রায়ের দিঘির ঘাটলায়

মঈনুস সুলতান

রায়ের দিঘির পাড়টি ভেঙেচুরে কোন কোন জায়গায় মিশে গেছে আশপাশের নিচু ধানের জমিনে। এক জামানায় রূপালি জলের শানদার পরিসরে কচুরিপানার এমন পুরু স্তর হয়েছে যে- হালফিল পানি-টানি আর তেমন দেখা যায় না। তবে চিন্নিটিকরীর কাজ করা বাঁধানো ঘাটটি মোটামুটি এখনো ভালো হালতেই আছে। এক যুগে সরমঙ্গল গ্রামের পানীয় জলের প্রধান উৎস ছিলো এ দিঘিটি, এখন অবশ্য নানা রকমের নলকুপ ও ছোট-বড় পারিবারিক পুকুরে গ্রামবাসী ছরে-আম জনতার পিপাসা মিটছে। সরমঙ্গলের বাজারটি সম্প্রসারিত হচ্ছে দিন-কে-দিন। তৈরী হয়েছে দোতালা মসজিদ, একাধিক ফার্মেসীতে উপজেলা থেকে মোটরবাইক হাঁকিয়ে এসে ডাক্তাররা বসছেন, সাউন্ডবক্সের হিল্লা ধরে হরবকত হিন্দি মিউজিকের শোরগুলে সরগরম রেস্তোরাঁও হয়েছে কয়েকটি। কিন্তু একান্তে বসে আড্ডা দেয়ার কোন ঠেক গড়ে ওঠেনি। এখনও যারা হাটের হট্টগোলে বিকালটা কাটাতে চান না, তারা এসে বসেন রায়ের দিঘির চিন্নিটিকরী বা চিনামাটির বাসন-বর্তনের ভাঙ্গা টুকরা বসানো ঘাটে।

আজকেও- বর্ষা ঋতুর মেঘলা অপরাহ্ণে ঘাটে এসে জড়ো হয়েছে সরমঙ্গলের গোটি কয়েক যুবক। দিঘির পাড়ে যে এক যুগে রায় বাবুদের চকমিলান কাছারি ও চন্ডিমন্ডপ নিয়ে সদর-অন্দরসহ তিনখন্ডে বিভক্ত বিরাট বাড়িটি ছিলো, এরা কেউ তা চাক্ষুষ করেনি। তবে রায়দের দাঁব-রোয়াবের কেসসা এরা সকলে শুনেছে চোধরী সাবের কাছ থেকে। মাঝে-মধ্যে চোধরী সাব পিতলের বাঁধানো হাতলঅলা লাঠিটি হাতে এসে চুপচাপ বসতেন ঘাটলায়। গ্রামের তরুণরা তাঁকে দেখতে পেলে এসে ঘিরে বসতো। তিনি বয়স কিংবা তথাকথিত পারিবারিক আভিজাত্যের ব্যবধান মানতেন না। সরমঙ্গলের ছেলেপিলেরা তাঁর সামনেই সিগ্রেট স্মোক করতো। তিনিও গালগল্প করে তাদের সহবতে বিকালটা কাটাতে ভালোবাসতেন। তাঁর কাছ থেকেই যুবকরা জেনেছিলো যে- খুব বেশী দিন আগের কথা নয়, এ দিঘিটির পাড়ে দুর্গাপুজায় বসতো যাত্রার পালা। এখন যেখানে ফলছে রবিশস্য- ঠিক অই জায়গায় ছিলো রায়দের বৈঠকখানা। দালানের ছাদে চিন্নিটিকরীর কাজ করা ছত্রীতলে সন্ধ্যাবেলা সাঁজপ্রদীপ দেখানোর বন্দোবস্ত ছিলো। কোন কোন কৃষ্ণপক্ষের রাতে শৌখিন প্রকৃতির ছোট রায় ছাদে দুরবিন পেতে আসমানে তাকিয়ে তাকিয়ে খুঁজতেন ছায়াপথে আকাশগঙ্গার নিশানা। রায়দের বৈঠকখানার একটি কামরায় ছিলো তাদের পারিবারিক লাইব্রেরী। চোধরী সাব আপসোস করে বলতেন, তিনি ইস্কুল-কলেজে যা শিখেছেন, তার চেয়ে অনেক বেশী জানতে পেরেছেন, রায়বাবুদের লাইব্রেরীর বই ঘেঁটে। এ গ্রন্থাগারে তিনি নিজের চোখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বাক্ষর করা চোখের বালি বইটি দেখেছিলেন। ছোট রায় সয়ং লাইব্রেরীর দেখভাল করতেন। চোধরী ওখান থেকে কোন বই ধার নিতে চাইলে- তাঁকে বিরাট একটি লেজার বুকে পুস্তকটি ও তার রচয়িতার নামের পাশে স্বাক্ষর ও তারিখ দিয়ে নিতে হতো। নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেতাবখানা ফেরত না দিলে সড়কিঅলা এক খোট্টা পেয়াদা লিখিত নোটিশ নিয়ে এসে হাজির হতো। আজকে জড়ো হওয়া তরুণদের কেউ পার্টিশনের বিষয়-আশয় তেমন জানে না। তবে চোধরী সাবের মুখে তারা আপসোস শুনেছে একাধিকবার, খরায় বিবর্ণ হওয়া ধানের সোনাঝরা খেতের মতো সরমঙ্গলের তাবৎ জন-দৃশ্যপটও দেশ-বিভাগে নাকি চোখে নিমিষে উজাড় হয়ে গিয়েছিলো।

এ আত্রাফের আঞ্চলিক জবানে উ”চারিত চোধরী সাবের পোষাকি নাম গোলাম রসুল চৌধুরী। বনেদী মুসলমান বংশের এ ভদ্রসন্তান কাজাকচ্চিত দস্তখত দেয়ার প্রয়োজন পড়লে সোনালি ঝরনা কলমে গোটা গোটা অক্ষরে নিজের নামটি স্বাক্ষর করেন শ্রী গোলাম রসুল চৌধুরী হিসাবে। কাশফুল-শ্রভ্র শৌখিন কেতার দাড়িওয়ালা মানুষটি ঘিয়া রঙের কোর্তার সাথে চিকনপাড়ের সাদা ধুতি পরতে ভালোবাসেন। বিপত্নীক চৌধুরী সাব তাঁর পারিবারিক বাড়িতে একাই দিন গোজরান করেন। বিকালে দিকে হাটে যাওয়ার পথে পোস্টাফিস থেকে কখনো সংগ্রহ করেন ডাকে আসা সপ্তাহিক হোলিডে পত্রিকাটি। তারপর হাটে এসে ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরী থেকে সংগ্রহ করেন ইত্তফাক ও আজাদ। ভারী লেন্সঅলা চশমা দিয়ে হেডলাইনগুলো পড়ে কোর্তার বুক পকেট থেকে বের করেন তেরঙা একটি ডট-পেন। তা দিয়ে কোন সংবাদের শিরোনামে সার্কোল আঁকেন লাল কালি দিয়ে। আবার কখনো কোন ফিচারের বিশেষ কিছু ছত্রের তলায় আন্ডারলাইনের দাগ টানেন সবুজ রেখায়। অতঃপর লাঠি হাতে এসে পড়েন রায়ের দিঘির পাড়ে। ক্যাপস্টেন মিক্সারের কৌটা থেকে ট্যাবাকো বের করে, চোখ ভিন্ন একটি চশমা লাগিয়ে রেলিং পেপার দিয়ে নিজ হাতে তৈরী করেন সিগ্রেট। তারপর স্মোক করতে করতে, তরুণদের সাথে সাম্প্রতিক কোন ইস্যু নিয়ে আলাপচারিতায় মেতে ওঠে – দরকার পড়লে পত্রিকা খুলে কোন সংবাদ বা ফিচারে কলমের ডগা ছুঁইয়ে তাঁর বক্তব্যকে রেফারেন্সের মাধ্যমে জোরালো করে তুলেন।

আজকে পুকুরের ঘাটলায় অবধারিতভাবে চোধরী সাব এসে হাজির হননি। সরমঙ্গলের সমাজ থেকে তিনি গয়েরহাজির হয়েছেন মাস দুয়েক আগে। তিনি কোথায় গিয়েছেন, কী সমাচার, বেঁচে থাকলে তাঁর হালহকিকত কী- এ সম্পর্কে গ্রামবাসী পঞ্চজনদের আগ্রহ আছে বিস্তর, কিন্তু নির্দ্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরমঙ্গলের তরুণরা স্পষ্টতঃ উদবিগ্ন, তা প্রতিফলিত হয় আশফাক আলী চঞ্চলের কথাবার্তায়। তার আসমানি রঙের প্লেবয় শার্টের বুক পকেটে নীল রঙে আঁকা আইফেল টাওয়ারের লগোটির তলা থেকে উঁকি দিচ্ছে ফাইভ ফিফটি ফাইভের হলুদাভ প্যাকেট। ফ্লাইং বিজনেসম্যান হিসাবে চঞ্চলের এ আত্রাফে ব্যাপক পরিচিতি আছে। হামেশা সে উল্কা বা গ্রীন এ্যারো ট্রেন পাকড়ে ঢাকা-চিটাগাংগে যাতায়াত করে। ইদানিং চঞ্চল মন্ত্রণালয়ে তদবির করে বের করছে পারমিট। কলেজ থেকে বিকম পাশের ডিগ্রি আছে বটে, তবে লেখাপড়াটা তার তেমন রপ্ত হয়নি। মাঝে-মধ্যে সে দরখাস্ত ড্রাফট করার জন্য চোধরী সাবের দ্বারস্থ হতো। বিলাতের রাজা পঞ্চম জর্জের প্রতিকৃতির মতো শৌখিন কেতার দাড়িওয়ালা মানুষটি মনযোগ দিয়ে তার সমস্যা শুনতেন, পারমিট হান্টিং করছে বলে কখনো তিনি তাকে এনকার বা অবজ্ঞা করেননি। নোটপ্যাড টেনে পাইলট কলমে দ্রুতটানে মুসাবিদা করে দিতেন তার প্রত্যাশিত এপ্লিকেশন।

চোধরী সাবের সাম্প্রতিক নিরুদ্দেশ হওয়া সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্যটি চঞ্চল সংগ্রহ করেছে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে সে টিকেট রিজারভেশনের জন্য গিয়েছিলো। তখন মাইক্রোফোনে ট্রেনের কামরায় পাওয়া একটি বেওয়ারিশ লাশ সম্পর্কে এনাউন্স করা হয়। ঘোষণায়-ঘিয়া রঙের পাঞ্জাবী পরা সফেদ দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধের স্লিপিংকোচে ঘুমন্তাবস্থায় মৃত্যুর কথা প্রচারিত হলে চঞ্চলের বুকের ভেতরটা ধ্বক করে ওঠেছিলো। জিআরপি পুলিশকে ধরে সে অবশেষে লাশের মুখটি দেখতে সমর্থ হয়। না, বেওয়ারিশ মৃতদেহটির সাথে চোধরী সাবের কোন সম্পর্ক নেই। এ লাশ অজ্ঞাত অন্য কোন বৃদ্ধের। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েও চঞ্চল আড্ডায় উদ্বেগ ছড়ায়।

চোধরী সাবের সাম্প্রতিক নিরুদ্দেশ হওয়া সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্যটি চঞ্চল সংগ্রহ করেছে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে সে টিকেট রিজারভেশনের জন্য গিয়েছিলো। তখন মাইক্রোফোনে ট্রেনের কামরায় পাওয়া একটি বেওয়ারিশ লাশ সম্পর্কে এনাউন্স করা হয়। ঘোষণায়-ঘিয়া রঙের পাঞ্জাবী পরা সফেদ দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধের স্লিপিংকোচে ঘুমন্তাবস্থায় মৃত্যুর কথা প্রচারিত হলে চঞ্চলের বুকের ভেতরটা ধ্বক করে ওঠেছিলো।

কিন্তু চঞ্চলকে থামিয়ে দিয়ে তার প্যাকেট থেকে এক শলা ফাইভ ফিফটি ফাইভ নিয়ে সোবহান ভিন্ন একটি সম্ভাবনার কথা বলে। সোবহানের ধারনা চোধরী সাব কাউকে কিছু না বলে বিদেশে কোথাও বেড়াতে গেছেন। তার ধারনার স্বপক্ষে সোবহান বছর কয়েক আগে চোধরী সাবের প্রথমবার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ হিসাবে হাজির করে। সপ্তাহ তিনেক কেউ কিছু জানতো না চোধরী সাব কোথায় নিরুদ্দেশ হয়েছেন। অতঃপর এক সকালে সুরমা মেইল থেকে তিনি নেমে আসলেন, একা নন, সাথে একটি প্রায়-পোষমানা বানর নিয়ে। সরমঙ্গলবাসী জানলো- তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তবে তাঁর বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্য, এবং বানর সংগ্রহের ব্যাপারটা ঠিক খোলাসা হলো না।

বানর বিষয়ক বৃত্তান্তের বছর দেড়েক আগে ভিন্ন জেলায় বিশ-পচিশ বছর চাকুরি করে অবসর নিয়ে চোধরী কেবলমাত্র সরমঙ্গলে ফিরে এসেছেন। বাড়ি ফেরার পাঁচ-ছয় বছর আগে মৃত্যু হয়েছে তাঁর পিতা-মাতার। তারপর থেকে তাঁদের বাড়িখানা উজাড় পড়ে ছিলো। তখন বাইরের টঙ্গিঘরের দেয়াল ধ্বসে পড়ে, চোর-চোট্টারা জানালার পাল্লা ও লোহার খুঁটি খুলে নেয়। সারা বাড়িটি গাছ-পালা, ঘাস ও আগাছায় জংলা হয়ে ওঠে। চোধরী সাব অতঃপর একদিন সরমঙ্গলে ফিরে আসলেন। শোনা গেল, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিপত্নীক, তাঁর সংসারে একটি ছেলেসন্তান আছে বটে, তবে সেও অনেক বছর হয় ইতালিতে প্রবাসী। তাদের ভেতরবাড়িতে একটি টিনের আটচালা তখনও কোনক্রমে ঠিকে ছিলো। তো চোধরী সাব তার দুটি কামরা খানিক সারাই করে বসবাস করতে শুরু করলেন। মামলা-মোকদ্দমায় নিঃস্ব, পরিবারের চেনা এক ভূমিহীন বর্গাচাষী তাঁর হাট-বাজারের দ্বায়িত্ব নিলো। তিনি তাদের আধ-ভাঙ্গা গোলাঘরে থাকার বন্দোবস্ত করে দিলেন। চাষী-বউ নিয়োগ পেলো রান্নাবান্নার কাজে।

সোবহান সিগ্রেট ও লাইটার হাতে নিয়েও সিগ্রেটটি ধরায় না। সে চিন্তিতভাবে চোধরী সাবের বানর নিয়ে ফিরে আসার গল্প বলে যায়। ইতিহাসে মাস্টার্স করা ছেলে সোবহানের চোখে হাই পাওয়ার লেন্সের চশমা। সে খানকটা ট্যারা প্রকৃতির। তাই কথা বলার সময় তার একটি চোখ যেন নিবিড়ভাবে দেখতে থাকে- কচুরিপানার পুরু স্তরে নীড় বাঁধা একটি কানি বগুলার শাবকদের আদার খাওয়ানোর দৃশ্য। চোধরী সাবের পার্বত্য চট্টগ্রামে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হলেও সে তাঁর বানরকে দত্তক নেয়ার প্রেক্ষাপট ভালোভাবেই জেনেছিলো। সকালবেলাটা চোধরী একটি ইজি চেয়ারে বসে চার ব্যান্ডের ফিলিপ্স রেডিওতে নানা দেশের সংবাদ শুনে কাটাতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার ভেকেশনে সোবহান বাড়ি এসেছিলো। তো সময় কাটানোর জন্য চোধরী সাবের সাথে দেখা করতে গেলে, তিনি সস্নেহে বসতে বলে মধু মেশানো লেবু-চা দিয়ে তাকে আপ্যায়িত করেছিলেন। তাকে চা দিয়ে চোধরী মনযোগ দিয়ে মস্কো বেতারে ইংরেজী সংবাদ শুনেন। তখন বানরটি এসে একটি টুলে বসে এমন ভাব করে যে- সেও সিরিয়াসলি শুনছে আন্তর্জাতিক সংবাদ। সংবাদের পর রেডিওটি অফ করে তিনি ডাঁই করে রাখা পুরানো পত্রিকার স্ত‚প থেকে খুঁজেপেতে বের করেছিলেন একটি পত্রিকা। তাতে লাল কালিতে দাগানো ফিচারে বাংলাদেশ থেকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নীরিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধপথে বানর পাচারের সংবাদ। পাশের ছবিতে নানা রকমের আংটা দিয়ে শক্তভাবে আটকানো একটি বানরের শরীর থেকে বেরিয়ে আসা কম্পিউটার মনিটরের সাথে যুক্ত নানাবিধ উয়্যার। সোবহান বন্দী বানরটির মুখের অসহায় অভিব্যক্তির দিকে তাকিয়ে মনে মনে কষ্ট পেয়েছিলো। চোধরী সাব বানরের ছবিতে কলমে ডগা ছুঁইয়ে বলেছিলেন, রাঙ্গামাটির দিকে একটি বাজারে চাপলিশে বিক্রি হচ্ছিল এ বানরটি। তিনি কিনে না নিলে হয়তো এটিও কোন একদিন শিকার হতো নির্মম কোন গবেষণার। চোধরী সাবের বক্তব্য শুনতে শুনতে সোবহান তাজ্জব হয়ে দেখছিলো- বানরটি পুরানো পত্রপত্রিকার স্তুপ থেকে একখানা পত্রিকা খুলে, গম্ভীর বদনে তাকিয়ে দেখছে-মহাশূণ্য থেকে ফেরার পথে ধংশপ্রাপ্ত স্পেস শ্যাটোল চ্যালেঞ্জারের ছবি।

সোবহান এবার ফাইভ-ফাইভটি ধরিয়ে কল্কের মতো মুঠো করে কষে দম দিয়ে মন্তব্য করে, এবার হয়তো চোধরী সাব বিদেশে কোথাও গিয়েছেন। তার এ ধরানার সপক্ষে সে কিছু প্রমাণও হাজির করে। বানর সংক্রান্ত বাতচিতের পর চোধরী নাকি রেডিওতে আস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের কোন প্রগ্রাম শোনার চেষ্টা করছিলেন। তিনি কেবলই নভটি ঘুরিয়ে যাচ্ছিলেন, আর রেডিও থেকে বেরিয়ে আসছিলো ক্র্যাকলিং সাউন্ড। সোবহান বিরক্ত হয়ে পাশের টি-টেবিল থেকে তুলে নিয়েছিলো একটি ফটো এ্যলবাম। তাতে মরু বালুকায় দাঁড়িয়ে থাকা কতগুলো কেল্লা, নগর-প্রাচীর ও মসজিদের দুর্ধর্ষ আলোকচিত্র তার ইতিহাসপ্রবণ চেতনায় ছড়িয়েছিলো পুরাকালের আবহ। সঠিক রেডিও স্টেশনটি খুঁজে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে চোধরী সাব তার দিকে ফিরে বলেছিলেন, ‘আই টুক দিজ পিকচারস্ মেনি ইয়ার্স এগো হোয়েন আই ভিজিটেড ইরাক। সোবহান- তুমি এ্যলবামে প্রাচীন এসিরিয়ার দিকে তাকিয়ে আছো।’ শুনে তো ইতিহাসে অনার্স পড়া ছেলে সোবহানের জবান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। চোধরী সাব তাকে আরেকটি আদিকালের প্রস্তরে তৈরী মসজিদের ছবি দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘এটা হচ্ছে পয়গম্বর হজরত ইউনুস (আঃ) এর মসজিদ। বৃহৎ একটি মাছের পেট থেকে সর্বশক্তিমানের কুদরতে রেহাই পাওয়া নবীর উপাসনালয় এখনো সংরক্ষিত আছে প্রকান্ড একটি তিমি মাছের কংকাল।’

অই দিন চোধরী সাব ফ্লাক্স থেকে পেয়ালায় গরমপানি ঢেলে তাতে মধু ও লেবু মিশিয়ে আরেক কাপ চা বানিয়ে তার দিকে ঠেলে দিলে সে সুরভিত মধুর স্বাদের তারিফ করেছিলো। তাতে উৎসাহিত হয়ে চোধরী তাকে জংলা হয়ে ওঠা আঙিনায় বেশ কয়েকটি গাছে ঝুলে থাকা মৌচাক দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘ আরেকদিন সময় করে এসো সোবহান, আমি গাছ থেকে মধু পাড়বো। মধু পাড়াটা কঠিন কিছু না, গায়ে রেনকোট পরে মৌচাকে ধোঁয়া দিলে মৌমাছিরা সরে যাবে, দ্যা রেনকোট উইল প্রটেক্ট ইউ ফ্রম দ্যা বাইট।’

সোবহানের মৌচাক বিষয়ক কেসসা পল্লবিত হওয়ার সুযোগ পায় না। মনে হয়, তার জানি দোস্ত আব্দুল ওয়াহাব লায়েক কিছু বলার জন্য মুখিয়ে আছে। আদ্দির আধময়লা পাঞ্জাবী পরা লায়েক এর এক পকেটে আছে ভারী একটি কালকুলেটার, অন্য পকেটে ফ্লায়িং ডাচম্যান ট্যবেকোর কৌটায় রাখা খিলি পান। ছেলেটি অত্র এলাকার একটি সমবায় সমিতির সেক্রেটারী। সমিতির সদস্যরা কেউ দশ হাজার আবার কেউ পনোরো বা পাঁচ হাজার মূলধন যুগিয়ে পাহাড়ে বাঁশমহাল রেখে ছিলেন। তাতে বছর দুয়েক আগে প্রচুর মুনাফা হলে- কে কত শতাংশ মুনাফা পাবে তার হিসাব নিকাশ নিয়ে ভারী মুসিবতে পড়েছিলো লায়েক। তো বিষয়টির সুরাহা করার জন্য হিসাব নিকাশের জাবেদা খাতাসহ গিয়েছিলো চোধরী সাবের বসতবাড়িতে। চোধরী সাব কালকুলেটর ব্যবহার না করে মানষাংকের ভঙ্গিতে মুখে মুখে মুনাফার কে কত শতাংশ পাবে- তার নির্ভুল অঙ্ক কষে দিয়ে তার কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছিলেন। তবে মানষাংঙ্ক করার বিরল ক্ষমতা নয়, অন্য একটি বিষয় লায়েককে তাজ্জব করেছিলো! তা হলো চোধরী সাবের বইপুস্তক পাঠের রুচি। পন্ডিতপ্রবর মানুষটির যখন রেডিওতে নিউজ শুনতে ভালো লাগতো না তখন তিনি অবসর কাটাতেন, ইজিচেয়ারে আয়েশ করে বসে দস্যু মোহন সিরিজের পৃষ্টা হলুদ হয়ে আসা পুরানো ঝুরঝুরে বইগুলো পড়ে। লায়েক নিজেও ডিটেকটিভ বই-পুস্তকের পাঁড় পাঠক। দস্যু বাহরাম সিরিজের ‘ইস্কাবনের টেক্কা’ তার প্রিয় বই। বিষয়টা জানতে পেরে চোধরী সাব তাকে ‘মোহন ও রমা’ বইটি পড়তে দিয়েছিলেন।

ভাঙ্গনে তরুণী মা-টির ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়েছিলো নদীজলে। স্থানীয় স্কুলঘরে বাচ্চা দুটি নিয়ে আশ্রয় নেয়ার পাঁচ দিন পর – গ্রামের চেনাজনদের কাছ থেকে সে জানতে পারে, বানে ভেসে যাওয়া স্বামীর মৃতদেহ ভাটির দিকে সৎকারের খবর। তারপর থেকে মেয়েটি শিকার হতে থাকে ক্রমাগত শরীরী হয়রানির।

লায়েক ফ্লাইং ডাচম্যানের কৌটা থেকে একটি খিলিপান মুখে দিয়ে পিচিৎ করে পিক ফেলে, চতুরদিকে বাবা জর্দার পানজেন্ট সৌরভ ছড়িয়ে চোধরী সাবের চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট নিয়ে আলাপ করে। শৌখিন কেতার সফেদ দাড়িওয়ালা মানুষটিকে বাহ্যিকভাবে ধর্মকর্ম করতে সচরাচর দেখা যায় না। তবে ভেতরে ভেতরে তিনি সুফি তরিকার একজন পাবন্দ পুরুষ। লয়েক ‘মোহন ও রমা’ বইটি ফেরত দিতে গিয়ে খেয়াল করেছিলো যে, চোধরী সাব মনযোগ দিয়ে ইমাম গাজ্জালী (রাঃ) রচিত ‘কিমিয়ায়ে সাদত’ বইখানা পড়ছিলেন। আর ক্যাসেট রের্কডারে মৃদুস্বরে বাজছিলো কাওয়ালি। তার এ ধারনার স্বপক্ষে লায়েক চোধরী সাবের দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার কাহিনী প্রমাণ হিসাবে পেশ করে। এ যাত্রায় মাস খানেক জন্য তিনি নিরুদ্দেশ হলে, তাঁর বসতবাড়িতে সিঁদ কেটে ঢুকেছিলো চোর। ফিলিপ্স রেডিও ও ক্যাসেট প্লেয়ার প্রভৃতি লোহার সিন্দুকে তালা দিয়ে চোধরী ঘর ছেড়েছিলেন। তাই ওগুলো খোঁয়া যায়নি। তবে চোর তাঁর রান্নাবান্নার ডেগ-ডেকছি, হান্ডি-পাতিল ইত্যাদি সাপটেছিলো। অতঃপর শীতের কুয়াশা মাখা সন্ধ্যায় চোধরী ভারী একটি অভারকোট পরে নেমেছিলেন ট্রেন থেকে। আজমীর শরীফে খাজা গরীবে নেওয়াজ এর মাজার জিয়ারত করে ফিরেছিলেন তিনি। সঙ্গে ট্র্যাভেল ব্যাগ ও কাঁধঝোলা বোঝাই দরগা শরীফের তোহফা ও তবরুক। আজমীর থেকে প্রত্যাবর্তনের খবরটি চাউর হলে তাঁর বাড়িতে আসতে শুরু করে আশপাশ গ্রামের গরীবগোর্বা অসুস্থ মানুষজন। চোধরী ধৈর্য্য ধরে প্রথম প্রথম তাদের হাতে তুলে দিতেন পবিত্র তোহফা হিসাবে শুকনো ফল ও নকুল দানা। অতঃপর তোহফার মজুদে তঙ্গি দেখা দিলে তিনি তবরুক হিসাবে বিলি-বন্টন করতে শুরু করেন, কব্জিতে বাঁধার জন্য কমলালেবু রঙের সুতলি। তখন জোর গুজব রটে যে, চোধরী এবার সংসার ছাড়বেন, দরবেশী হালতে কোন খানকায় গিয়ে তিনি ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল হবেন।

এ রটনার অবশ্য কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। গুজবী বেলুনের হাওয়া ক্রমশ নিষ্কাশিত হয়। চৌধরী সাবও ফের হাট-বাজারে আসতে শুরু করেন। তবে পৌষ মাসে শীতের কুয়াশা মাখা ঝাড় প্রবল হলে, রায়ের দিঘির ঘাটলার মজলিসটি ভেঙ্গে যায়। তখন তিনি গায়ে রঙজ্বলা শাল জড়িয়ে পত্রিকা হাতে সরমঙ্গল বয়েজ ক্লাবের চালাঘরে বসতে শুরু করেন। এ সময় তাসের টুয়েনটি নাইন পেটানো যুবককুল তথা চঞ্চল, লায়েক বা সোবহানরা তাঁর তত্ত্বাবধানে শেখে অকশন ব্রিজের কলাকৌশল। পারমিট বিক্রির মুনাফায় চঞ্চল একটি সেকেন্ডহ্যান্ড সাদাকালো টিভি খরিদ করলে, বার কয়েক চোধরী তাদের সাথে ক্লাবঘরে বসে খুশবাস হালতে পর্যবেক্ষণ করেন, সিক্স মিলিওন ডলারম্যান ও হাওয়াই ফাইভ-ও প্রভৃতি টিভি সিরিয়েল। এ সব টিভি সিরিয়েলের ইংরেজী ডায়লগ বুঝতে অপারগ তরুণদের বিষয়বস্তু তর্জমা করে দিয়ে চোধরী সাব ফের তাদের প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন।

রায়ের দিঘির অপর পাড়ে বয়োবৃদ্ধ তালগাছের পত্রালির আবডালে মেঘলা দিনের ম্রিয়মাণ সুরুষটি খানিক ঝুলে থেকে পার্পোল রশ্মি ছড়িয়ে দূরে পাহাড়ের অন্তরালে আউড়ি দিলে যুবকরা উঠে পড়ে। চোধরী সাবের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টির সুরাহা করতে না পেরে তারা বিভ্রান্ত। হেঁটে যেতে যেতে হাই পাওয়ারের চশমা পরা সোবহানের ভেতরে এক সাথে গুমরে ওঠে অভিমান ও হতাশা মিশ্রিত ক্রোধ। মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে চাকরি-বাকরির কোন সুশার করতে না পেরে সে বিসিএস দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছিলো। কিন্তু ইতিহাসে অনুরাগি সোবহানের অঙ্ক নিয়ে আতঙ্ক আছে। চোধরী সাব তাকে ভরসা দিয়েছিলেন- অঙ্কের জটিল ব্যাপারটা সরল করে বুঝিয়ে দেয়ার।

সপ্তাহ খানেক পর সরমঙ্গলের যুবকরা- তথা চঞ্চল, লায়েক ও সোবহানরা ফের এসে বসেছে রায়ের দিঘির ঘটলায়। কচুরিপানার পুরু স্তরে অদৃশ্য একটি সাপ সাপটে ধরেছে ব্যাঙ। তার আর্তনাদে চতুরদিকে ছড়াচ্ছে অস্থিরতা। চঞ্জল আজ বেসবল ক্যাপ পরে ঘাটে এসেছে। সানগ্লাস খুলে নিয়ে চোখমুখ কুঁচকে সে বলে যায় চোধরী সাবের সরমঙ্গলে ফিরে আসার ঘটনা। দুই দিন আগে তিনি গ্রামে ফিরেছেন। সারা দেশ বন্যার পানিতে সয়লাব। চঞ্চল ঢাকা থেকে ফিরছিলো। শায়েস্তাগঞ্জের কাছে একটি রেলওয়ে ব্রিজের দুটি স্তম্ভ খরস্রোতে কমজোর হয়ে হেলে পড়লে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত

হয়। থেমে পড়া ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীদের সাথে মিলেঝুলে চঞ্চল নৌকায় করে নদী পেরুচ্ছিল। তাজ্জব হয়ে সে দেখে- পাশের নৌকায় দাঁড়িয়ে বুশসার্ট, প্যান্ট ও বারান্দাওয়ালা ফেল্টহ্যাট পরা চোধরী সাব! তিনি একা নন, তার সাথে ময়লা ছেড়াখুড়া শস্তা শাড়ি পরা এক যুবতী নারী। তরণীটির কাঁখে একটি কন্যা সন্তান। চোধরী সাবের হাঁটুর কাছে দাঁড়িয়ে কাঠি লজেন্স চুষছে আধন্যাংটা আরেকটি বা”চা ছেলে। নদীর ওপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কানেক্টিং ট্রেনে ওঠার সময় চোধরী সাবের সাথে তার কথাবার্তাও হয়। চোধরী সাব নোয়াখালি প্রত্যন্ত কোস্টাল এরিয়ায় বন্যা উপদ্রুত জনপদে ঘোরাফেরা করছিলেন। ভাঙ্গনে তরুণী মা-টির ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়েছিলো নদীজলে। স্থানীয় স্কুলঘরে বাচ্চা দুটি নিয়ে আশ্রয় নেয়ার পাঁচ দিন পর – গ্রামের চেনাজনদের কাছ থেকে সে জানতে পারে, বানে ভেসে যাওয়া স্বামীর মৃতদেহ ভাটির দিকে সৎকারের খবর। তারপর থেকে মেয়েটি শিকার হতে থাকে ক্রমাগত শরীরী হয়রানির।

লায়েকের কাছ থেকে আরো জানা যায় যে, শিশু সন্তানসহ তরুণী বিধবাকে চোধরী সাব আশ্রয় দিয়েছেন তাঁর আটচালা ঘরের অব্যবহৃত নড়বড়ে হওয়া খানা-কামরায়। আজ সকালে বাজারে গিয়ে তিনি বিধবার জন্য চিকন পাড়ের সাদা ধুতি ও শিশুদের জন্য জামা-কাপড়ও কিনেছেন। বৃন্তান্ত শুনে সোবহানকে ভারী চিন্তিত দেখায়। ঘটলার কাছে কচুরিপানা সরে গিয়ে তৈরী হয়েছে জলের গোলাকার একটি ফোঁকর। ওখানে অজস্র  ছানাপোনা নিয়ে ভাসছে মা-শোল। সে ভাসমান মাছের সংসারের দিকে তাকিয়ে ভাবে, তরুণী বিধবার সাথে এভাবে একই ঘরে বসবাস করতে থাকলে চোধরী অচিরে সমস্যায় পড়বেন। সরমঙ্গলের সমাজ তা মেনে নেবে না। ভেবে-চিন্তে এ পরিস্থিতির কোন বিকল্প খুঁজে না পেয়ে সে লেন্সের ফাঁক দিয়ে ট্যারা চোখে আসমানের দিকে তাকায়। বর্ষা ঋতুর জলভরা মেঘদলে খেলছে বেগুনি আভার আশ্চর্য আলো। ওখানে সোনালি রেখায় জিলকি চমকে ওঠলে, লায়েক পিচিৎ করে পানের পিক ফেলে সকলকে ওঠে পড়াতে তাড়া লাগায়।

আরো পড়তে পারেন

লাল রক্ত সবুজ হরিয়াল

শ্যাওলার আধিক্যের কারণেই সম্ভবত পানির রং ঘন সবুজ দেখাচ্ছে। পুকুরটিকে মোটেও ছোট বলা চলে না। চারপাশে উঁচু পাড়। পাড়জুড়ে নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভর্তি। ওগুলোর মধ্যে বাউল সন্ন্যাসীদের ঝাঁকড়া চুলের মতো কুল গাছটি শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে পুকুরের পাড় ছেড়েও বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে পুকুরের ওপর। বৃক্ষের প্রাচুর্যতার কারণে সূর্যের আলোও ঠিক মতো এসে পড়ে….

গোপন পাপ

বড় আব্বার হাঁকডাক শুনে তকদির ছুটতে ছুটতে সজনে তলায় এসেছে। লুঙ্গি পায়ে জড়িয়ে বেকায়দা পতন সামলে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই খালি হাতে এসে ভুল করেছে শুনে লুঙ্গি কাছা মেরে আবার ও হাত দাখানা আনতে ছুটেছে। সৈয়দ মীর কাশিম তুরানীকে ‘বড় আব্বা’ বলে ডাকে তকদির। বড় আব্বার ইঙ্গিত পেয়ে সে সজনের ডাল কাটতে শুরু করে। গাছের ডাল….

মধ্যরাতের ফুর্তিবাজ

আজ বিকালের বাসে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছে স্বপন। সন্ধ্যেটা কাটিয়েছে বাসস্ট্যান্ডের কাছেই ছোট একটা পার্কে। সেখানে লোকজন তেমন ছিল না। ভিতরের দিকে পাতাবাহার আর কলাবতীর ঝাড়ে আড়াল করা নিরিবিলি কোনায় চুপচাপ বসেছিল। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে নিজেকে খুব নিস্তেজ লাগছিল। ক্লান্তিতে দুই চোখের পাতা বুজে আসতে চাইলেও গত রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা স্মরণ করে….