গোলাপের রাজতোরণ (পর্ব-৬)

বুলবুল সরওয়ার

একটি মন্দিরও আছে এক পাশে—নাম কাল-ভৈরব। আশ্চর্য এই দেবতা—হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন—তিন ধর্মের দ্বারাই পূজিত। তার মূর্তিটাও বেশ ব্যক্তিক্রমী—পুরুষের পুরো জননযন্ত্র সবিস্তারে খোদিত। দেখেই আপা ঝট করে কাপড়ে মুখ ঢেকে সাথীকে সরিয়ে নিয়ে গেলেন অন্যদিকে। আর প্রতিক্রিয়ায় যা ঘটলো—তাতে আমি বিস্ময়ে হতভম্ব। সবুজ আকস্মিকভাবে প্রশ্ন করে বসে: মামা, এত ছোট পুরুষাঙ্গ দিয়ে এসব দেবতারা কিভাবে সন্তান জন্ম দিত? আমরা বইয়ে পড়েছি—ওটা পাঁচ ইঞ্চির কম হলে ‘দায়িত্ব’ পালন করতে পারে না। তাহলে ব্যাপারটি অবৈজ্ঞানিক হয়ে গেল না? অতীতের লোকেরাও কি তবে আমাদের মত মিথ্যাবাদী ছিল?
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

কিন্তু আপা হয়ে উঠলেন মারমুখী—চুপ, এক্কবারে চুপ! আর একটি কথাও বলবি না, বুঝলি? নইলে দাঁত ফেলে দেব…।
আমি তার মাকে কি-করে বুঝাই যে ছেলে এখন এমন একটা আন্তর্জাতিক ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুলে পড়ে—যেখানে কোরানের পাশাপাশি শরীর বিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যাও পড়ানো হয়। এই ছেলেকে ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীর গল্প দিয়ে বুঝিয়ে রাখার চেষ্টা হবে আত্মঘাতি—আপা।
কিন্তু আমি তার রক্তচক্ষু ও চন্ডাল মূর্তীর সামনে কিছুই বলতে পারলাম না।
মানুষ এরকম ভুল করেই সন্তানদের বিপথগামী হতে বাধ্য করে। কাজী আনোয়ার হোসেন নিজের ছেলেকে লক্ষ্য করে একটা বই রিখেছিলেন- যৌনবিজ্ঞান। ভয়ে তিনি ছদ্মনাম নিয়েছিলেন—বিদ্যুত মিত্র। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমনই—মানুষকে আমরা সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে দেই না!

সবুজ আকস্মিকভাবে প্রশ্ন করে বসে: মামা, এত ছোট পুরুষাঙ্গ দিয়ে এসব দেবতারা কিভাবে সন্তান জন্ম দিত? আমরা বইয়ে পড়েছি—ওটা পাঁচ ইঞ্চির কম হলে ‘দায়িত্ব’ পালন করতে পারে না। তাহলে ব্যাপারটি অবৈজ্ঞানিক হয়ে গেল না? অতীতের লোকেরাও কি তবে আমাদের মত মিথ্যাবাদী ছিল?
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

সামনের উঁচু পাহাড় থেকে পানি এনে এই ফোর্টের ভুগর্ভস্ত ট্যাংক ও পুকুরে জমা রাখা হত—সে সম্পর্কে জনশ্রুতি ছিল যে—সেই পানির ট্যাংকের নিচে—অনেক হিরা-জহরত লুকিয়ে রেখে গেছেন প্রাচীন রাজারা। দুষ্ট এক মন্ত্রনাদাতা জরুরী অবস্থার (১৯৭৫-১৯৭৭) সময়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর কানে তোলেন এই গুজব। অক্সফোর্ড পড়াশুনা করা এই বিশ্বনেত্রী তখন স্বৈরাচারের চূড়ান্ত অবস্থায়। তিনি হুকুম দিলেন—ভেতরটা খুঁড়ে দেখ। মিলিটারী এলো, প্রশ্নতাত্ত্বিকরা জড় হলো, সাংবাদিকদের তো কথাই নেই। কিন্তু মিললো না কিছুই। শুধু অশিল্পীর হাতে নষ্ট হলো প্রাচীন কিছু ঐতিহ্যিক নির্মাণ। কিন্তু শ্রীমতি তাতে দমলেন না। এরপর পাঠালেন সিবিআই এবং ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টকে অত্যাধুনিক ‘সোনার’ ইকুইপমেন্ট সহ—যা ব্যবহার করে নৌবাহিনী। অদম্য তার গুপ্তধনের মোহ!
কিভাবে সম্ভব, মামা?

পার্লামেন্ট নেই, তাই প্রশ্ন তোলারও কেউ ছিল না বলেই সম্ভব হয়ে ছিল, মামা।
ইন্দিরার মত দক্ষ রাজনীতিবিদ এটা কেন করল, শালা বাবু—ইন্দিরার অন্ধ-ভক্ত দুলাভাই আহত কণ্ঠে জানতে চান।
প্রতিশোধ মানুষকে অন্ধ করে দেয়, দুলাভাই। আর তার ফলাফল যে সর্বত্রই করুণ—তাও তো আমরা দেখেছি—১৯৭৫-৭৫এ; ’৮৪তে—তাই না।
আরে, প্যাচাল ছেড়ে আসল ঘটনাটা বলো—।
জয়পুরের রাণীসা গায়ত্রী দেবীকে জেলাস করতেন ইন্দিরা। তিনি কিন্তু আমাদের বাংলার, মানে কুচবিহারের মেয়ে। আব্বাস উদ্দীনের পিসতুতো বোনও বলতে পারেন।
মারবো এক থাপ্পর—শালা রাজাকার। দুলাভাই, সত্যি সত্যি রেগে গেলেন।
আচ্ছ-আচ্ছা, বলছি। গায়ত্রী দেবী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬২তে তিনি (রাজস্থানে) এত বেশি ভোট পেয়েছিলেন যে—গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার নাম তালিকাভুক্ত হয়। দেখতেও অপরূপা এই রাজকন্যা ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সে শিক্ষালাভ করেছিলেন। চেহারাও দুজনের বিশ্বসুন্দরী-মার্কা—তাই নিরব-দ্বন্দ্ব জারীই থাকলো।

শ্রীমতি গান্ধী ও তার-কংগ্রেস অনেক চেষ্টা করেও রানীমা-কে দলে ভিড়াতে পারেন নি। স্বতন্ত্র থেকেও তিনি বিপুল ভোটে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত যখন তার স্বামী দ্বিতীয় জয় সিংকে স্পেনের রাষ্ট্রদূত হওয়ার শর্ত দেন শ্রীমতি গান্ধী (—বিনিময়ে রাজমাতাকে হয় কংগ্রেসে যোগ দিতে হবে; না হয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে) তখনই দ্বন্দ্বটা বিশ্ব-প্রেসের বিষয়বস্তু হয়।
প্রতিরোধ নিতেই জরুরী অবস্থায় (১৯৭৭) শ্রীমতি-গান্ধী গায়ত্রী দেবীকে বন্দী করে পাঁচ-মাস কুখ্যাত ‘তিহার-জেলে’ ফেলে রাখেন এবং তার সুবিখ্যাত আত্মজীবনী (—‘এ প্রিন্সেস মেমোয়ার্স’) বাজেয়াপ্ত করেন। এবং তাকে ট্যাক্স-ফাঁকির অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর হয়ে সিবিআইয়ের উপর অন্যায় প্রভাব খাটান। শ্রীমতি গান্ধী গায়ত্রী-দেবীর হাত থেকে এই জয়গড় দুর্গও ছিনিয়ে নিতে নানা ‘কান্ড’ করেন।
তুমি কিভাবে এটা জানলা?— আপা হঠাৎ চ্যালেঞ্জ করে বসেন।

কাল-ভৈরব। ছবি: chandrasekaran

বই পড়ে, পত্রিকা দেখে, এনসোইক্লোপিডিয়ায় চোখ রেখে—আম্মু; জ্ঞানের রাস্তা তো তিনটাই। আর জানোই তো—মামা তিন জাহাজেই বিশ্ব ঘুরে বেড়ান—সবুজ আমার পক্ষ নিয়ে মাকে সরিয়ে দেয়।
তুই কিভাবে জানলি—বান্ধর? আপা হার না-মানা গলায় হেঁকে ওঠেন।
কেন জানবো না, বলো?—আমাকে মাদ্রাজের ‘ক্রিসেন্ট’ স্কুলে কে ভর্তি দিয়েছে—মামা না?
না, সেটা করিয়েছেন, কলকাতার হাসান ভাই।
সে-কি তোমার নিজের ভাই, না-কি মামার বন্ধু বলে তোমার ভাই?
ছেলের প্রশ্নে আপা বিব্রত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে নেনন।
আরে আমার সঞ্জয়-গান্ধী—থাম তো! দুলাভাই চাটি মারেন ছেলের মাথায়।

 

আমরা ‘ভ্রমণ’ শেষ করে নিচে নামতে শুরু করি। আপা হঠাৎই দুলাভাইকে বলেন—আমাকে পাঁচশো ডলার দাও, এখুনি।
কেন? দুলাভাই আৎকে ওঠেন।
আমি ‘রজাই’ কিনবো।
সেটা আবার কি?
পাতলা লেপ। রাজস্থানের গৌরব! দাও—।
তোমার কাছে তো টাকা আছে—তাই দিয়ে কেন।
না, তুমি দেবে।
আমরা তিন জন: মামা-ভাগনে-ভাগনি ভয়ে চুপ করে আছি। ঝগড়া যখন প্রায় হাতাহাতির উপক্রম—ড্রাইভার তীব্র ব্রেকে গাড়ি থামিয়ে বললো—আপ লোক, গাড়ি সে উতারো। নিকাল যাও—আভি-আভি। হাম নেহি যায়েঙ্গে।
ব্যাটার চোখের দৃষ্টিতে এমন আগুন—আমরা ভয়েই নেমে এলাম।
কোনো ভাড়া না-নিয়েই ড্রাইভার চলে গেল। —অদ্ভুত!

মানুষ এরকম ভুল করেই সন্তানদের বিপথগামী হতে বাধ্য করে। কাজী আনোয়ার হোসেন নিজের ছেলেকে লক্ষ্য করে একটা বই রিখেছিলেন- যৌনবিজ্ঞান। ভয়ে তিনি ছদ্মনাম নিয়েছিলেন—বিদ্যুত মিত্র। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমনই—মানুষকে আমরা সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে দেই না!

ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকে ভাবছি—কি করি? সাথী লাফিয়ে উঠে বললো: মামা, ঐ তো জলমহল—চলো ওখানে ঘুরে আসি? আম্মু-আব্বু থাকুক তাদের ডলার-রজাই নিয়ে।
চল—যাই। বলে পা বাড়ালাম সামনে।
আপা হুংকার দিয়ে উঠলেন: আমার ছেলেমেয়েদের ডুবিয়ে মারার ফন্দি, তাই না? জানিস না, ওরা সাঁতার জানে না?
আমি দাঁড়ালাম। সবুজ ফিস ফিস করে বললো: পেছনে তাকিয়ে দেখ একবার—তোমার বোন দেখি ঠিক ইন্দিরা গান্ধীর মত—হিংস্র এবং প্রতিহিংসা পরায়ন!
আর, তোর বাপ—?
খলিফা হারুন রশিদের দেহরক্ষী মাসরুর। বলেই সে ফিক ফিক করে হাসে আর বলে: মারামারি দেখতে খুব ভালো লাগে, মামা। যতটুকু টিভি দেখার সুযোগ পাই—ডব্লিউ-ডব্লিউ-এফেই থাকি!
আমি মনে মনে সবুজকে ‘চিয়ার্স’-জানিয়ে নতুন টেক্সি দাড় করাবার জন্য রাস্তার উল্টো পাড়ে এসে দাঁড়াই এবং হাত তুলে বলি: বড় হলে কি হবি জানি না, তবে এখন আমি তোর ভক্ত। প্রায় সব কথাই ভালো লাগে, মেনেও নেই।
সবুজ হেসে বলে—এতো মেনে নিলে তোমার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, মামা—সাবধান!
কেন রে, পুচকা—মেনে নিলেই অসুখ হবে ক্যান?

কারণ, তখন আমি তোমাকেও ক্ষমাশীল মেনে নিয়ে আম্মুকে বলে দেব, তুমি বোম্বে কেন গেছিলা! সহ্য করতে পারবা?
আমি হতভম্ব হবারও সুযোগ পাই না—একটা ক্যাব এসে দাঁড়ায় পাশে। সবুজ তার বদমায়েশী চোখ ঘুরিয়ে বলে: তুমি খুব ভালো, মামা। নিজের কথা না-ভেবে সবার কথাই মেনে নাও। এভাবে কি জীবন চলে?
আমি এতটুকুন ছেলের এই দার্শনিকতায় মুগ্ধ হয়ে ভাবি—ও এখনই এত বুদ্ধিমান—আর ওর বাবা-মা এখনো কতটা অবুঝ!
স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া তখনো থামেনি। দুজনেই টাগ-অফ-ওয়ারে আছেন পাঁচশো ডলার-নোট দুদিক-ধরে। সবুজ বাঁদরামী কন্ঠে বলে ওঠে—আমি তো মামাকে বললামই, মেনে নাও। না মানলে, ড্রাইভার আবারও আমাদেরকে পথেই নামিয়ে দেবে।
কথাটা মেনে নিয়ে দুলাভাই কাঁদো-কাঁদো কন্ঠে বললেন—আচ্ছা, যা—মেনেই নিলাম। তাসনীম, এই নাও পাঁচ শো ডলার—এবং আল্লাহর ওয়াস্তে থামো।
সবুজ বদমাশের মত আমার পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বলে: আমার একশো রুপী কই, মামা?
কিসের একশো?
বললাম না, মেনে নাও; নইলে—
আমি তাড়াতাড়ি মানি-ব্যাগ বের করে বললাম: তোর ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবার দরকার নেই, সবুজ—তুই বরং ডাকাতী-বিদ্যা পড়!
তাই পড়—তবু, বাপের মত কৃপন হসনে যেন, বুঝলি? মামাদের মত উদারতা শেখ। আপা মৃদু হেসে ড্রাইভারের কাঁধে টোকা দিয়ে বললেন: সিংজী, নিচা বাজার পর চলিয়ে—আচ্ছে রজাই-কি দোকান মে!
ওকে, ম্যাম—বলেই সিংজী স্টার্টারে চাপ দিয়ে প্রবল গিয়ার তুললো। প্রচন্ড কর্কশ শব্দে আৎকে উঠে মনে মনে বললাম, কপাল—আজ দেখি সর্বত্রই ‘জয়ভানা’!

সমাপ্ত

* বুলবুল সরওয়ারের ধারাবাহিক ভ্রমণকাহিনী- ‘মহাভারতের পথে’র ‘গোলাপের রাজতোরণ’ পর্ব এখানেই সমাপ্ত হলো। শীঘ্রই শুরু হবে পরবর্তী পর্ব- ‘অচেনা আওরঙ্গজেব’। 

আরো পড়তে পারেন

নদীজলে মাছশিকার ও পতঙ্গ-মিথুনের অলোকচিত্র

শ্যানানডোয়া নদীটির বাঁকানো রেখাকে নিশানা করে অনেকক্ষণ হলো হাইক করছি। রূপালি জলের বঙ্কিম অবয়ব ছোট ছোট হতে হতে এমন আকার ধারন করেছে যে- স্রোতের এ স্বচ্ছ সলীলা শরীরকে এখন অস্ট্রেলিয়ার আদীবাসীদের হাতিয়ার বুমেরাং এর মতো দেখাচ্ছে। আজকের হাইকে কেন জানি খুব অস্বস্তি হচ্ছে। তাই দ্রুত বেগে হাঁটি। কোন দিকে যাচ্ছি ঠিক বুঝতে পারি না। আবার….

কফি হাউজের আড্ডাটা আজ আর নেই

বাংলা গানের প্রখ্যাত গীতিকবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা এবং মান্না দে’র গাওয়া শিরোনামের জনপ্রিয় গানটির কল্যাণে কলকাতার কলেজ স্ট্রীটের কফি হাউজের নাম-পরিচয় এবং কফি হাউজ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেয়েছিল বাংলাভাষী দুই বাংলার মানুষ। কলকাতার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় কফি হাউজের গুরুত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কে উচ্চ ধারণাই জন্মেছিল জনমনে। বাস্তবে আশির দশক পর্যন্ত কফি হাউজ….

সোয়াজিল্যান্ডের হাউস অন ফায়ার ও সেক্স অফেন্ডার

আমার আজকে কোন কিছু করার কোন তাড়া নেই, তাই অনেকটা সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে হাউস অন ফায়ারের দেয়ালটি দেখি। এর কেল্লার মতো করে স্থানীয় স্থপতি ও কলাকারদের হাতে গড়ার কায়দা দেখে ওয়ালটিকে বরং প্রাচীর বলাই সঙ্গত। তার গায়ে নতশীর হয়ে কতগুলো মূর্তি গভীর চিন্তায় মগ্ন। অর্ধভগ্ন হয়ে কয়েকটি প্রতিমা খামোকা ছড়িয়ে আছে আঙ্গিনায় স্রেফ ভাস্করের….