আহমদ ছফার দুর্বল উপন্যাস ‘অলাতচক্র’

জাহেদ সরওয়ার

অলাতচক্র পড়া শেষ হলে একটা মন্তব্য উদয় হয় মনে যে অলাতচক্র ছফার উপন্যাসের মধ্যে দুর্বল উপন্যাস। সম্ভবত ছফার উপন্যাসের মধ্যে শক্তিশালী চরিত্র হচ্ছে আলী কেনান। সে হিসাবে দানিয়েল খুবই দুর্বল একটা চরিত্র। তবে বাস্তব ভিত্তিক উপন্যাস লেখা খুবই কঠিন কাজ। তাই এখন আমাদের অধিকাংশ তরুণরাই পৌরাণিক কাহিনির দিকে ধাবিত হয়। যেহেতু সেখানে ছকটা বানানো থাকে। লেখক হিসাবে আহমদ ছফার সাহসের প্রশংসা করতে হয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্র হওয়ার পিছনে যেহেতু একাত্তরের একটা বিরাট ভূমিকা আছে। একাত্তর নিয়ে এখনও অনেক ইতিহাস উহ্য আছে, বিতর্ক আছে। সেখানে তিনি সেই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে অকাতরে বয়ান দিয়েছেন চরিত্রগুলোর মুখের সংলাপে। একাত্তরে প্রায় এককোটি শরনার্থী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলকাতায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। সে সময়ে কলকাতা যায় দানিয়েল। এই দানিয়েল হয়ে উঠতে পারত সেই সময়ের একটা প্রতিচ্ছবি। কিন্তু অনেক সম্ভবনা নিয়ে চরিত্রটি স্ত্রৈণ্যে পরিণত হয়। একটা ভাঙ্গাচোরা চরিত্র হিসাবে টিকে থাকে। পুরো উপন্যাসেই চরিত্রটির কোনো অবয়ব তৈরি হয় না। আর উপন্যাসের কেন্দ্রে থাকে তৈয়বা নামের ক্যান্সার আক্রান্ত পঙ্গু একটা চরিত্র। তৈয়বা চরিত্রটি পাঠকের জন্য প্রচুর বিরক্তির উদ্রেক করে। দানিয়েল মূলত পেটি বুর্জোয়া। এক পলাতক চরিত্র। দানিয়েলের মা বাবা ভাইয়ের ছেলেরা সবাই দেশে তবু সে ‘হতে চেয়েছিলাম জিনিয়াস’ টাইপের মানসিকতার পেটি বুর্জোয়া। যাকে নাকি লোকজন বলেছে তোমার মত বুদ্ধিজীবী কেন যুদ্ধে যাবে, তোমার বেঁচে থাকা উচিত। আর সে সবে উদ্বুদ্ধ হয়ে সে চট্টগ্রামে নিজের পরিবার ফেলে কলকাতায় পালিয়ে গেছে। দানিয়েলের কলকাতা ভ্রমণ এক ধরণের রোমান্টিক যাত্রা। তাইয়েবার সাথে দানিয়েলের তেমন কোন সম্পর্ক ছিল না বরং তাদের মধ্যে শ্রেণি সমস্যা প্রকট। আর এ কারণেই দানিয়েলের মনে তাইয়েবার প্রতি ভিন্ন রকমের ফিলিংস থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া রবীন্দ্র অন্তপ্রাণ শিক্ষিত বুর্জোয়া পরিবারের মানসিকতা বেড়ে উঠা তাইয়েবার মনে তেমন কোন ফিলিংস তৈরি হয় নাই। দানিয়েল নোংরা হয়ে থাকে, তৈয়বাদের বাড়ি গেলে দানিয়েল তৈয়বা বিছানায় একটা অতিরিক্ত চাদর বিছিয়ে দিতো কারন দানিয়েলের নোংরা পা। কিন্তু এই তাইয়েবাই উপন্যাসের কেন্দ্র। তাকে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে অলাতচক্র। এই চরিত্রটি উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত পাঠকের মনে বিরক্তি তৈরি করতে থাকে। কলকাতার হাসপাতালে নাটকীয়ভাবে তাইয়েবাকে খুঁজে পাওয়া থেকে শুরু করে উপন্যাসটি এগুতে থাকে। তাইয়েবা পার্টি করতো বা ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল বলা হলেও এই ধরণের কোনো দৃশ্য তৈরি হয়নি উপন্যাসে। তাইয়েরবার বোন ডোরা বয়স্ক জাহিদকে বিয়ে করে। তাইয়েবার ভাইও একটা বিয়ে করে। এসব নিয়ে প্রচুর বাজে কথা আছে উপন্যাসে। যা আসলেই অপ্রাসঙ্গিক। যার যখন খুশি যাকে খুশি বিয়ে করতেই পারে। বয়স্ক জাহিদকে ডোরা বিয়ে করেছে বলে দানিয়েল কমপ্লেক্সিতে ভোগে। দানিয়েল চরিত্রটির সবচেয়ে দুর্বল দিক হচ্ছে লেখকের হীনমন্যতা। দানিয়েল চরিত্রটিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে একেবারে ছেলেমানুষী একটা চরিত্রে পরিণত করেন লেখক। দানিয়েলের মত এক নোংরা চেহেরা আর অবাস্তব চরিত্রের জন্য মেয়েরা পাগল। যেমন অর্চনা আর তইয়েবা বা আরও মহিলারা যা লেখকের হীনমন্যতাপ্রসূত। এর বাস্তবিক কোন ভিত্তি নাই উপন্যাসে।
কমিউনিস্ট নরেশের ডেরায় থাকে দানিয়েল ও আরও অনেকেই। যাদের অধিকাংশই নরেশের চিন্তাধারার কাছাকাছি। যারা ভারত ও পাকিস্তান কাউকেই সাপোর্ট করে না। আর বাংলাদেশের কর্তাব্যক্তিদের প্রতি যাদের রয়েছে একরাশ ঘৃণা। আজহার নামক এক সৈনিকের বয়ানে ‘আমরা কলকাতায় এসেছি চারদিন হল। এ সময়ের মধ্যে অনেক কিছু দেখে ফেলেছি। একেকজন লোক ভারত সরকারের অতিথি হিসাবে এখানে জামাই আদরে দিন কাটাচ্ছে। তাদের খাওয়া দাওয়া ফুর্তি করা কোন কিছুরই অভাব নেই। আরেক দল বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে সোনা লুট করে কলকাতা এসে ডেরা পেতেছে। আবার অনেকে এসেছে বিহারিদের পুজিপাট্টা হাতিয়ে নিয়ে। আপনি এই কলাকাতা শহরের সবগুলো বার, নাইট ক্লাবে খোঁজ করে দেখুন। দেখতে পাবেন ঝাকে ঝাকে বাংলাদেশের মানুষ দু’হাতে পয়সা উড়াচ্ছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, এখানকার একটা সাপ্তাহিক খবরটা ছেপেছে। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রী নাকি সোনাগাছিতে(পতিতালয়) গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
এই যে যারা ভারত সরকারের জামাই আদরে দিন কাটাচ্ছে, এই যে যারা দেশ থেকে সোনালুট করে সে সব টাকা নিয়ে ফুর্তি করছে তারাই এই উপন্যাসের চরিত্র হতে পারতো। এই যে মন্ত্রী সে সময় পতিতাপল্লীতে ধরা খেল তিনি এই উপন্যাসের চরিত্র হতে পারতেন। ১৯৯৩ সালে এই উপন্যাস লেখা হয় তার মানে ঘটনার প্রায় তিরিশ বছর পর। লেখকের কাছে ইতমধ্যে একাত্তরের অজস্র প্রমাণ জমা ছিল। উপন্যাসটি বিশাল ব্যকগ্রাউন্ড নিয়ে আছে কিন্তু প্রায় সবটুকুই ফাঁকা। পরিশ্রমের অভাব। অলাতচক্র আসলে একটা উপন্যাসের খোলস বা ফসিল। এটা একটা যুদ্ধ উপন্যাস বানিয়ে তোলার প্রচুর সম্ভাবনা ছিল কিন্তু লেখকের পরিশ্রম করার অভাবে সেটা ব্যর্থ হয়।
শেখ মুজিব সম্পর্কে অনেক বিস্ফোরক মন্তব্য আছে এই উপন্যাসে। সোহরাব সাহেব নামের একটা চরিত্র দানিয়েলকে আগরতলা থেকে বেরুনো একটা লিফলেট দেয়। লিফলেটের সারমর্ম হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি সৈন্যের হাতে ধরা পড়বার আগে এক ঘরোয়া সভা ডেকেছিলেন। তাতে তিনি যদি পাকিস্তানি সৈন্যের হাতে ধরা পড়েন, কী কী করতে হবে সে সকল বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই সভায় একজন নাকি শেখ সাহেবের কাছে সাহস করে জিগগেস করছিল, বঙ্গবন্ধু, আপনার অবর্তমানে আমরা কার নেতৃত্ব মেনে চলব? শেখ সাহেব আঙুল তুলে শেখ মণিকে দেখিয়ে বলেছিলেন, তোমরা এর নেতৃত্ব মেনে চলবে।
এই উপন্যাস যখন আহমদ ছফা লিখছিলেন জানি না তখনও তিনি ম্যাকিয়াভেলির প্রিন্সের সাথে পরিচিত ছিলেন কিনা। পুরো উপন্যাসটা পড়ে মনে হচ্ছে তিনি যথেষ্ট বিজ্ঞানমনস্ক নন। বায়োলজিকালি মানুষের চরিত্র সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তদোপরি তিনি এক ধরণের স্যাতস্যাতে নৈতিকতা আরোপ করেন দুর্বল দানিয়েল চরিত্রে। যা দানিয়েলের মত পেটি চরিত্রে সম্পূর্ণ বেমানান।
তবে বরং অন্যান্য সাইড চরিত্রগুলো যারা এক ঝলক এক বৈঠকে দেখা দিয়ে গুরত্বপূর্ণ কিছু কথার অবতারণা করে সরে যাচ্ছে সেসব চরিত্রদের মুখে সংবাদের মত সংলাপগুলোয় লুকিয়ে আছে ভবিতব্যের বাংলাদেশের একটা মানচিত্র যা আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অনিমেষবাবু মুখ খুলল, আচ্ছা দানিয়েল সাহেব, একটা কথা বলুন তো আমি শুনেছি শেখ মুজিব নাকি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কমিউনিস্ট বিপ্লব ঠেকাতে হলে সবাইকে তাঁর ওপর নির্ভর করতে হবে। কথাটা কতদূর সত্যি। বললাম, কথাটি আমিও শুনেছি। নিশ্চয়ই সত্যি হবে। তিনি বললেন, আমার অনুমানটা সত্যি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভারতের যুদ্ধে পরিণত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ হয়ত স্বাধীনতা পাবে কিন্তু কোন স্বাধীনতা? আখেরে জনগণের কোন লাভ হবে না।
যে কোন রাষ্ট্র আসলে একটা বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠান। সামন্তীয় রাজ্য থেকে বুর্জোয়া রাষ্ট্র। বুর্জোয়া রাষ্ট্রের জন্মই হচ্ছে লোলুপ বুর্জোয়াদের অনন্ত মুনাফার লেলিহান জিহ্বার খাবার জোগানোর জন্য। বুর্জোয়া রাষ্ট্র জনগণ একধরণের মাল বা পণ্য যারা নিজেদের শ্রম দিয়ে কতিপয় দুবৃত্ত রাজনীতিবিদ ও অসৎ মুনাফা লোভি ব্যবসায়ীদের পুঁজির জোগানদাতা। এই জনগণ প্রায় নির্বিচারে মরে রাষ্ট্রের হাতে কিন্তু মরতে মরতেও তাকে বুর্জোয়দের মুনাফা করে দিতে হয়। রাষ্ট্রের প্রায় নাটবল্টুগুলি যেমন পুলিশ আর্মি বা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনি বা আমলাতন্ত্র এই সবই বুর্জোয়াদের সম্পদ ও তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি। বুর্জোয়া রাষ্ট্রে জনগণ ও সরকার প্রতিপক্ষ। সরকার হচ্ছে জনগণের সাথে প্রতারণা করে বুর্জোয়াদের মুনাফা জুগিয়ে যাওয়া ও তাকে রক্ষা করার প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের জন্ম যেভাবেই হোক না কেন সেটা আসলে পাকিস্তানি বুর্জোয়াদের হাত থেকে দেশীয় নব্য বুর্জোয়াদের হাতে এসে পড়েছে। এতে ইতরবিশেষ হয়নি। কারণ বুর্জোয়াদের চরিত্র সারা দুনিয়াতেই এক ও অভিন্ন।
এই বইতে থিয়েটার রোডে যারা থাকে বা ক্যাম্পে যারা ট্রেনিং দিচ্ছে বা যারা যুদ্ধে যাচ্ছে তাদের চরিত্র উজ্জল হয়ে উঠেনি। এটা একটা বিশাল সম্ভাবনা ছিল। এই জায়গাগুলোতে চরিত্র সৃষ্টি করা যেত, কিন্তু দানিয়েলের মত (হয়ত লেখক নিজেই) একটা পেটি চরিত্র উপন্যাসটা বিকাশের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দানিয়েল এই অথর্ব চরিত্রটি নিজের মা বাবা ভাইয়ের ছেলেদের দেশে ফেলে এসে নিজেকে বুদ্ধিজীবী বা দরকারি মানুষ ভেবে যুদ্ধে না গিয়ে যারা তার কাছে সুবিধা নিয়ে শেষে হাসপাতালে পঙ্গু নায়িকার কাছে গিয়ে পালিয়ে থাকতো।
দানিয়েলের বয়ানে, এখানে সেখানে লেখালেখি করে অল্প স্বল্প অর্থ আমি আয় করেছি। তার পরিমাণ খুবই সামান্য। বাংলাদেশের নানা চেনাজানা মানুষ কিছু টাকা পয়সা দিয়েছে অস্বীকার করব না, প্রিন্সেস স্ট্রিটে অস্থায়ী সরকারের অফিস থেকেও নানা সময়ে কিছু টাকা আমাকে দেয়া হয়েছে। কলকাতার মানুষেরা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে কিছু টাকা আমার হাতে তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষক সহায়ক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ চক্রবর্তী অল্প-স্বল্প কাজ করিয়ে নিয়ে, সে তুলনায় অনেক বেশি টাকা আমাকে দিয়েছেন। … দু’তিনদিন আগে অর্চনা হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে রেস্টুরেন্টে চা খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিল। ওখানেই সে আমার হাতে পাঁচশ’ টাকার একটি নোট দিয়ে বলেছিল, দানিয়েল টাকাটা রাখ। এ সময়টাতে তোমার বোধ হয় খুব টানাটানি চলছে। আমি হাতে স্বর্গ পেয়ে গিয়েছিলাম।
ছফা এই দানিয়েল চরিত্রটিকে একটা মানবিক চরিত্র বানাতে চেয়েছিলেন কিন্তু এই চরিত্রটি হাসপাতালের বেডে শোয়া তৈয়বার জন্য মাছ ভাত রান্না করে নিয়ে যায় সারা পথ বৃষ্টিতে ভিজে অথচ একবারও উপন্যাসে পুরোটা জুড়েই কখনও দেশে ফেলে আসা তার পরিবারের কথা মনে করে না। অসম্ভব সম্ভাবনা থাকা সত্বেও উপন্যাস হিসাবে এটা একটা অতিশয় দুর্বল উপন্যাস।

আরো পড়তে পারেন

কবিতা ও গণিত

কবিতা ও গণিত নিয়ে বাংলাদেশে তেমন লেখালিখি হয়েছে বলে আমার জানা নাই। নব্বইয়ের দশকে মিজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা নামক একটা লিটল ম্যাগাজিন বের হতো। ওটার একটা পর্ব ছিলো গণিত সংখ্যা। বেশ ঢাউস আকারের। সংখ্যাটা হাতে না থাকায় বলতে পারছিনা ওখানে গণিত ও কবিতা নিয়ে কেমন লেখা হয়েছিলো। আমার জানা মতে পশ্চিম বাংলা থেকে এরকম কিছু….

নিখোঁজ কিশোর পারেখের ‘বাংলাদেশ’

‘আমার মনে আছে, আমরা তখন হংকংয়ে থাকি; আমার বয়স পাঁচ। ছুটির দিনে আমরা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যেতাম। সমুদ্রের পাড়ে বাবা মাঝে মাঝে ছবি আঁকতেন। সেদিন তিনি বেশ অস্থির ছিলেন। বললেন, “আমার দেশ পুড়ছে আর আমি বসে ছবি আঁকছি।” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ছবি তুলতে কিংবদন্তি ফটোসাংবাদিক কিশোর পারেখের আকুতি দেখতে পাই তাঁর ছেলে স্বপন পারেখের এই স্মৃতিচারণে।….

চৌধুরীর পিতার হুকুম : চিন্তার লেজে আগুন

মহাত্মা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বিরচিত পিতার হুকুম বইটি আগাগোড়া খুব দ্রুত শেষ করা গেছে। অনেকটা ডায়লেক্টিক ভঙ্গিতে গদ্য লিখেন তিনি। গদ্যে ফিকশন থাকলে তা গদ্যকে আকর্ষণীয় করে। প্লাতনের লেখাগুলো এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ কী? আমার মনে হয় গদ্যকে ফিকশনাইজড করার কারণে প্লাতনের বইগুলো এত আকর্ষণীয়। প্লাতনের বইগুলো শুধু গল্প বা কাহিনী হিসেবে পড়লেও চমৎকার লাগে।….