ে থাকা সাদা ধোঁয়ার দিকে নিঃসার তাকিয়ে থাকে।

শেখ সাইদ তখন দ্রুত আজিজার বুক থেকে তার হাত সরিয়ে নেয় এবং নিজের পাঠ চালু রাখে। আরো কিছু ধূপগন্ধী তাম্র পাত্রের সে গনগনে কয়লার ভেতর নিক্ষেপ করে বলে, ‘আমার জ্বিন ভাইয়েরা আসছে, তারা আসছে!’

এতে যেন বিদ্যুৎচমকের মত ভীষণ শক্ত এক ঝাঁকুনি আজিজার সমস্ত শরীরে বয়ে যায়। সে আবার তার চোখ বন্ধ করে। শেখ সাইদ তখন অপার্থিব কোন এক স্বরে তাকে বলে, ‘আমার জ্বিন ভাইয়েরা সুন্দরী নারীদের ভালোবাসে। তাই তারা যখন আসবে, তখন তাদের সামনে আমি তোমাকে উলঙ্গ দেখাতে চাই। এতে তারা তোমার উপর করা সমস্ত কালো জাদু সরিয়ে নেবে।’

ভীত আজিজা ফিসফিস করে, না…না…

প্রতিউত্তরে শেখ সাইদ দৃঢ়ভাবে নিষেধ করে বলে, ‘তারা তোমাকে ভালো না বাসলে কষ্ট দেবে।‘

আজিজার তখন রাস্তায় দেখা এক লোকের কথা মনে হয়। যে কিনা মাটিতে ভূপাতিত হওয়া-পূর্ব কোন আহত জন্তুর মতো চিৎকার করছিল। তার মুখ বেয়ে সাদা লালা ঝরছে—এবং যখন সে মাটিতে পড়ে তখন হাত পা ছুড়ে কাতরাচ্ছিল।

এদিকে ধূপের গন্ধ ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। আজিজা একনাগাড়ে জোরেজোরে শ্বাস নিচ্ছে। তখনই শেখ সাইদ চিৎকার করে ওঠে, ‘আসো, আসো—অভিবাদন, অভিবাদন।

দ্রুত আজিজার বুক থেকে তার হাত সরিয়ে নেয় এবং নিজের পাঠ চালু রাখে। আরো কিছু ধূপগন্ধী তাম্র পাত্রের সে গনগনে কয়লার ভেতর নিক্ষেপ করে

তার এই উল্লোসিত অভিবাদনের পর, আজিজা এক মৃদু আনন্দ হাসি ও কিছু অবোধ্য শব্দ শুনতে পায়। যার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারে না সে। সেইসাথে সমস্ত ঘরজুড়ে বেটেজাতীয় বিরাট এক জন্তদলের উপস্থিতি উপলব্ধ হয় তার। কিন্ত বারকয়েক চেষ্টা করেও নিজের চোখ খুলতে পারে না। অথচ সেসব জান্তবের উত্তপ্ত নিঃস্বাশও সে ঠিক তার মুখের উপর অনুভব করে। এদের কেউ তার নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরে এবং সতৃষ্ণায় তা নিংড়াতে থাকে।

এদিকে বিবস্ত্র দেহের নীচে কার্পেটখানা বেশ ভারী। ধূপগন্ধ চারপাশ আঁধার করে রেখেছে। ধূপের ধোঁয়া একটি পুরুষাকৃতি ধারণ করে বাহু দিয়ে তাকে জড়িয়ে হিংস্র চুম্বনে তাকে বিবশ করে তুলছে। এবং একটা প্রচণ্ড আগুন সবেগে উৎক্ষেপিত হয়ে তার রক্তের ভেতর প্রবেশ করে, যখন তার মু্খ তার ঠোঁট ছেড়ে শরীরের অন্য স্থানসমূহে চলে যায়।

আজিজা ভীত। অনবরত উর্ধ্বশ্বাস ছাড়ে, এবং এতোটাই আতঙ্কিত যে, সে নড়তেও ভয় পায়। এরপর আবার তার ভয় প্রশমিত হয়ে আসে। সে তখন নতুন এক স্বাদের আবেশ পেতে শুরু করে।

‘যেন সে কোন উজ্জ্বল নক্ষত্রবিথিকার দিকে তাকিয়ে হাসছে। গাঢ় নীল আকাশ। হলুদ সমভূমি এবং জ্বলজ্বলে লাল সূর্য। কিছুটা দূরত্বে নদীর কলকলধ্বনি শুনছে। ওহ নদী! সে তো দূরে। কিন্তু আর দূরে থাকবে না। সে আনন্দে হাসে। বেদনা যেন শিশুর মত তার থেকে বহু দূরে চলে গেছে। এখন সে কৈশোরে। প্রতিবেশী ছেলে তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছে। না, না, এ বড় লজ্জার। সেই রুটির দোকানের কর্মচারীটা তাকে রুটি দেয়ার সময় যখন সে দরোজার সামনে দাড়িয়ে থাকে তখন হঠাৎই তার হাত ছুটে আসে এবং তার ছোট্ট স্তনে চাপ দেয়। সে তখন ব্যথা পায়। ক্ষীপ্ত হয় এবং কেঁপে ওঠে। তার হাত এখানে কেন? এই তো আবারও তার হাত আরো একবার তার শরীর অধিকার করে নিচ্ছে। বিয়ের রাতে ব্যথায় চিৎকার করেছিল সে। কিন্তু এখন চিৎকার করছে না। সে দেখে তার মা একটি রুমাল ধরে আছে। রক্ত নিষিক্ত। যখন তার আত্মীয়রা কৌতুহল নিয়ে ওটার দিকে তাকায়, তার মা চিৎকার করে ওঠে। আনন্দে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে—‘আমার মেয়ে সবার সেরা। শত্রুদের হিংসার মৃত্যুতে নিপতিত হতে দাও।’ আজিজা শুকনো হলুদ মাঠে ফিরে আসে। জলবিহীন শুষ্ক মাঠ। আকাশে খণ্ডখণ্ড মেঘেরা জমে আছে। সূর্যের উত্তাপ তার একদম কাছে চলে এসেছে । সে মুচড়িয়ে ওঠে, দৃঢ় হয়। লাজে আরক্তিম হয়ে ওঠে। তার শরীর উত্তপ্ত অগ্নিশিখায় পুড়ে যায়। সূর্য তার অগ্নিলাভা নিয়ে একেবারে তার কাছাকাছি চলে এসেছে। তাপ তার রক্তের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। আজিজার কোথাও ভ্রুক্ষেপ  নেই। এই মুহুর্তে মুষলধারে বৃষ্টি নামে আর তার সমস্ত শরীর কেঁপে ওঠে।’

এর কিছু পরে শেখ সাইদ তার উলঙ্গ শরীরের উপর থেকে নেমে আসে এবং জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। দিনের আলো আবার বদ্ধ ঘরে প্রবেশ করে। আজিজার ফরসা শরীর সূর্যের আলোয় জ্বল জ্বল করে ওঠে। সে তার বিধ্বস্ত অঙ্গসমূহ ঠিকঠাক করে। খুব ধীর, সতর্কতার সাথে চোখ মেলে তাকায়। বাইরে সূর্যের ঔজ্জ্বল্য দেখে সে চমকে যায়।

শেখ সাইদ তাকে প্রবোধ দিয়ে বলে, ‘চিন্তা করো না। আমার জ্বিন ভাইয়েরা চলে গেছে।’

আজিজা নীচে নামে। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হাতে তার কাপড় তুলে গায়ে জড়ায়। তার ইচ্ছে করে—নিশ্চল হয়ে চোখ বন্ধ রেখে দীর্ঘসময় ধরে যদি একটু বসে থাকা যেত এখানে!

শেখ সাইদ তখন হাতের চেটো দিয়ে মুখ মুছে তাকে দ্বিতীয়বার বলে, ‘ভয় পাবে না। ওরা চলে গেছে।’

আজিজার গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। এমন সময় বাইরে গলির থেকে কোনো হকারের ডাক ভেসে আসে। তার কাছে ওই ডাক হতাশাগ্রস্ত কোন মানুষের কান্নার শব্দের মতো শোনায়; যে নিরাশ কখনো মারা যাবে না বলে।

কিছুক্ষণ পর, একাকী মোড়ানো সরু গলিটার ভেতর দিয়ে হেঁটে যায় আজিজা। আশান্বিত হয়ে সে ওপরের দিকে তাকায়। কী অদ্ভুত! কোথাও কোন পাখি দেখা যায় না । মাথার ওপর তার শূন্য নীল আকাশ।

আরো পড়তে পারেন

প্রেমের বুলি

একজন তরুণ প্রেমিক। পিটুইটারি গ্ল্যান্ড এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোর দল বানের জলের মতো রক্তে ঢেলে দিচ্ছে ডোপামিন, সিরোটোনিন, অক্সিটোসিন, টেসটোস্টেরন জাতীয় প্রেমের হরমোন। কপালগুণে জুটেছে ভালোবাসার জন- তাকে জানাতে হবে তোলপাড় হৃদয়ের কথা। কিন্তু কেমন করে? প্রেমের হরমন সবাইকে অল্প সময়ের জন্য লাইলী বা মজনু বানিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মুখে প্রেমের বুলি জোটাতে পারে না। মনভোলানো….

ভীরু প্রেম

কি ভেবে পাঠালে চিঠিখানি, কি কথা ছিল যে মনে। তুমি সে কি লিখে গেলে, আমি বসে বসে পড়ি নিয়ে কম্পিত হৃদয়খানি, তুমি আছো দূর ভুবনে। আমি তখন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসাবে চাকরি শুরু করেছি। রঙিন খামে একটা চিঠি পেলাম। খামের উপরে মেয়েলি হাতে আমার নাম-ঠিকানা লেখা। খামের ভিতরে আরেকটি রঙিন কাগজের চিঠি, সাথে গোলাপ ফুলের….

রোমান্টিক প্রেম

‘আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-লেখা সে রহে কোথায়, হায়!’ উনিভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়াতে একাকী লাঞ্চ করছিলাম। পাশের টেবিল থেকে মেয়েটি উঠে এসে আমার টেবিলের একটি চেয়ার টেনে বসে পড়লো। বললো, ‘ধন্যবাদ, আমি আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।’ ‘আমি কি তোমাকে চিনি?’ ‘এক কালে চিনতেন। এখন হয়তো ভুলে গেছেন। তিন বছর আগে আমি আপনার অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাসের ছাত্রী….

error: Content is protected !!